শিরোনাম :

সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে: মির্জা ফখরুল


রবিবার, ৩০ জুলাই ২০১৭, ০৬:০৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক প্রতিবেদন: খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে সরকার ‘অলিক কল্পকাহিনী’ প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

তিনি বলেন, কোনো দেশ বা ব্যক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্র করার প্রয়োজন হয় না দলীয় প্রধানের।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশনেত্রী লন্ডন যাওয়ার কয়েকদিন পরেই তারা শুরু করেছে নতুন একটা ভাঙা রেকর্ড, সেই রেকর্ডে তারা লন্ডনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পেলেন এবং সেই পুরনো কথা আবার বলতে শুরু করেছেন যে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার আইএসআইয়ের প্রতিনিধি ও জামায়াতের প্রতিনিধির সঙ্গে তথাকথিত একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা।

যেটা আপনারা ইতিমধ্যে জানেন যে, সম্পূর্ণ তৈরি করা একটি সাজানো ছবি অনলাইনে প্রকাশ হয়েছে যেটার ওপর ভিত্তি করে এই মিথ্যা-বানোয়াট তথ্যটি প্রচার করা হচ্ছে।”

চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য বিএনপি প্রধান গত ১৫ জুলাই লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এক অনুষ্ঠানে বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন ‘ভণ্ডুল করে অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র’ করছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিএনপির জয়লাভের জন্য বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হবার জন্যে ষড়যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের চক্রান্তেরও প্রয়োজন হয় না।”

‘খালেদা জিয়ার লন্ডন ষড়যন্ত্র’- শিরোনামে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে নেত্রী গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে চলেছেন নিরলসভাবে এবং আজকে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট নিরসন করতে যিনি কাজ করে চলেছেন, চেষ্টা করে চলেছেন, তার সম্পর্কে যখন পত্রিকার কেউ এটা নিয়ে লেখেন, কথা বলেন বা অনলাইনে লেখেন তা যদি ভিত্তিহীন হয়, বানোয়াট হয়, তাহলে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ফখরুল বলেন, “তার চোখের একটা অপারেশন হবে খুব শিগগিরই। আপনারা জানেন, চোখের অপারেশনে কিছু সময় দরকার হয়, সেই কাজগুলো চলছে। তার হাঁটুর চিকিৎসা হবে যেটা তার সমস্যা রয়েছে।”

খালেদা জিয়ার কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটা বলা মুশকিল এজন্য যে, তার চিকিৎসা নির্ভর করছে চিকিৎসকের পরামর্শের ওপরে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতান্ত্রিকভাবে সব সময় আমরা আমাদের কাজগুলো করার চেষ্টা করছি। আমরা গণতান্ত্রিক সব প্রক্রিয়াগুলো কাজে লাগাতে চাই। আমরা আন্তরিকভাবে চাই যে দেশে একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে আসুক, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের রায় প্রতিফলিত হোক।

“আমরা এটাও জানি যে, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া অত্যন্ত কঠিন, দুরূহ ও অসম্ভব ব্যাপার। সেজন্য আমরা বার বার বলছি, এখানে একটা সহায়ক সরকারের অধীনে সেই নির্বাচনটা হতে হবে।”

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আমাদের মতামত স্পষ্ট করে বলেছি। সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যিনি রয়েছেন তিনি কোনো মতেই নিরপেক্ষ নন, তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অতীতে সদস্য ছিলেন, সমর্থক হিসেবে তাকে আমরা জানি। নির্বাচন কমিশনের গঠনটাকেও আমরা সেভাবে মেনে নেইনি। তারপরেও এই নির্বাচন কমিশনে আমাদের প্রতিনিধি গেছেন, আমরা যাচ্ছি।”

সংবাদ সম্মেলন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সঞ্জীব চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মাহবুবুল হক নান্নু, মুনির হোসেন, আবদুল আউয়াল খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন