শিরোনাম :

না.গঞ্জের 7 মার্ডার মামলা তো দ্রুত বিচার হয়নি: খালেদা জিয়া


বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

না.গঞ্জের 7 মার্ডার মামলা তো দ্রুত বিচার হয়নি: খালেদা জিয়া

ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানির জন্য আগামী বছরের ৩রা জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মামলাটির অন্যতম আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অব্যাহতির আবেদনের ওপর গতকাল আংশিক শুনানি নিয়ে ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মাহমুদুল কবির এ দিন ধার্য করেন।

ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের একটি ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ এজলাসে এ মামলার কার্যক্রম চলছে। দুটি মামলায় ১০ ও ৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত ওই কারাগারের অপর একটি ভবনে। নাইকো মামলায় গতকাল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়।

নির্বাচনের কারণ দর্শিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন জানান খালেদা জিয়া। তিনি আদালতকে বলেন, ‘একপক্ষ নির্বাচনে কাজ করছে আর আমাদেরকে আদালতে আসতে হচ্ছে। যদি আমাদেরকে আদালতেই আটকে রাখা হয়, তবে বলে দিক আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।’ আমাদের মামলাগুলো কেন দ্রুত বিচার করা হচ্ছে? নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলা তো দ্রুত বিচার হয়নি।’

এর আগে এই মামলায় গত ৮ই নভেম্বর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে কারাগারের এই আদালতে হাজির করা হয়। পরে ওই দিন আদালতের কার্যক্রম শেষে আবারো তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গতকাল শুনানির অনেকটা সময়জুড়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্ক ও একে অপরের উদ্দেশ্যে টিপ্পনী কাটেন উভয়পক্ষের আইনজীবীরা। এমনকি বিএনপির চেয়ারপারসনও দুদক আইনজীবীর উদ্দেশ্যে টিপ্পনী কাটেন। নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকবেন- এমন যুক্তি দেখিয়ে আসামিপক্ষ শুনানি পেছানোর আবেদন করলে প্রসিকিউশনপক্ষ তাতে আপত্তি জানান। দুপুর ১২টা বাজার কিছুক্ষণ আগে খালেদা জিয়াকে আদালতের এজলাসে আনা হয়।

১২টার পরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমদ তালুকদার বলেন, এখানে নিরাপত্তার কড়াকড়ি রয়েছে। সিনিয়র আইনজীবীদের দাঁড়ানোর কোনো জায়গা নেই। আদালতে স্থান সংকুলানের বিষয়টি নিয়ে বিচারকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিচারকাজ চলার মতো আদালতের কোনো পরিবেশ নেই। আপনি কি কোনোদিন আদালতে এ ধরনের পরিবেশ দেখেছেন। আমাদের যত খুশি সাজা দেন, ফাঁসি দেন, বিচারকাজের যে ন্যূনতম পরিবেশ সেটি বজায় রাখেন। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে। জেলখানার ভেতরে আদালত বসিয়ে কোনো পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না। এটা তো কোনো হাই সিকিউরিটি মামলা নয়। আপনি আদালতের এই পরিবেশের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন ‘

একপর্যায়ে খালেদা জিয়াও আদালতের পরিবেশ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই একসময় ওই আদালতে (মহানগর দায়রা আদালত) গিয়েছিলাম। সেখানেই তো বিচার চলছিল। এখানে বিচারের কারণ কি? কারাগারের ভেতরে বিচার হয় কীভাবে? আমার আইনজীবীরা বসতে পারছেন না। এভাবে বিচারকাজ চলতে পারে না।’

আদালতের ভেতরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পুলিশ আদালতে সিকিউরিটি দেবে। কিন্তু পুলিশ এত কাছাকাছি অবস্থান নেয় কেন? আদালতে এত বেশি সিকিউরিটি কেন দরকার? আমি তো আইনজীবীদের দেখছি না। আমাদের মামলাগুলো কেন দ্রুত বিচার হচ্ছে। বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। এর আগে দ্রুত বিচার কয়টা হয়েছে? নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলায় তো দ্রুত বিচার হয়নি। কিন্তু কিসের জন্য আমাদের মামলাগুলো দ্রুত বিচার হচ্ছে?’

এ সময় মওদুদ আহমদ ইসির সঙ্গে তার বৈঠক ও আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে শুনানি মুলতবির আবেদন জানালে তাতে আপত্তি জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি বলেন, ‘আজকে উনার (মওদুদ আহমদ) বক্তব্য শুনেই মনে হচ্ছে উনি মামলা না করার জন্যই এসেছেন। কিন্তু এই মামলার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন রাজনীতির ময়দানে থাকুক। রাজনীতির সঙ্গে আদালতের কোনো সম্পর্ক নেই।’

খালেদা জিয়া দুদক আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে আদালতের সম্পর্ক নেই- এ কথাটি ঠিক নয়। রাজনীতির সঙ্গে সবকিছুর সম্পর্ক আছে। যেহেতু এখন সবাই মাঠে কাজ (নির্বাচনী কার্যক্রম) করছে, কেউ আমার জন্য, কেউ তাদের জন্য, যেখানে নির্বাচন নিয়ে সবাই ব্যস্ত সেখানে আমাদের কোর্টে আটকে রাখা হচ্ছে। একপক্ষ নির্বাচনে কাজ করছে আর আমাদেরকে আদালতে আসতে হচ্ছে। অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তারপরেও যদি আমাদের কোর্টেই আটকে রাখা হয়, তাহলে বলে দিক আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।’

প্রায় এক ঘণ্টা মামলা সংক্রান্ত বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করে শুনানি মুলতবি চান মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানেও আছে নির্বাচনের সময় সবাই সহযোগিতা করবেন। এর অর্থ যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।

এ সময় মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘উনার (মওদুদ) পক্ষে যদি আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে কোনো কথা নেই। কিন্তু উনি নির্বাচনও করবেন আবার মামলাও করবেন- এটা তো হয় না। আপনার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা মুলতবি দিতে পারি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আপনি ধার্য তারিখেও আপনার বক্তব্য শেষ করতে পারবেন না।’

এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলকে উদ্দেশ্য করে টিপ্পনী কেটে বলেন, ‘উনি আমাদের অনেক নির্যাতন করেছেন। আমরা উনার হাত থেকে বাঁচতে চাই। উনি নৌকা মার্কায় ভোট করার জন্য মনোনয়নপত্র কিনেছেন। উনি এমপি হয়ে এখান থেকে বিদায় নিলে আমরা বাঁচি। তার কথায় খালেদা জিয়াসহ উপস্থিত সবাই হেসে উঠেন।’

মামলার শুনানির সময় খালেদা জিয়া দুদক আইনজীবীর উদ্দেশ্যে হাস্যোচ্ছলে বলেন, ‘কাজল সাহেব আপনি তো পূর্ণ মন্ত্রী হয়ে যাবেন। জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘ম্যাডাম আমাকে দোয়া করবেন।’

১টার দিকে আদালতে আসেন খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থার মধ্যে আছি। আদালতও মনে করে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা দরকার। এই অবস্থায় সবাইকে সুযোগ দেয়া উচিত।’

একপর্যায়ে খালেদা জিয়া শুনানি পেছাতে আদালতের উদ্দেশে বলেন, ‘যেহেতু সামনে নির্বাচন, সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। সকলেই যে যার এলাকায় চলে যাবে। আদালতে কেউ আসতে পারবে না। আদালতে আসা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যায়। আপনি দেড় মাস সময় দিন। এ ছাড়া সম্ভব নয়।’

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩রা জানুয়ারি দিন ধার্য রাখেন। আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার একটু পরই এজলাসের একটি পাশের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন