শিরোনাম :

কারাগারেই ঈদ করতে হবে খালেদা জিয়াকে


বৃহস্পতিবার, ৩১ মে ২০১৮, ০১:৫২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কারাগারেই ঈদ করতে হবে খালেদা জিয়াকে

ঢাকা: কুমিল্লার দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল করতে বলেছেন আদালত। ২৪ জুন এ বিষয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

এ কারণে আইনজীবীরা মনে করছেন, ঈদুল ফিতরের আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের আর মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো জেলেই ঈদ করবেন কারাবন্দী খালেদা জিয়া।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী।

গত সোমবার (২৮ মে) সকালে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ কুমিল্লার নাশকতার দুই মামলায় খালেদাকে জামিন দেন। তবে নড়াইলের মানহানির মামলায় আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেওয়া হয়।

পরে দুপুরেই রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে খালেদার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পর চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২৯ মে) দিন ঠিক করেন।

আর মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে খালেদার ছয় মাসের জামিনাদেশ স্থগিত করে বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত।

গত ২০ মে সকালে তিনটি মামলার জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। রোববার (২৭ মে) কুমিল্লায় নাশকতার দুই মামলা ও নড়াইলের মানহানির মামলার ওপর শুনানি শেষ হয়।

বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী নৈশ কোচ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌঁছালে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। বাসে আগুন ধরে ৮ জন যাত্রী পুড়ে মারা যায়।

এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়। মামলা দুটিতে খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ ২টি মামলায় খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের ৭৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

অন্যদিকে নড়াইলের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।

এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারেও বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি। তার এ বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়।

২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে নড়াইলের চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম নামে এক ব্যক্তি এ সংক্রান্ত খবর পড়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে মানহানির মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির অভিযোগের মামলায় খালেদা জিয়াকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ওই মামলায় আপিলের পর খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। যেটি গত ১৭ মে বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

তবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত আরও ছয়টি মামলায় শোন অ্যারেস্ট থাকায় সেগুলোতে জামিন পেতে হবে। জামিন পেলেই কেবল তিনি মুক্তি পেতে পাবেন। এর মধ্যে কুমিল্লায় তিনটি ও নড়াইলে একটি, বাকিগুলো ঢাকার।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন