শিরোনাম :

নওগাঁয় মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের পাঁয়তারা


বুধবার, ১ জুন ২০১৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সদরের গোডাউন পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা সদস্য মো. আব্দুল লতিফ যিনি একদিন দেশের ভূমি এবং স্বাধীনতা রক্ষায় জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এখন তাঁর একখন্ড জমি রক্ষা করা দায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন থেকে তাঁর জমি দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েকবার তাঁকে মারপিট করেছে প্রতিপক্ষরা। এসব ঘটনার বিচার চেয়েও কোন বিচার পাননি বলে জানিয়েছেন।

তাঁর ঐ জমি দখলের শেষ চেষ্টা হিসেবে সাড়ে ৭৮ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলা দু’বছর বয়সের একটি আমবাগান সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করে দিয়েছে দুবৃত্তরা।

এ ব্যপারে স্থানীয় প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দায়ের করেও রহস্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত কোনরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এতে প্রতিপক্ষরা তাকে নানাভাবে হুমকী প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ নিরাপত্তাহীন জীবনযাপন করছেন।

থানায় দায়েরকৃত এজাহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকট থেকে জানা গেছে, গোডাউনপাড়া সংলগ্ন কোড়লডাঙ্গা মৌজায় তিনি ১৯৯৯ সালে গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের বিষ্ণু মন্ডলের পুত্র শহীদ মন্ডলের নিকট থেকে দলিল নং ২৭০১ তারিখ ৬-৬-৯৯ মোতাবেক ৫০ শতক এবং তার ভাই আব্দুর রশিদের নিকট থেকে দলিল নং ২৯৯৫ তারিখ ৬-৬-৯৯ মোতাবেক সাড়ে ২৮ শতক সর্বমোট সাড়ে ৭৮ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন। এখন পর্যন্ত উক্ত সম্পত্তি তাঁর দখলেই রয়েছে। কিন্তু একই গ্রামের মৃত মমতাজের পুত্র মো. আজাহার আলী তার পুত্র আব্দুল জলিল, মো. খলিল এবং মো. কামরুল দীর্ঘদিন ধরে ঐ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় তারা সংগঠিত হয়ে বেশ কয়েকবার আব্দুল লতিফ এবং তাঁর পুত্রকে মারপিট করেছে। এমন কি বর্গাদারদের নানারকম ভয়ভীতি এবং হুমকি দিয়ে জমি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে অব্যাহতভাবে স্থানীয় পুলিশ, ইউপি চেয়ারম্যান এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যান সমন্বয়ে কয়েকবার শালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। তাঁকে জমি থেকে উচ্ছেদের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে গত দু বছর আগে ঐ জমির উপর গড়ে তোলা উন্নত জাতের একটি আম বাগান গত ২৫ মে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করেছে।

ঐ বাগানে বিভিন্ন জাতের মোট ২শ ১০টি আমগাছ ছিল। এতে তাঁর প্রায় লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ঐ দিনই আব্দুল লতিফ ঘটনার বিবরণ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সাপাহার থানার অফিসার্স ইনচার্জ বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাপাহার থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেছেন এ সম্পর্কিত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ্যা নেয়া হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন