শিরোনাম :

বৃটেনে নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম


বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বৃটেনে নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম

ডেস্ক: ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে বৃটেনে বৃহস্পতিবার আগাম জাতীয় নির্বাচন। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম এমপি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায়। তারা সবাই বিজয়ী হওয়ার আশা করছেন। তবে নিশ্চিত বিজয় পেতে পারেন ২৪ মুসলিম প্রার্থী। তা হলেও এ সংখ্যাও রেকর্ড সৃষ্টি করবে বৃটেনে। এসব প্রার্থী বাংলাদেশী, পাকিস্তানি ও কুর্দি বংশোদ্ভূত। এর মধ্যে রয়েছেন বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী, ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন থেকে রুপা হক, হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে টিউলিপ সিদ্দিক। আছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অনেকে।

এর ফলে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে মুসলিম রাজনীতিকের সংখ্যা বৃটেনে ঐতিহাসিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাকিস্তানের জিও এবং দ্য নিউজের করা এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব প্রার্থীর মধ্যে নতুন যেসব এমপি নির্বাচিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে তার মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগের বেশি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। এর পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। এতে আরো বলা হয়েছে, লেবার দল থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিম এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত প্রার্থী রয়েছেন। এর পরেই এমন প্রার্থী দিয়েছে কনজারভেটিভরা। বৃটেনে প্রায় ৩০ লাখ মুসলিমের বসবাস। সেখানে খ্রিস্টানরা হলেন সবচেয়ে বেশি। তাদের পরেই সংখ্যার দিক দিয়ে মুসলিমদের অবস্থান।

ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, ২০১৭ সালে মুসলিম প্রার্থী ছিলেন ৪৭ জন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে তাদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০। এর মধ্যে বিরোধী লেবার পার্টি মনোনয়ন দিয়েছে ৩৩ জন মুসলিম প্রার্থীকে। তারা বিজয়ী হবেন বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬ জন স্বাচ্ছন্দ্যে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীদের হারিয়ে বিজয়ী হবেন বলে মনে করা হচ্ছে, অবশ্য যদি নির্বাচনের দিনে কোনো বড় অঘটন না ঘটে।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি মনোনয়ন দিয়েছে ২২ জন মুসলিম প্রার্থীকে। এর মধ্যে ৫ জন বিজয়ী হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্রেট দলে কখনেই মুসলিম এমপি ছিলেন না। তবে তাদের এই ধারা এবার পরিবর্তন হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তারা লেবার ও কনজারভেটিভদের বিরুদ্ধে ১৭ জন প্রার্থী দিয়েছে। তার মধ্যে প্রথমবারের মতো দু’জন নির্বাচিত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লেবার দলের টিকেট নিয়ে তারা হলেন বেডফোর্ডে মোহাম্মদ ইয়াসিন, বার্মিংহাম লেডিউডে শাবানা মাহমুদ, বার্মিংহাম পেরি বার-এ খালিদ মাহমুদ, বল্টন সাউথ ইস্টে ইয়াসমিন কুরেশি, ম্যানচেস্টার গর্টনে আফজাল খান, ব্রাডফোর্ড ইস্টে ইমরান হোসেন, ব্রাডফোর্ড ওয়েস্টে নাজ শাহ, ওয়ারিংটন সাউথে ফয়সাল রশিদ এবং টুটিংয়ে ড. রোজেনা অ্যালেন খান। তারা সবাই ২০১৭ সালের নির্বাচনে এসব আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে টুটিং আসন বাদে অন্য আসনগুলোতে তারা পুনর্নির্বাচিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কভেন্ট্রি সাউথ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জারা সুলতানা। বার্মিংহাম হল গ্রিন থেকে তাহির আলী। তারা বিজয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের মধ্যে রুশনারা আলী, রুপা হক ও টিউলিপ সিদ্দিক গত পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। তারা বাদেও পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস আসনে লেবার দল মনোনয়ন দিয়েছে আপসানা বেগমকে। এ ছাড়া কুর্দি বংশোদ্ভূত ইব্রাহিম ডগাসকে ওয়েস্ট ব্রোমউইচ থেকে মনোনয়ন দিয়েছে লেবার দল। এ আসনটি আগে দখলে ছিল লেবার দলের বিদায়ী উপ নেতা টম ওয়াটসনের। কুর্দি বংশোদ্ভূত লেবার দলের আরেকজন শক্তিধর প্রার্থী হলেন ফারিয়াল ক্লার্ক। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনফিল্ড নর্থ থেকে। উত্তর লন্ডনে এটি লেবার দলের একটি নিরাপদ আসন। এ ছাড়া লেবার দল মনোনয়ন দিয়েছে আজহজার আলী, খালিল আহমেদ, ফাইজা শাহিনকে। তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যথাক্রমে পেন্ডেল, উইকোম্বে ও সাউথ উডফোর্ড থেকে। এ আসনগুলো আগে দখলে ছিল কনজারভেটিভ পার্টির অ্যানড্রু স্টেফেনসন, স্টিভ বেকার ও ইয়ান ডানকান স্মিথের। তাদেরকে হারাতে লেবার দলের ওই তিন প্রার্থী তীব্র প্রতিযোগিতা গড়ে তুলেছেন। এ জন্য তারা ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। এর মধ্যে ফাইজা শাহিন ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছেন। গত সপ্তাহে তাকে সমর্থন দিয়েছেন অভিনেতা হিউ গ্রান্ট। তিনি যদি কনজারভেটিভ দলের নিশ্চিত বিজয়ী প্রার্থী ইয়ান ডানকান স্মিথকে পরাজিত করতে পারেন তাহলে তা হবে একটি আপসেট।

ওদিকে লেবার দলের টিকেট নিয়ে উক্সব্রিজ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইরানি বংশোদ্ভূত আলী মিলানি। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ দলের নেতা বরিস জনসনের বিরুদ্ধে। জনসনকে পরাজিত করতে তিনি তীব্র প্রচারণা চালিয়েছেন। এ জন্য দলনেতা জেরেমি করবিনের পক্ষ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। তার সমর্থকরা প্রচারণার নামই দিয়েছেন মোমেন্টাম।

কাশ্মীরি বা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যারা কনজারভেটিভ দলের মনোনয়ন পেয়েছেন তারা হলেন ব্রেমসগ্রোভ থেকে সাজিদ জাভিদ, ওয়েলডেন থেকে নুসরাত গণি ও গিলিংহ্যাম থেকে রেহমান চিশতি। স্ট্যাটফোর্ড-আপোন-অ্যাভোন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কুর্দি বংশোদ্ভূত নাদিম জাহাবি। আগের পার্লামেন্টে তিনি সদস্য ছিলেন। এবার নির্বাচনে সাকিব ভাট্টি নবাগত। তিনি কনজারভেটিভ দলের টিকেট পেয়েছেন মেরিডেন আসন থেকে। অন্যদিকে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ইমরান আহমেদ খান এবং সোমালিয়া বংশোদ্ভূত মো আলী তীব্র প্রতিযোগিতা গড়ে তুলেছেন লেবার দলের মেরি ক্রেয়াহ এবং অ্যানা ম্যাকমোরিনের বিরুদ্ধে। তারা এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যথাক্রমে ওয়েকফিল্ড এবং কার্ডিফ নর্থ থেকে। এ আসন দুটিতে নির্বাচিত এমপি ছিলেন লেবার দলের। লিবারেল ডেমোক্রেটরা সাটন অ্যান্ড চিয়াম থেকে মনোনয়ন দিয়েছে হিনা বোখারিকে এবং বারমন্ডসে অ্যান্ড সাউথওয়াক থেকে হুমায়রা মালিককে। ২০১০ সাল পর্যন্ত এই আসন দুটি দখলে ছিল লিবারেল ডেমোক্রেটদের। কিন্তু ২০১৫ সালে তারা তা হারায় কনজারভেটিভ দলের কাছে। এবার ওই দুটি আসন পুনরুদ্ধারের আশা করছে তারা। লিডস নর্থ ওয়েস্টে প্রতিশ্রুতিশীল প্রার্থী রয়েছেন কামরান হোসেন। এ ছাড়া ব্রেক্সিট পার্টি এবং গ্রিন পার্টি মুসলিম প্রার্থীদের টিকেট দিয়েছে। তবে তাদের জেতার আশা ক্ষীণ। তবে স্কটিশ ন্যাশনালিস্টম পার্টি এবং ওয়েলশ প্লেইড কিমরু পার্টি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে টিকেট দেয় নি নির্বাচনে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন