শিরোনাম :

নবীন-প্রবীণ মিলে নতুন নেতৃত্ব আ.লীগে


বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নবীন-প্রবীণ মিলে নতুন নেতৃত্ব আ.লীগে

ঢাকা: আওয়ামী লীগের আগামী কেন্দ্রীয় কমিটিতে তরুণ নেতৃত্ব প্রাধান্য পাচ্ছে। জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব গড়ে তুলে দলকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বিদায়ী কমিটির নিষ্ফ্ক্রিয় ও বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে মেধাবী, স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এমন উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পদ পেতে ইচ্ছুক তরুণ নেতারা আশান্বিত হয়ে উঠেছেন। নেতৃত্বে উঠে আসবেন এমন সংগঠকদের তালিকায় মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদের তরুণ সদস্য এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের নামও রয়েছে। দলসমর্থক ও সমমনা বিভিন্ন পেশাজীবী, নারী ও যুব সংগঠনের নেতারাও পদ পেতে দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের নজরে আসার চেষ্টা করছেন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পদপ্রত্যাশী এসব নেতার পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে।

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল হবে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে 'মুজিববর্ষ' উদযাপনের সরকারি ও দলীয় পরিকল্পনার কারণে এবারের কাউন্সিল অনেকটাই সাদামাটাভাবে হতে যাচ্ছে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর দিন আগামী বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বছরজুড়ে সারাদেশে এই 'মুজিববর্ষ' উদযাপিত হবে। এর মাস তিনেক আগে অনুষ্ঠেয় জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্বে কী পরিবর্তন আসে- তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সব মহলেই।

তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার এমন প্রচেষ্টা অবশ্য আওয়ামী লীগে আগে থেকেই চলে আসছে। বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দল ক্ষমতায় আসার পর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সব ক'টি জাতীয় কাউন্সিলেই এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০০৯, ২০১২ ও ২০১৬ সালের তিনটি কাউন্সিলেই অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের ঠাঁই মিলেছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে। বয়সে প্রবীণ নেতাদের দলের উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে তাদের জায়গায় নতুন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদে ভূমিধস বিজয়ের পর গঠিত টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারেও অপেক্ষাকৃত নবীন ও তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

কয়েকজন নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদ শুরুর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হওয়া শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে দলে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ধারাবাহিক সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব সম্মেলনেই পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তরুণ নেতারা শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। জেলা-উপজেলাসহ দলের তৃণমূল সম্মেলনগুলোতেও একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলেও এর প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও তরুণদের দিয়ে দলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করে তোলার বিষয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী।

দলের আগামী কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে ইচ্ছুক এমন কয়েকজন সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি কাউন্সিলেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ত্যাগী ও দক্ষতাসম্পন্ন তরুণদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই আগে থেকেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার প্রত্যাশায় ছিলেন তারা। এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আয়োজিত কাউন্সিলে সেই প্রত্যাশা তাদের আরও বেড়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এবার তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন বলেই তাদের বিশ্বাস।

তরুণদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদে আসতে পারেন- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, সংসদ সদস্য সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সভাপতি শাহে আলম, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুজ্জামান শিখর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাকের ছেলে নাহিম রাজ্জাক, কাজী নাবিল আহমেদ, একাব্বর হোসেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর প্রমুখ।

পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন- ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, বাহাদুর বেপারী, লিয়াকত সিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন, এ এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাইফুজ্জামান সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, ইসহাক আলী খান পান্না, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, এ এস এম জাকির হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল সংসদের সাবেক ভিপি সুভাষ সিংহ রায়, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি খ ম হাসান কবির আরিফ, অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, গোলাম সারোয়ার কবির, রাশেদুল বাশার ডলার, সুজাদুর রহমান সুজাত, সাহাবুদ্দিন ফরাজি, মিজানুর রহমান মিজান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, আনিসুর রহমান, মিহির কান্তি ঘোষাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, সাবেক দপ্তর সম্পাদক নাসিম আল মমিন রূপক, সাবেক গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আবু আব্বাস ভূঁইয়া, সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন মাহামুদ চৌধুরী, সাবেক স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন এমন কয়েকজন নেতার নামও শোনা যাচ্ছে, যারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে পারেন। তারা হচ্ছেন- যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির জগলুল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদ্যবিদায়ী সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, শেখ সোহেল রানা টিপু প্রমুখ। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক শফি আহমেদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের একাংশের সভাপতি অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের মেয়ে শমী কায়সারের নামও শোনা যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় ফোরামের একাধিক বৈঠকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর কমিটিসহ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে সম্পূর্ণ নতুন মুখ এসেছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতেও অনেক নতুন মুখ আসবে। আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল মানেই নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম লীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেছেন, এবারের কাউন্সিলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেওয়া হবে। যোগ্যতাসম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মেধাবী তরুণরা কমিটিতে স্থান পাবেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন