শিরোনাম :

সাংবাদিকতা: প্রস্তুত নারী, সমাজ প্রস্তুত তো?


সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ০১:২৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সাংবাদিকতা: প্রস্তুত নারী, সমাজ প্রস্তুত তো?

বাই নেচার, সাংবাদিকতা একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা। কাজেই নারী-পুরুষ উভয়কেই সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হয়। তবে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাংবাদিকতায় এমন অনেক চ্যালেঞ্জ আছে যা কেবল নারী সাংবাদিকদের মোকাবেলা করতে হয়। ইতিহাস বলে, এই কয়দিন আগেও বিশে^ সাংবাদিকতা পেশা কেবলমাত্র পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সামাজিকভাবে কোথাও কোথাও আইন করে নারীর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। নৈতিকতার প্রশ্ন তুলে নারীদের নিরুৎসাহিত করা হত। কিন্তু সাহসী ও লক্ষে অবিচল নারীদের দমিয়ে রাখা যায় নি। এত বাধা সত্বেও ১৯৮০-এর দশকে কিংবা তারও কিছুকাল আগে থেকে নারীদের সম্পাদক, প্রতিবেদক, ফিচার লেখক হিসেবে কাজ করতে দেখা গেছে। এমনকি যুদ্ধময়দান থেকেও রিপোর্ট করেছে নারী সংবাদকর্মীরা। এরপর বিশে^র গণমাধ্যমে নারীদের যে উত্থান ঘটেছে, তা আজ কেবলই ইতিহাস মাত্র। নারীর এই নবযাত্রার ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে মিডিয়া বিপ্লব আর সাংবাদিকতায় নারীর স্বকীয় উপস্থাপন একই সূত্রে গাথা। বাংলাদেশে সম্পাদক-প্রকাশক হিসেবে যেমন নারীরা কাজ করছেন, তেমন সংবাদ সম্পাদনা, পরিবেশন, প্রতিবেদন তৈরি, ফটো-জার্নালিজম এমন প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়ায় সংবাদের প্রতিটি স্তরে নারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মজার ব্যাপার হল, কয়দিন আগে যেখানে এই পেশা নারীদের উপযুক্ত নয় বলে ভাবা হত, সেখানে বর্তমানে উল্টো বলা হচ্ছে, সাংবাদিকতায় হল নারীদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পেশা। কারণ, আবারো বলতে হচ্ছে, বাই নেচার, নারীরা সত্যনিষ্ঠ ও অন্তর্মুখী চেতনার হয়। ফলে কোনোরকম বায়াজড না হয়ে বিষয়কে ভেতর থেকে দেখতে পারে। যার উদাহরণ আমরা শুধু বিশ^গণমাধ্যম নয়, বাংলাদেশেও পাবো। আজ বস্তুনিষ্ঠ কাজের জন্য বেশ কয়েকজন নারী সাংবাদিকের নাম মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। এতক্ষণ যা শোনালাম সে-সবই আশার কথা। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, শর্ষের মাঝেও ভুত থাকে। কখনো কখনো সেটি এমন হয় যে মনে হয়, ভুতের মাঝেই বুঝি শর্ষ আছে! প্রতিদিন সাংবাদিকতায় নতুন নতুন নারীরা যেমন নাম লেখাচ্ছেন, তেমন ঝরেও যাচ্ছেন অনেকেই। কারণ? একটা ছোট্ট পরিসংখ্যান দিই, পরিস্কার হয়ে যাবে। গতবছর বিশে^র বেশকিছু সংবাদমাধ্যমে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, তিনভাগের দু’ভাগ নারী সাংবাদিকই কর্মক্ষেত্রে যৌনহয়রানী ও যৌননির্যাতনের শিকার হন। জরিপটি পরিচালনা করে যৌথভাবে ওয়াশিংটন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উইমেন্স মিডিয়া ফাউন্ডেশন ও লন্ডনভিত্তিক নিউজ সেফটি ইনস্টিটিউট। অস্ট্রলিয়া সরকারে অর্থায়নে এবং ইউনেস্কোর তত্ববধানে এটি পরিচালিত হয়। এখানে বলা হচ্ছে, নারী সাংবাদিকরা বস, সহকর্মী এবং মাঠপর্যায়ে কাজের সময় সাধারণ জনগণের মাধ্যমে যৌননির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। সেখানে আরো বলা হয়, বেশিরভাগ নারী নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি চাকরি হারানোর ভয়ে কিংবা সম্মানহানী হবে ভেবে বিষয়টি চেপে রাখেন। জরিপে অংশ নেয়া নারীরা শিকার করেন যে, এতে তারা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। বাংলাদেশে এই প্রেক্ষাপট যে অভিন্ন নয়, সেটি আমাদের সকলেরই জানা। সাথে যেটি যুক্ত হয় সেটি হল, ক্ষেত্রবিশেষ পারশ্রমিক বৈষম্য, অবমূল্যায়ন, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশের অনুপস্থিতি। আর অফিসের বাইরে, নারী সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত সহ্য করতে হয় রিকশা চালক থেকে শুরু করে পুলিশের পর্যন্ত হেনস্থামূলক আচরণ। অর্থাৎ পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত নারী। কিন্তু নারীকে গ্রহণ করার জন্যে এখনো প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেনি সমাজ। সমাজের স্বার্থেই সমাজকে প্রস্তুত হতে হবে। মোজাফফর হোসেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমজে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন