শিরোনাম :
ত্রান ও শুকনো খাবার বিতরণ

তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের দুর্ভোগ চরমে


বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭, ০৬:৪১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের দুর্ভোগ চরমে

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি।

গত ৫দিন থেকে তিস্তার ডানতীর বাধে আশ্রয় নেয়া ৩৩ পরিবার এখনও বাড়ীতে যেতে পারেনি। গত রোববারের প্রবল বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া ৫ শতাধিক পরিবার বাড়ীতে ফিরলেও খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ৩৩টি পরিবার এখনও বাড়ীতে যেতে পারছে না। তাদের বসতভিটায় এখনও কোমর পানি তলিয়ে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দৃুপুরে তিস্তার বাধে আশ্রয় নেয়া ৩৩টি পরিববার জেলা ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান শুকনো খাবার বিতরন করেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে উপ-প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম, খালিশা চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তার বাধে তেলির বাজার নামক স্থানে বিজিবির উদ্দ্যেগে ক্ষতিগ্রস্থ ১শ ৫০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেন ৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহফুজ উল বারী। গত ৪ দিনে তিস্তায় ক্ষতিগ্রস্থ ৬শ পরিবারকে শুকনো খাবারের বিতরন করেন বিজিবি। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, চিড়াসহ ৭টি আইটেম।

সকালে ৭টি ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩হাজার ৪৬৫টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরন করা হয়েছে। অপরদিকে তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৪শত পরিবারের জন্য শুকনো খাবাবের প্যাকেট বরাদ্দ পেয়েছেন মর্মে জানায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। ডিমলা সদর ইউনিয়নের ৬৫০জনকে ত্রান বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকার, খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ৮শ পরিবারে চাল বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান সরকার, ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ৫৬০জনকে চাল বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ১৩০ পরিবারে চাল বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন, বালাপাড়া ইউনিয়নের ৫৫০জনকে চাল বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ভুইয়া ও নাউতরা ইউনিয়নের ৫২৫ পরিবারকে চাল বিতরন করেন সাইফুল ইসলাম লেলিন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান ও খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন বলেন যে পরিমান ত্রান সরকারী ভাবে পাওয়া গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।তিস্তায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধের রাস্তায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি এবং খাবারে তীব্র সংকট।

নীলফামারীর জেলা ত্রান ও পূনবাসন কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, তিস্তায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য ৯৩ মেট্রিক টন চাল ও নগত ৫লক্ষ টাকা, শুকনো খাবার ৪শ প্যাকেট ইতিমধ্যে বিতরন করা হয়েছে। নতুন করে আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।


তারিকুল/ ইসলাম/ খান/ লোহানী

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন