শিরোনাম :

নগরপিতা ঠিক করছেন নগরবাসী


মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নগরপিতা ঠিক করছেন নগরবাসী

খুলনা: প্রথমবারের মতো দলীয় মার্কায় সিল দিয়ে সিটি করপোরেশনের নতুন নগরপিতা ঠিক করছেন খুলনার চার লাখ ৯৩ হাজার ভোটার।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে এ সিটি করপোরেশনের ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে একযোগে ভোট শুরু হয়েছে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাত মাস আগে এ নির্বাচনকে ঘিরে সব মহলের নজর এখন খুলনায়। এর আগে সোমবার নির্বাচনী মালামাল সব ভোট কেন্দ্রে পৌঁছায়। সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রার্থী, ভোটার ও ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৯ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সোমবার রাতে বিভিন্ন কেন্দ্রে সরেজমিন ঘুরে খোঁজখবর নিয়েছেন ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারা।

তবে নির্বাচন ঘিরে এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিলেও রয়েছে একরকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নির্বিঘেœ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। আবারও অনেকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে এ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে।

এদিকে যে কোনো মূল্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ করতে রিটার্নিং ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক ও বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মধ্যেই।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয় পেতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুটি দলই ভোট গ্রহণের সময়ে মাঠে থাকার পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে নানা কৌশল নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

এরই অংশ হিসেবে ভোট কেন্দ্রের বাইরে ও সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দলটি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের খণ্ড খণ্ড ভাবে অবস্থান নিতে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতের যেসব নেতা মামলার আসামি, তারা কেন্দ্রে গেলে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বিরোধী দলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোনো ধরনের সহিংসতায় যাতে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে তাদের।

এছাড়া নগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা থানাধীন ভোট কেন্দ্রের ওপর বিশেষ নজর রাখছে ক্ষমতাসীনরা। এসব এলাকায় বিএনপির ভোটার বেশি। অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সম্মিলিতভাবে মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে দলটি।

বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া নির্বাচনে যাতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে সেজন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে বলা হয়েছে মাঠ নেতাদের।

মেয়র ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের যে কোনো মূল্যে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। এছাড়া জামায়াত নেতাকর্মীরা যাতে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকেন, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে বিএনপি।

দু’দলের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালে খুলনা সিটি নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে ৬০ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক।

যদিও ওই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার তালুকদার আবদুল খালেকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী এসএম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে বলেছি।

ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেজন্য সহযোগিতা করতে বলেছি। পাশাপাশি নেতাকর্মীরা সংঘাতে জড়িয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে তার দায়-দায়িত্ব নিতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছি।

বিএনপির মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন, পোলিং এজেন্টরা সময়মত কেন্দ্রে চলে যাবে। স্ব স্ব ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা সকাল সাড়ে ৭টার আগেই কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করবে।

সকাল ৮টায় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য বলা হয়েছে।

ভোট কেন্দ্রে কোন কারচুপি হলে তা প্রতিহত করবে জনগণ। তবে ভোটের ফলাফল না নিয়ে আসা পর্যন্ত কেন্দ্রের আশেপাশে কর্মীদের থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সোনাডাঙ্গা ও সদর থানার আওতাধীন টকেন্দ্রেগুলোর দিকেই তাদের বেশি নজর থাকবে। এ দুটি থানায় ২০১৩ সালে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়েছিল। পক্ষান্তর আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৬৮৩ ভোট।

বিএনপির তুলনায় আওয়ামী লীগ প্রায় ৪৭ হাজার ভোট কম পেয়েছিল। এছাড়া এ দুটি থানা নিয়ে খুলনা-২ আসন গঠিত। এ আসনে ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

এবারও এ দুটি আসনে বিএনপি ভোট বেশি যাতে না পায়, সেই কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আরেক নেতা জানান, এ দুটি থানাধীন এলাকার ২৫, ২৭ ও ৩১ এ তিনটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়, সেজন্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালাবে।

বিশেষ করে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ হাজার ভোটার রয়েছে। এ ওয়ার্ডে বাগেরহাট, মোড়েলগঞ্জ ও বরিশাল এলাকার বাসিন্দা বেশি রয়েছে। তাদের ভোট পেতে চায় আ’লীগ। অপরদিকে দৌলতপুর-খালিশপুর এলাকায় ভাসমান ভোটারের সংখ্যা বেশি।

গত নির্বাচনে বিএনপি ৬৬ হাজার ৬৫৭ ভোট পেয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৫২ হাজার ৭৪১ ভোট। এবার ওই হিসাব পাল্টে যাবে বলে মনে করছেন নেতারা। এসব ভোট পেতে তাদেরকে কেন্দ্রে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে দলটির নেতাকর্মীরা।

এর বাইরে ৭, ১০, ২৬, ২৮ ও ৩০ ওয়ার্ডে বিপুল ভোটের ব্যবধনে আওয়ামী লীগ জয় পাবে বলে আশা করেন দলটির নেতারা।

অপরদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির এজেন্টদের সকালেই বিশেষ পাহারায় কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। যেসব ভোটকেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীর এজেন্টরা ঢুকতে পারবে না, সেসব ওয়ার্ডে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্টদের ব্যবহার করবে।

দলটির একাধিক নেতা জানান, স্থানীয়ভাবে কাউন্সিলর প্রার্থীরা শক্তিশালী। তাদের এজেন্টরা যেন মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন- সেভাবে এজেন্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন মহানগর নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে মেয়র প্রার্থী মঞ্জু গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। কয়েকজন আ’লীগ নেতা তাদের ‘নিয়ন্ত্রিত’ কেন্দ্রে ভোট শান্তিপূর্ণ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের ৫০-৫৫ হাজার ভোটার রয়েছে।

এসব ভোট পেতে জামায়াতকে ৫টি যথা ১, ৩, ১২, ১৯ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে জামায়াতের প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন। দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থীকে জয়ী করতে এসব ওয়ার্ডে জামায়াত সক্রিয় থাকবে। তারা বিএনপিকে ভোট দেবে বলেও আশা করছে দলটি।

তবে দুই দলের কৌশল যাই হোক না কেন- খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সুষ্টু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নগরীর দৌলতপুর থানার ৪নং ওয়ার্ডেও বাসিন্দা নূরনাহার বেগম বলেন, ভোট দেওয়ার বিষয়ে আতংক তো আছেই।

কেন্দ্রে কোন ঝামেলা বা মারামারি হতে পারে- এমনটি শুনেছি লোকজনের মুখে। তাই সকালের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে ভোট কেন্দ্রে যাব কি না। নগরীর ১০নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ডালিয়া সুলতানা বলেন, ভোট আসলেই ভাল লাগে।

তবে যদি সেটা সুষ্ঠু পরিবেশে হয়। আমরা সাধারণ মানুষ পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে চাই। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রে কোন ধরণের হট্টগোলের খবর রটলে অনেকেই কেন্দ্রে যাবে না। তবে দীর্ঘদিন পর কেসিসিতে সুষ্ঠু ভোট হবে - এই প্রত্যাশা সকলের।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ২৮নং ওয়ার্ডের ভোটার কানিজ ফাতেমা বলেন, ভোট দিতে চাই। কিন্তু পরিবেশের কি হবে বুঝতেছি না। ধরপাকড় চলছে বলে শুনেছি। পাশাপাশি নগরীতে আইনশৃংখলা বাহিনীরও অবস্থান রয়েছে। সব মিলে আতংক ও উত্তেজনা দুটোই কাজ করছে।

তবে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অনেকেই। তাদের মতে, নির্বাচনে উৎসব বিরাজ করছে।। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ১৫নং ওয়ার্ডের ভোটার মুস্তাফা শাহরিয়ার তমাল বলেন, আমি এবার প্রথম ভোট দিব। তাই ভোট দেওয়া নিয়ে আগ্রহ অনেক।

মনের মধ্যে উৎসব উৎসব ভাব লাগছে। ভোট কেন্দ্রে কি করে ভোট দিব এই অপেক্ষায় আছি। ভোট দেওয়ার বিষয়ে কোন ধরণের আতংক নেই।

সুষ্ঠু ভোটের নির্দেশনা ইসিরঃ ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যেকোনো মূল্যে খুলনা সিটি নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

সোমবার সিইসি কে এম নূরুল হুদা ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এ নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনা অনুযায়ি সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক টিমের প্রধান সমন্বয়কারী আবদুল বাতেন বলেন, ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট ও ব্যালট বক্স পরীক্ষা করেছি। ভোটের দিন কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা হলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে।

একনজরে ভোটের তথ্য : এবার খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডে ১৪৮ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৮ জন নারী কাউন্সিলরসহ ১৯১ জন প্রার্থী রয়েছেন। যদিও প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারের মাঝপথে তিন কাউন্সিলর প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ নগরীতে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি ও ভোটকক্ষ ১ হাজার ৫৬১ জন। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

তিন স্তরের নিরাপত্তা : খুলনা সিটি নির্বাচনে সাড়ে নয় হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি সোনালী সেন। তিনি বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

জানা গেছে, ভোটের দিন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশের ৩ হাজার ৪৩৭ জন, ব্যাটালিয়ন আনসারের ৮১৯ জন, অঙ্গীভূত আনসার ৪ হাজার ৪৬ জন, এপিবিএন ৩০০ জন, বিজিবি ৫১২ জন ও র‌্যাবের ২৬৪ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ২৩৪টি ভোট কেন্দ্রের পাহারায় ২৪ জন সদস্য থাকছেন। এছাড়া সাধারণ ভোট কেন্দ্রের পাহারায় ২২ জন রাখা হয়েছে। প্রতি ৪-৫টি কেন্দ্রের জন্য একটি মোবাইল টিম মাঠে থাকছে।

ভোট কেন্দ্রের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ১২টি স্ট্যাটিক পয়েন্ট (পিকেট) চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটারদের যাতায়াতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেসব ভোট কেন্দ্রে গাড়ি যাতায়াতের পথ সুগম নয়, সেখানে মোটরসাইকেলে মোবাইল টিম থাকবে।

৫ কেন্দ্র ও ওয়ার্ডে ইভিএম ও সিসি ক্যামেরা : ভোটার সচেতন এবং শিক্ষিত ও শহরকেন্দ্রিক ২৪ ও ২৭নং ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট নেয়া হবে।

আর ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিবেচনায় সিটির ৩টি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার সহায়তায় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন, যার মধ্যে বিএল কলেজ কেন্দ্র, পিটিআই কেন্দ্র এবং পাইওনিয়র কলেজ কেন্দ্র। ভোটারদের গতিবিধি ও ভোট গ্রহণ কার্যক্রম ওই ক্যামেরার সাহায্যে অবলোকন করবেন কমিশন। এসব প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য আইটি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে।

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা প্রায় ৫ হাজার : এ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার (ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ২৮৯ জন, প্রতিটি কক্ষে ১ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে ১৫৬১ জন এবং প্রতিটি কক্ষে দুইজন পোলিং অফিসার হিসেবে ৩১২২ জন। ভোটার শনাক্ত এবং ব্যালট দিয়ে ভোট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এসব কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন