শিরোনাম :

নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস: ফখরুল


মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮, ১১:১৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস: ফখরুল

ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।

মঙ্গলবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণে তারা সেটা প্রমাণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতার কারণে কেন্দ্র দখল, জালভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের সমর্থনে পুলিশের হামলায় বিএনপি কর্মীরা দাঁড়াতেই পারেনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা চেয়েও বিএনপি কোনো সহযোগিতা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। খুলনা সিটি নির্বাচনে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এই সরকার ও ইসির অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। তাই জনগণের দাবি, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নাহলে কোনো অবস্থাতেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না।

তিনি বলেন, খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। জনগণ ও বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন।

ফখরুল বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকার পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপি কর্মীদের কেন্দ্রের আশপাশে দাঁড়াতে দেয়নি। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। ব্যালট বাপ ভর্তি করেছে। এই হলো আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ও চমৎকার নির্বাচন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনে সরকার পুলিশকে বিরোধী দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশ দায়িত্ব নিয়ে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হয়েছে। পুলিশ নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটা বিশেষ রাজনৈতিক দলকে রক্ষা করছে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুপুরের পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হওয়ার পরপরই সিইসিকে ফোন করি। তাকে জানাই, খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। যখন তাকে সংবাদের উৎস বলেছি তখন সিইসি নুরুল হুদা বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। পরে তিনি বলেন, তিনি দেখছেন। এখনও তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরের সিটি নির্বাচনে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তিনি তখনও বলেছেন, দেখছি। তিনি শুধুই 'দেখছেন'।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন