শিরোনাম :

করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা


মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা

ঢাকা:চীনে ছড়িয়ে পড়া রহস্যময় করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ কারণে সারা বিশ্বে এই ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকায় এই ভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে ছাড়া হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বড় বড় এলাকার হাসপাতালগুলোতে আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।


আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, তারা প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ৬৩ জনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এর মধ্যে দুই ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্ত দুই ব্যক্তি চীনের উহান থেকে আমেরিকা এসেছিলেন। এ কারণে আমেরিকাসহ নিউইয়র্কে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো জানিয়েছেন, ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকার পর এই অঙ্গরাজ্যে তিনজন পর্যবেক্ষণে ছিলেন। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, একজনের করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ওই তিন ব্যক্তি কোথায় ছিলেন বা কোথা থেকে এসেছেন, তা জানাতে অস্বীকার করেছেন কর্মকর্তারা।

নিউইয়র্ক সিটিতে এখন পর্যন্ত কোনো আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। এখানে দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিশাল চীনা অভিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আমেরিকার দ্বিতীয় রোগী ৬০ বছর বয়সী একজন নারী। তিনি চীন থেকে ফিরে আসার পর শিকাগোর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আর প্রথম মার্কিন রোগী ২৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও চীন ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি সিয়াটেলের উত্তরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছিল, ২২টি অঙ্গরাজ্যে ৬৩ জনকে সম্ভাব্য করোনাভাইরাস সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।

চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স ও সৌদি আরবসহ অন্তত ১১টি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে।

এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়। এক দিনের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়ে ৪১ জন হয়েছে বলে চীনের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। এর মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন। ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৮৩০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। তাঁদের মধ্যে ১৭৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ৩৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাস ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। চীনের প্রধান প্রধান পর্যটন এলাকা ও গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া, হংকংয়ে আন্তর্জাতিক কার্নিভ্যাল, বার্ষিক ফুটবল টুর্নামেন্ট, সাংহাইয়ের ডিজনি রিসোর্ট সাময়িকভাবে বন্ধসহ একাধিক শহরে ম্যাকডোনাল্ডসের রেস্টুরেন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও নেপালেও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এয়ারলাইনস এবং অন্যান্য পর্যটন ও ভ্রমণ-শিল্প ব্যবসাগুলোর পাশাপাশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়াতেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। উহান থেকে ১৯ জানুয়ারি আসা এক চীনা নাগরিকের শরীরে করোনাভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। মেলবোর্নের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর। ২৪ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রেন্ডন মারফি।

এ ছাড়া ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ফরাসি কর্তৃপক্ষ ইউরোপে নতুন করোনাভাইরাসটিতে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির উপস্থিতির খবর নিশ্চিত করেছে।

চীনে পড়তে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে নেপাল। ২৪ জানুয়ারি এক ঘোষণায় দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। ২৫ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষও তিন নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্তের তথ্য দেয় বলে স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে।

নতুন চান্দ্রবর্ষ উদ্‌যাপনকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ২৪ জানুয়ারি থেকে চীনের ১০টি শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য নিষিদ্ধ শহর ও গ্রেট ওয়ালের একটি অংশও বন্ধ রাখা হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

চীনা নববর্ষের সপ্তাহব্যাপী ছুটির মধ্যে দেশটির কোটি কোটি মানুষ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করলে ভাইরাসটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ কারণে আমেরিকার জেএফকে বিমানবন্দর, সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক ও লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সপ্তাহে এই ভাইরাসের জন্য যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু হয়েছে। এই তিনটি বিমানবন্দরে সাধারণত উহান থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক যাত্রী আসা–যাওয়া করে। যদিও চীন ও আমেরিকার মধ্যে আপাতত ভ্রমণ স্থগিত করা হয়েছে।

নতুন ভাইরাসের ব্যাপারে সতর্ক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘অরক্ষিত’ অবস্থায় প্রাণীদের সরাসরি সংস্পর্শে না যেতে পরামর্শ দিয়েছে। আর মাংস ও ডিম ভালোভাবে রান্না করে খেতে বলেছে। পাশাপাশি ঠান্ডা বা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি না যেতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভাইরাসটিতে সংক্রমণের লক্ষণ হচ্ছে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, জ্বর, কাশি, ঘন ঘন নিশ্বাস নেওয়া ও নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন