শিরোনাম :

স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে জেলে এসআই


বুধবার, ১ জুন ২০১৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে জেলে এসআই

দিনাজপুর প্রতিনিধি: স্বাক্ষর জাল ও নিলাম জালিয়াতির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার সাবেক এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মোটরসাইকেল চিনতাইকারী চক্রের সদস্য আবু সাইদকে জেল হাজতে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের কাছে আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে বিচারক মোঃ এহসানুল হক জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন বর্তমানে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানায় কর্মরত রয়েছেন এবং সাইদ বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের আওলাখুড়ী গ্রামের মৃত মাওলানা মোঃ আবু তাহেরে ছেলে।

গত ৫ মে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় আদালতের কাগজপত্র ও বিচারকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের নাজির মোঃ মামুন হাসান।

একই অভিযোগে বীরগঞ্জের এনামুল মুন্সীর পুত্র মোঃ আব্দুল গাফ্ফার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-২ আরো ১টি মামলা করেছেন। আদালতে দায়ের করা মামলার নম্বর ৮০সি/১৬ তাং ০৯/০৫/১৬ইং।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং আসামী এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন ও সোর্স আবু সাইদ বীরগঞ্জ থানার মালখানায় বেশকিছু পুরাতন মোটরসাইকেল নিলামে বিক্রি হয়েছে আরো কয়েকটি মোটরসাইকেল বিক্রির জন্যে রাখা আছে বলে মামলার বাদী মোঃ আব্দুল গাফ্ফারকে জানান। বাদী তাদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তাদের সহযোগীতায় থানার অভ্যন্তরে রক্ষিত পুরাতন মোটর সাইকেল গুলো দেখেন এবং ক্রয়ের জন্যে পছন্দ করেন।

পরবর্তীতে মোটরসাইকেল গুলো ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করে কাগজপত্রাদি গুলো সঠিক আছে বলে জানতে পারে এবং তখনই নগদ ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেল ক্রয় করেন। আসামীগন পরদিন মোটরসাইকেলের কাগজপত্রাদি ক্রয়কারী আব্দুল গাফ্ফারকে বুঝিয়ে দেন।

তারপর হতে যথারীতি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছিলো কিন্তু গত ১৪/৪/২০১৬ ইং তারিখে বীরগঞ্জ থানা পুলিশ মামলার ২নং স্বাক্ষী মোঃ বদিউল আলমের মোটরসাইকেলটি আটক করে। বদিউল আলম মোটর সাইকেলটি নিলামে ক্রয়ের কাগজপত্রাদি প্রদর্শন করলে এবং উল্লেখিত আসামীদের নিকট ক্রয়ের কথা জানানোর পরেও পুলিশ কাগজপত্র গুলো সঠিক নেই বলে জানান এবং নিলামের কাগজপত্রাদি পরীক্ষা করতে বলেন।

এব্যাপারে দিনাজপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কাগজপত্র পরীক্ষার জন্যে গেলে মামলার ২৪ নং স্বাক্ষী মোঃ মামুন হাসান নাজির চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত দিনাজপুর জানান, গাড়ী নিলামের দলিলগুলির রের্কড তাদের কাছে নেই এ গুলো জাল কাগজপত্র। বাদীর মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে উল্লেখিত আসামীরা পরস্পর যোগসাযোশে ম্যাজিষ্ট্রেটের স্বাক্ষর জ্বাল করে ২৩টি মোটরসাইকেল বিক্রি করে ২৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫ শত টাকা আত্বসাৎ এবং বাদীকে আর্থিক ও আইনী হয়রানী করছেন।

এমআর/এমএল

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন