শিরোনাম :

হাড় কাপাঁনো শীতের আক্রমণে শীতবস্ত্র কেনার হিড়িক


বুধবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০৭:৩১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

হাড় কাপাঁনো শীতের আক্রমণে শীতবস্ত্র কেনার হিড়িক

নীলফামারী প্রতিনিধি: পৌষের শেষ দিকে উত্তরের জনপথ নীলফামারী জেলায় ধেঁয়ে আসছে হিমলায় থেকে শীতের সাঁড়াশি আক্রমণ।
দিরেন পর দিন বেড়েই চলছে শৈত্যপ্রবাহ। আর থরথরে কাঁপছে এই জেলার খেটে খাওয়া মানুষজন। বিষেশ করে জেলার ডিমলা উপজেলার তিস্তা চরের মানুষ এই শীতে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। নিন আয়ের মানুষ প্রচন্ড শীত থেকে বাঁচাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ফুটপাতের দোকান গুলোতে শীতের গরম কাপড় কেনাকাটায়।

নীলফামারীর বড় মাঠের পুরাতন কাপড়ের দোকান গুলোতে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেট গুলোতে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে। আর তাই শহরের অলিতে গলিতে কাপড়ের দোকান সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়িরা। এ সব দোকানে কম দামে বিদেশী পুরোনো গরম কাপড় মিলছে সস্তায়।

প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ আনাগোনা করছেন দোকান গুলোতে। সকাল থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে এসব দোকান। কম পয়সায় পছন্দের গরম কাপড় দেখে শুনে কিনছেন ক্রেতারা। নীলফামারীর শহরের বুধবার ও রবিবার সপ্তাহে দুইদিন বড় মাঠের হাটে ভাসমান ও ফুটপাতের দোকানদার শফিয়ার রহমান বলেন, সব শ্রেনী পেশার মানুষ আমাদের কাছে কাপড় কিনতে আসে। ৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সুইটার, টাউজার, জ্যাকেট, মাফলার, মানকি ক্যাপ, প্যান্ট, সার্ট, মোজাসহ হরেক রকমের শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, নিন্ম ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ক্রেতারই বেশী। সেই সাথে ভ্যান চালক, রিক্সা চালক অসহায় হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষও শীতবস্ত্র কিনছেন। নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের সাদা মিয়া বলেন, সাত সদস্যের পরিবারে আমি একমাত্র উপার্জন ক্ষমব্যক্তি তাই কমদামে খোলা বাজারে গরমের কাপড় নিতে এসেছি।

তিনি বলেন, শীত যতই বাড়ছে ততই বাহারী শীতের পোশাক বাজারে উঠছে। ইচ্ছেমত কম পয়সায় গরম হাপড় পাওয়া যাচ্ছে। নীলফামারী শিল্প ও বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি এসএম শফিকুল আলম ডাবলু বলেন, পুরোনোর কাপড় না এলে বিত্তশালীরা বিপদে না পড়লেও গরীব ও নিন্ম আয়ের মানুষ চরম বিপাকে পড়ত।

তিনি আরও বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়লেও এখনো সরকারী ও বেসরকারীভাবে শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রয়োজনের তুলনায় শীতবস্ত্র আসেনি। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান বলেন, এ যাবত জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও নীলফামারী সদরে ৪৬ হাজার ৯৩৭ পিচ কম্বল বিতরন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ পেয়েছি। এর পরও উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে শীত বস্ত্রের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন