শিরোনাম :

রেলরুটে এখনও যোগাযোগ বিছিন্ন ,মৃতের সংখ্যাবেড়ে -২২


বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১২:২৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রেলরুটে এখনও যোগাযোগ বিছিন্ন ,মৃতের সংখ্যাবেড়ে -২২

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বন্যা পরিস্থিতি সার্বিকভাবে উন্নতির দিকে। আত্রাই, ইছামতি, পুর্নভবা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।বুধবার(১৬ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুজ্জামান খান

আজ বুধবারের মধ্যেই শহর ও গ্রামাঞ্চলের পানি সম্পূর্ণ নিচে নেমে যাবে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে যান চলাচল আংশিক শুরু হলেও দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বেশ কিছু এলাকায় পানি থাকায় দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কে এখনও যান চলাচল শুরু হয়নি। দিনাজপুরের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বতীপুর রেলস্টেশন মাস্টার শোভন রায়।

এদিকে বন্যায় চিরির বন্দর উপজেলায় দুই শিশুসহ আরো চাঁর জরেন মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টায় জেলা প্রশাসনের ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন,চিরির বন্দর উপজেলায় আব্দুলপুর ইউনিয়নের নন্দোরাই গ্রামের ইমরান আলীর কন্য রিনা আক্তার (১০) উত্তর পাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে আরাফাত(৭) ও ইউসুফ পুর ইউনিয়নের উত্তর নওগোর গ্রামের সমশের আলীর ছেলে ফজির উদ্দিন(৬০)পানিতে ডুবে এবং অমর পুর ইউনিয়নের বড় শ্যমনগর গ্রামের মৃত্য হাফিজ উদ্দীনের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৬৫) দেয়াল চাপায় মারা যায়।

একই দিনে,একই দিনে নিখোঁজ থাকা সদর উপজেলার সুইহারীর রহমত পাড়া এলাকার আজাদ মিয়ার ছেলে হুমায়ন আহমেদ (১৬) বিরল উপজেলার গড়বাড়ী এলাকার সুরাই মূর্মুর মেয়ে মালিয়া মুর্মু(৫৯) ও একই উপজেলায় ভূমিগাঁও এলাকার আফসার আলীরছেলে মাকসুদুর রহমান(২০) এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়।

পার্বতীপুর রেলস্টেশন মাস্টার শোভন রায় বলেন, পার্বতীপুর থেকে দিনাজপুর (৩৪ কিলোমিটার) আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে যাওয়ায় এবং বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় গত তিনদিন ধরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে, বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। গত তিনদিন ধরে পার্বতীপুর-বুড়িমারি, পার্বতীপুর-দিনাজপুর-পঞ্চগড়, পার্বতীপুর-দিনাজপুর-বিরল এবং পার্বতীপুর-কুড়িগ্রাম-চিলমারী রেল স্টেশনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুর শহরের পুনর্ভবা নদীর তুতবাগান এলাকায় ভেঙে যাওয়া শহর রক্ষা বাঁধ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সোমবার মেরামত কাজ শুরু করলেও এখনও মেরামত শেষ হয়নি।এখনও দিনাজপুর শহরের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও তেমন পানি না কমায় বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না গৃহহীন মানুষ। বিভিন্ন বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে তারা বসবাস করছে।

পার্বতীপুর রেলস্টেশন মাস্টার শোভন রায় জানান, রেলওয়ের উল্লেখিত রুটগুলোতে বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করা যাবে।

স্টেশন মাস্টার আরো জানান, আন্তঃনগর একতা ও দ্রুতযান ট্রেন দুটি ঢাকা-দিনাজপুরের পরিবর্তে পার্বতীপুর-ঢাকার মধ্যে চলাচল করছে। আন্তঃনগর দোলনচাঁপা ট্রেন দিনাজপুরের পরিবর্তে পার্বতীপুর-রংপুর-কাউনিয়া-বগুড়া ও সান্তাহারের মধ্যে চলাচল করছে।

বন্যা কবলিতদের মাঝে ইতোমধ্যে ১৬২ মে.টন চাল বিতরণ করেছে জেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে বিতরণ করা হচ্ছে নগদ ৭ লাখ টাকা। আরও ৩০০ মে.টন চাল ও ৫০ লাখ টাকা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়।

বন্যায় কবলিত মানুষজনের খোঁজখবর ও তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম। তিনি জানান, ‘কোনভাবেই যাতে বন্যা কবলিত মানুষজনের কষ্ট না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে যতটা সম্ভব কাজ করা হচ্ছে।’

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন