শিরোনাম :

রংপুরে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় পুলিশের মামলা আসামী ২০০০


শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রংপুরে অগ্নি সংযোগের ঘটনায় পুলিশের মামলা আসামী ২০০০

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে রংপুরের সদর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের হিন্দু বাড়িতে হামলা-অগ্নি সংযোগের ঘটনার এক সপ্তাহ আগে থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে থানায় মামলা হয় এবং এলাকাবাসী আসামিকে গ্রেফতারে আলটিমেটাম দেয়। ওই সময় প্রশাসন ও পুলিশ আসামিকে ধরার আশ্বাসও দেয়। সপ্তাহখানেকেরও বেশি সময় ধরে উত্তেজনা থেকেই ১০ নভেম্বর শুক্রবার হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
 
রংপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে সংঘর্ষ, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় গঙ্গাচড়া থানায় ২৫-৩০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২ হাজার জনের নামে পৃথক দুটি মামলা করেছে পুলিশ।

গঙ্গাচড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে এ ঘটনার পর থেকে গঙ্গাচড়া, কোতোয়ালি ও তারাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ৩৬ জনকে আটক করে পুলিশ।

দর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের যে যুবক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তার বাড়িসহ কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা।  

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরপাড়ার মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায় ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ ছবিযুক্ত একটি স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে গত ২৯ অক্টোবর ওই এলাকার লালচাঁদপুর গ্রামের মুদি দোকানি আলমগীর হোসেন অভিযুক্ত হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ওই যুবককে গ্রেফতারের দাবিতে গত ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার এলাকাবাসী বিক্ষোভও করে।

টিটু রায়ের ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ আসামিকে ধরা হবে বলে কথা দেয়। টিটু রায় থাকেন নারায়ণগঞ্জে,  তিনি একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাত আলী বলেন, ঠাকুরপাড়ার টিটু রায় নামের এক যুবক ফেসবুকে ‘ধর্মীয় অবমাননাকর’ ছবিসহ একটি পোস্ট করেন অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১০ নভেম্বর শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওই এলাকায় ৩টার মধ্যেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

জিন্নাত আলী আরও বলেন, সাড়ে ৩টার দিকে খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়াশাহ ও বালাবাড়ি গ্রাম এবং পাশের মমিনপুর গ্রামের ৮ থেকে ১০ হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। বাধা দিলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ও লাঠি ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছররা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষ চলাকালেই হামলাকারীদের একটি একদল ঠাকুরপাড়ায় গিয়ে কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ে। এ সময় কমপক্ষে ২০ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম হাবিবুর রহমান, তিনি শলেয়াশাহ এলাকার একরামুল হকের ছেলে। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, যার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেই টিটু রায়ের বাড়ি গঙ্গাচড়ার ঠাকুরতাড়ি গ্রামে হলেও তিনি সেখানে থাকেন না। নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন।

ধর্ম অবমাননার বিষয়ে ফেসবুকের ওই পোস্টটি আসলেই সত্য কিনা বা ফেসবুকের পোস্টটি প্রকৃতপক্ষেই টিটু রায়ের কিনা? এমন প্রশ্নে ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘সেই তদন্তের সুযোগ তো আমাদের দেওয়া হয়নি। আমরা মামলা নিয়েছি। এখনো তদন্ত চলছে। আসামিকে গ্রেফতারের জন্য নারায়ণগঞ্জে লোক পাঠানো হয়েছে। তাকে ধরা গেলে, ফেসবুক বিশ্লেষণ করলে তার পর বিস্তারিত জানা যাবে’।

সময়ের বিষয়ে স্থানীয় পাগলাপীর জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, ওই দিন (৭ নভেম্বর) দুপুরে পাগলাপীর এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েকশ মানুষ ছিলেন। বিক্ষোভের পর তাকে গ্রেফতারের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে তাকে গ্রেফতারের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। এরপরেও অভিযুক্ত টিটু গ্রেফতার না হওয়ায় শুক্রবার দুপুরে আবার বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘুদের গ্রামে হামলার ঘটনা বেড়েছে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে এক বৌদ্ধপল্লীতে একই অভিযোগ তুলে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছিল। গত বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে অনেকটা একই কায়দায় একটি হিন্দু পল্লীতে হামলা চালানো হয়েছিল।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন