শিরোনাম :

বিলুপ্তির পথে বগুড়ার সোনালু ফুল


বুধবার, ১ জুন ২০১৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিলুপ্তির পথে বগুড়ার সোনালু ফুল

আল আমিন মন্ডল, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া জেলা’সহ গাবতলীতে একসময় শতশত সবুজ গাছে হলুদ রঙের সোনালু ফুলের দেখা মিলত। এ ফুলের অপরুপ সৌন্দর্য্য, সৌরভ ও শোভা এখন আর চোখেই পড়ে না। পাখির কোলাহল ও ফুলের গন্ধে তখন মনজুড়িয়ে যেত। কালের বিবর্তনে সেই চিরচেনা সোনালু ফুল গাছ এখন বিলুপ্তির পথে।

জানা যায়, অপরুপ শোভা দানকারী সোনালু ফুল বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে ফুটে। এলাকাভিক্তিক ফুলটির নাম ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও সোনালু, কোথাও স্বানালী, বান্দর লাঠি, কর্ণিকা, অলানু, সোঁদাল। আবার কোথাও স্বনালী ফুল গাছ বলে পরিচিত। তবে এ সোনাইল ফুল গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম CASSIA FISTUIA। সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছের মালিক আর্থিক ভাবে লাভবানও হতো।

এপ্রিল-মে ও জুন মাসে সোনালু গাছটি থেকে লম্বা ছড়া বের হয়। সে ছড়া’য় সুন্দর হলুদ রঙের ফুল ফুটে। ফুল থেকে লম্বা শুটি হয়। সোনালু গাছের ফুল, লতা, পাতা, বীজ, মূল ঔষধী কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও সোনালু ফুল গাছের শিকড় ও গাছের ছাল দিয়ে মানবদেহের জন্য অতিগুরুত্বপূর্ন ঔষধ তৈরীর কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে। সে ঔষধে মানবদেহের অনেক উপকার হয়। এ ফুল গাছটি বিলুপ্তির পথে চলে যাওয়ার ফলে গাছ ও ঔষধ তৈরীতে সংকট দেখা দিয়েছে।

অল্পসংখ্যক সোনালু ফুল গাছ চোখে পড়লেও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে কয়েকগুন। এ গাছের এতগুন থাকার পরেও গাছটি সংরক্ষণ ও রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেই। পথচারীরা কাগইল এলাকায় সোনালু ফুল গাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে গাছতলায় ছুটে আসেন। পাখি ও ফুল দেখে মনটা ভাল থাকে।

গাবতলী উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জুলফিকার আলী হায়দার জানান, সোনালু গাছ ফুল গুরুত্বপূর্ণ। গাছটি মানুষের জন্য উপকারী। ব্যক্তিপর্য়াযে সোনালু ফুল গাছ সংরক্ষণ প্রয়োজন রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দাবিদার এই সোনালু ফুল গাছ।

গাবতলী উপজেলা কৃষি অফিসার আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার জানান ভিন্ন কথা। তিনি জানান, সোনালু ফুল গাছ অতিরিক্ত পানি শোষণ করে। ফলে গাছটি কৃষি’র জন্য কম উপকারী।

এএএম/এমএল

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন