শিরোনাম :

তিস্তার পানি এখন বিপদসীমার উপরে


সোমবার, ১০ জুলাই ২০১৭, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

তিস্তার পানি এখন বিপদসীমার উপরে

ডেস্ক প্রতিনিধি: উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ১২টার পর তা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে তিস্তা পাড়ের বন্যা দুর্গত এলাকার লোকজন।

এদিকে তিস্তা বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১৫ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেষ্টিত চর ও গ্রামগুলোও প্লাবিত হয়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চরের নিচু অঞ্চলের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।নিচু অঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ফরেস্টের চরের অধিকাংশ বাড়ি হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।

খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার বলেন, পুর্ব বাইপুকুরে বস বাসদের ঘর দিয়ে বন্যার পানি বয়ে যাচ্ছে।

পুর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ঝাড়সিংহেস্বর এলাকার তিস্তার চরাঞ্চলের বসতবাড়ীতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন, কিছামত ছাতনাই গ্রামের তিস্তার চরাঞ্চলের বসতবাসরতদের বসতভিটা হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।

এসব বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে সোমবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপরে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি অবহ্যত রয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক খালেদ রহীম ও ডিমলা উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বেলা ১১টায় তিস্তা এলাকা পরিদর্শন করবেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তিস্তার বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্বিক নজর দিচ্ছে প্রশাসন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন