শিরোনাম :

অন্তঃসত্বা গৃহবধূ শেফালীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, প্রধান আসামী গ্রেফতার


মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট ২০১৭, ০৪:০৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

অন্তঃসত্বা গৃহবধূ শেফালীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, প্রধান আসামী গ্রেফতার

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর কোলনঝাড় গ্রামে গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার সাত মাসের অন্তঃসত্বা গৃহবধূ শেফালী বেগমকে গাছের সঙ্গে নির্যাতনের ঘটনার মামলার হুকুমদাতা প্রধান আসামী নুর আলম শাহ (৫৮) গ্রেফতার হয়েছে।

সোমবার বিকালে নীলফামারী, র‌্যাব ক্যাম্পের সিপিসি-২ একটি অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে নীলফামারী রেলষ্টেশন এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত নুর আলম নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। রাতে নুর আলম শাহ ডিমলা থানায় হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত নুর আলম শাহকে জেল হাযতে পাঠানো হয়।

সুত্র মতে, ঘটনা ও মামলার পর উক্ত আসামী পলাতক ছিল। গোপন সংবাদে সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী অধিনায়ক এএসপি মোঃ শাহীনুর কবির এর নেতৃত্বে উক্ত আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা যায়, গত শুক্রবার (৪ আগষ্ট) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর কোলন ঝাড় গ্রামে লালন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩২) নামের ওই গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিনভর শাররিক নির্যাতন করা হয়।

ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রভাবশালী নেতারা দিনদুপুরে শেফালী বেগম গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে মর্মে গরুসহ গাছে বেধে পুলিশকে সংবাদ দেয়।

পুলিশ এসে গরু চুরি ঘটনা মিথ্যে বুঝতে পেরে শেফালীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহনের পরামর্শ দেয়। কিন্তু নির্যাতনকারীরা শেফালীকে হুমকী দেয়ায় শেফালী ডিমলা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়ে গত শনিবার (৫ আগষ্ট) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগষ্ট সময়ের আগে ৯শ গ্রাম ওজন নিয়ে শেফালী নবজাতক কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু নবজাতক শিশুটির অবস্থা ছিল শংকটাপন্ন। নবজাতক কন্যাটিকে নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

এরপর ৯ আগষ্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়। কিন্তু এর আগে শেফালীর মামা ভটভটি চালক সহিদুল ইসলাম ৬ আগষ্ট রাতে ডিমলা থানায় ১৯জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে (নম্বর-০৬ ধারা-১৪৩/১৪১/৩৪২/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৫৪/৫০০/১১৪/৩৪ দঃ বিঃ)। ওই মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরন করে। ওই মামলাটি নির্যাতনের শিকার শেফালীর সঙ্গে কথা না বলেই দায়ের করা হয়েছিল।

রংপুর মেডিকেল হতে ফিরে শেফালী বাদী হয়ে ৩১ জন আসামী করে পূর্বের মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে ডিমলা থানায় আবেদন করেন। সেটি আদালতে প্রেরন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করে। ওই মামলায় শেফালীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের হুকুমদাতা হিসাবে প্রধান আসামী করা হয় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত নুর আলম শাহ (৫৮)।

শেফালী জানায় তাকে নির্যাতনকারীসহ আরো অনেকে জমিজমা সংক্রান্ত এক বিবাদে তার বাবা মবিয়ার রহমানকে ২০১২ সালের ২৯ জুলাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে দিনদুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। মামলায় এলাকার ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে পুলিশ চার্জশীট প্রদান করেন। মামলাটি বর্তমানে নীলফামারী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

প্রভাবশালীরা ওই মামলা মিমাংসার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। তারা পিতার হত্যা মামলা আপোষ না করায় প্রতিপক্ষরা সম্প্রতি ডিমলা থানায় শেফালীর ভাই রমজানকে একটি মিথ্যা মামলায় জরিয়ে দিয়ে এলাকা ছাড়া করে। ফলে শেফালীর একমাত্র ভাই রমজান পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হচ্ছে।

এলাকায় কোন ঘটনা ঘটলেই শেফালী ও তার ভাইয়ের উপর নির্যাতনে খড়ক নেমে আসে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) মফিজ উদ্দিন শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত নুর আলম শাহকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন