শিরোনাম :

'গ্রেনেড হামলা বিএনপি-জামায়াত জোট ঘটিয়েছে'


মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ১২:১৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

'গ্রেনেড হামলা বিএনপি-জামায়াত জোট ঘটিয়েছে'

ঢাকা: ক্ষমতায় থেকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা বিএনপি-জামায়াত জোট ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ওই ঘটনায় হত্যাসহ দুটি মামলা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু দিল না। আমরা আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে সমাবেশের আয়োজন করলাম। একজন ফটোগ্রাফার ছবি নিতে চেয়েছিল। ও বলল, আপা, ছবি নিতে পারিনি। এরপর একটার পর একটা গ্রেনেড হামলা চালান হলো।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘হাজার হাজার নেতাকর্মী আমাদের। আমরা তখন বিরোধী দলে। আমরা এমনিতে মিছিল করতে গেলেই পুলিশ ঘিরে থাকত। আমাদের অফিসে ঢুকতেই দিত না, বাধা দিত। সেদিন ছিল উল্টো চিত্র। পুলিশ এ হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।’ প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলার দৃষ্টান্ত কোথাও পৃথিবীর কোথাও নেই বলেও জানান তিনি।

হামলার সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যে ট্রাকে উঠেছিলাম, সেখানে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ট্রাকের কোনায় গ্রেনেড লেগে তা ভেতরে না পড়ে বাইরে পড়ল।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে আমাদের যারা নেতাকর্মীরা ছিল, ঘিরে ছিল। বিশেষ করে হানিফ ভাইয়ের কথা বলতে হয়। সাঈদ খোকন থেকে শুরু করে সকলেই আহত হলো। স্প্লিন্টার ছিটে ছিটে সবার গায়ে লাগল। গাড়িতে যখন ঢুকতে গেছি, তখনই গুলির আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমাদের নিরাপত্তাকর্মী ছিল। পার্টির পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘৫ নম্বর (ধানমণ্ডি ৫) নিয়ে যাওয়া হলো। বাড়িতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চারটি চাকা বসে গেল।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমাদের নেতাকর্মীরা ছুটে এলো। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল তারা। তাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে, টিয়ার শেল মেরেছে। এমন অবস্থার সৃষ্টি করতে চেয়েছিল যাতে হামলাকারীরা চলে যেতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ধরনের ঘ্টনার আলামত সংরক্ষণ করতে হয়। সেগুলো রক্ষা করা হয়নি। তখন সিটি মেয়র (ঢাকা সিটি করপোরেশন) সাদেক হোসেন খোকা। আমি জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আমাদের নেতাকর্মীদের বললাম, তোমরা জায়গাগুলি চিহ্নিত করো। লাল পতাকা দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করা হলো। গ্রেনেড যেটা পাওয়া গেছিল, সেটা রক্ষা করা হয় নাই।’ তিনি বলেন, ‘এক সেনা কর্মকর্তা গ্রেনেডটি সংরক্ষণ করতে চেয়েছিল। তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, তিরস্কার করা হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলা হলো, তাদের (আওয়ামী লীগ) আবার কে মারতে যাবে? তারা সম্পূর্ণ আমাদের ওপর দায় চাপাল। বলল, আওয়ামী লীগ নিজে নিজেই হামলা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এমনকি তারা বলল, ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মা-ভাই সবাই চলে গেছে। আমি নাকি সেভাবেই যাব। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়া তো দূরের কথা, বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবে না। এই কথার অর্থ কী?’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ডিজিএফআইর এক সদস্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে যোগাযোগ করেছিল, বলেছিল এখানে কী হচ্ছে? তাকে ধমক দিয়ে বলল, তোমার এখানে কী কাজ? তুমি সেখান থেকে সরো।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন