শিরোনাম :

পাবনায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসি


মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ০৫:২৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পাবনায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসি

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনায় পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্বামী মোশাররফ হোসেন মৃধাকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি আসামীদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

আসামিরা হলেন, পাবনা শহরের গোপালপুর (ইসহাক ডাক্তারের গলি) এলাকার গোলাম মোহাম্মদের মেয়ে কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি (৪৬), আতাইকুলা উপজেলার রাণীনগর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৪৭) এবং একই গ্রামের ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সোলেমান আলী (৪৫)। রায় ঘোষণার সময় শুধু আসামী বিউটি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেফতার হলেও পরে জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এই তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এই হত্যা মামলার আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু বলেন, টাকায় মোবাইল নম্বর পেয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা কুলসুম নাহারের সঙ্গে কথা শুরু করেন রুহুল আমিন। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। একবছর ধরে চলা এ সম্পর্কের জেরে তারা অবৈধ সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। এরই এক পর্যায় স্বামী মোশাররফ হোসেনকে তাদের অবৈধ সম্পর্কের ‘পথের কাঁটা’ মনে করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে পাবনা শহরের শিবরামপুর মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাসায় যান এবং খুনিরা মোশাররফের শোবার ঘরে লুকিয়ে থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রী কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি সহ আসামীরা মোশাররফ হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর গুম করতে লাশ একটি বস্তার ভেতর ঢোকানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। তখন রুহুল আমিন ও সোলেমান আলী পালিয়ে যান।

ঘটনার রাতেই পাবনা সদর থানা পুলিশ মোশাররফের বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্ত্রী কুলসুম নাহারকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে পরদিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। এ মামলার বিচারকাজ চলাকালে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

নিহত মোশাররফ হোসেন মৃধা পাবনা শহরের রামচন্দ্রপুর এলাকার মৃত আরশেদ আলী মৃধার ছেলে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন