শিরোনাম :

একটি মানুষও না খেয়ে মারা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী


রবিবার, ২০ আগস্ট ২০১৭, ০৩:১৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

একটি মানুষও না খেয়ে মারা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুর প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে বন্যা, দুর্যোগ থাকবে।সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই আমাদেরকে বেঁচে থাকতে হবে। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না এবং না খেয়ে মারা যাবে না।সবাইকে ঘর-বাড়ী নির্মাণ করে দেয়া হবে।আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

রোববার (২০ আগষ্ট) দিনাজপুর জিলা স্কুল মাঠে বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে।আপনারা চিন্তা করবেন না।আওয়ামী লীগ বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশবাহিনী সবাই ত্রান বিতরণ করছে।গৃহহারা মানুষের ঘর-বাড়ী করে দিচ্ছি।বন্যায় যাদের ঘর-বাড়ী নষ্ট হয়েছে, তাদের ঘর-বাড়ী করে দেয়া হবে। একটি মানুষও যাতে না খেয়ে মারা না যায়, গৃহহীন না থাকে আমরা তার ব্যবস্থা করেছি।কৃষকের ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যায় যে সকল শিক্ষার্থীর বই-খাতা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে, তাদের নতুন বই খাতা দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, আমি বাবা, মা, ভাই-বোন সব হারিয়েছি।আমার আর হারাবার কিছু নেই। আমার বাবা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।আমি দেশের মানুষের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি।প্রয়োজনে আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমিও জীবন দেব।তিনি বলেন, বন্যা-দুর্যোগ এসব থাকবে। এসবের সাথে মোকাবেলা করেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। সেই পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে হাহাকার ছিল, মঙ্গা লেগেই থাকতো।আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর উত্তরবঙ্গের মঙ্গা দুর করে।উত্তরবঙ্গে যেন মঙ্গা না থাকে আমরা তার ব্যবস্থা করি। ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে উত্তরবঙ্গে আবারো মঙ্গা দেখা দেয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে আবারো আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে সঙ্গা দুর করি।গত আট বছরে কোন মঙ্গা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী এনজিওদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা আপনারা লোন দিয়েছেন তারা সাপ্তাহিক কিস্তি তোলার জন্য বন্যার্ত মানুষদের জুলুম করবেন না। এটা এনজিওদের প্রতি আমার নির্দেশ থাকবে।তিনি বলেন, ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দিচ্ছি।আপনারা যাতে ১০ টাকা কেজি চাল খেতে পারেন তানয়া হয়েছে।

১৯৯৫ সালে দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, সারা দিনাজপুরে আগুন জ্বলছিল। তখন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি আপনাদের খবর নিতে আসেননি। আমি সেদিন আপনাদের পাশে এসেছিলাম।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রানমন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়া, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মনোরঞ্জনশীল গোপাল এমপি, শিবলি সাদিক এমপি, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার মো. হামিদুল আলমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আসেন। জিলা স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর আগমন উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়।শহরের গুরত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও নিরপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চের অঅশপাশে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড, ডিসপোজিবল ইউনিটসহ ব্যার সদস্য মঞ্চের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরল উপজেলার তেঘরা উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ বিতরণ করেন। মধ্যাহ বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে দিনাজপুর ত্যাগ করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মাঝখানে হঠাৎ মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এতে মঞ্চের বাইরে ও দুরে অবস্থান নেয়া জনতা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে পারেননি।

এমআর

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন