শিরোনাম :

রসগোল্লা বাংলার, সিঙ্গারাও! 


শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:২৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রসগোল্লা বাংলার, সিঙ্গারাও! 

 

দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে যাওয়া এই স্ন্যাক্স কিন্তু আদতে একেবারেই নয়। মন খারাপ হয়ে গেল তো! বরং গর্ব করতে পারেন এই ভেবে যে, সিঙ্গাড়া এখন হয়ে গিয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল’।

বাঙালির জীবনে সিঙ্গাড়ার মাহাত্ম্য কেবল সেই-ই বলতে পারে, যে বাঙালি। কিন্তু সিঙ্গাড়া শুধুমাত্র বাঙালির নয়, অন্য নামে ‘সামোসা’ হয়ে সে তুমুল জনপ্রিয় ভারতের অন্যত্রও।

দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে যাওয়া এই স্ন্যাক্স কিন্তু আদতে ভারতীয় একেবারেই নয়। মন খারাপ হয়ে গেল তো! বরং গর্ব করতে পারেন এই ভেবে যে, সিঙ্গাড়া এখন হয়ে গিয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল’।

সিঙ্গাড়ার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ইরানি ইতিহাসবিদ আবলফজল বেহাকি রচিত ‘তারিখ-এ-বেহাগি’ বইয়ে। সেখানে অবশ্য তাকে ‘সাম্বোসা’ হিসেবে বলে বলা হয়েছে। সেগুলি আকারে বেশ ছোট ছোট হতো। কারণ, তখন থেকেই পর্যটক বা ব্যবসায়ীরা, স্ন্যাক্স হিসেবে এগুলি নিয়ে ঘুরতো। ঘোড়া বা উটের পিঠে রাখা তাদের ঝোলায় থাকত সেই খাবার।

ভারতে সিঙ্গাড়ার উল্লেখ পাওয়া যায় আমির খসরুর রচনায়। দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ের হোমরা-চোমরারা খেতেন মাংসের পুর-ভরা সিঙ্গাড়া। এবং তা হতো ঘি-এ ভাজা।

পরবর্তীকালে, মরোক্কো থেকে আগত পর্যটক ইবন বতুতার লেখাতেও মেলে সিঙ্গাড়ার উল্লেখ। তবে, তখন তার নাম ছিল ‘সম্বুসক’। পুর হিসেবে মাংসের সঙ্গে থাকত আখরোট, পেস্তা, বাদাম ও নানা ধরনের মশলা। মহম্মদ বিন তুঘলকের দরবারে, এ বস্তু ছিল ‘রয়্যাল স্ন্যাক্স’।

মুঘল শাসনকালেও সিঙ্গাড়ার অস্তিত্ব ছিল সাম্রাজ্য জুড়ে। ‘আইন-ই-আকবরি’-তে তার উল্লেখ রয়েছে ‘সানবুসাহ’ নামে।
বর্তমানে ভারতের নানা জায়গায় বিভিন্ন স্বাদের সিঙ্গাড়া পাওয়া যায়, যা অন্তত ১৫ থেকে ২০ রকমের।

তিনকোণা এই মুচমুচে খাদ্যবস্তুর স্বাদে মাতোয়ারা এখন পর্তুগাল, ব্রাজিলও। সেখানে অবশ্য তার নাম ‘পাস্তেইস’। তবে, নামে কী-ই বা আসে যায়। রসনাতৃপ্তিই তো আসল ব্যাপার।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন