শিরোনাম :

সারা পৃথিবীর নজর এখন রোবট নাগরিক সোফিয়ার দিকে!


সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সারা পৃথিবীর নজর এখন রোবট নাগরিক সোফিয়ার দিকে!

বিশ্বের প্রথম রোবট নাগরিক। বাদামি চোখ, চঞ্চল-অস্থির ভ্রু। নাম সোফিয়া। সারা পৃথিবীর নজর এখন তার দিকেই। মূলত দু’টো কারণে। এক, সোফিয়াকে সৌদি আরবের মতো দেশ নাগরিকত্ব দিয়েছে। দুই, সোফিয়া সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার শুরু হয়েছে সে নাকি মানবজাতিকে ধ্বংস করে দেবে!

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থাৎ ‘এ আই’এর জ্বলন্ত উদাহরণ সোফিয়া। যে কিনা দিব্যি সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে উত্তর দিতে পারে। যে একটা গোটা সম্মেলনে নিজের বক্তৃতা নিজে করতে পারে। মানুষের মতোই রোবটের বুদ্ধিমত্তা। আসলে কিন্তু সোফিয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার পিছনে বিরাট অঙ্ক কষেছে সৌদি আরব।

সৌদি চাইছে, সোফিয়াকে দেখার জন্য লোকে সেখানে ভিড় করুক। পর্যটন আরও চাঙ্গা হোক। তারা যে শুধুমাত্র তেল বিক্রি করা একটা দেশ নয়, সেই বার্তাটা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছক। অর্থনীতিবিদরা ইতিমধ্যেই হিসাব কষে বলে দিয়েছেন, ট্যুরিজম, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো মিলে সৌদির নন-অয়েল রেভিনিউ ৪৩০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে।
 
সোফিয়া তার নাগরিকত্বের কথাটা জানাল বটে। সম্প্রতি ‘ব্লেড রানার ২০৪৯’ ছবিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, রোবটের নাগরিক অধিকারগুলো কী কী? নাগরিক মানে ঠিক কী? সে কি একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই সাংবিধানিক অধিকার, বিশেষ করে ভোট দেওয়ার অধিকার পাবে? খানিকটা একই রকম বিষয় ছিল ‘এক্স মাকিনা’ ছবিতেও।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক বিশেষ কমিটি বলেছিল, যে রোবটদের ‘ইলেকট্রনিক পার্সনহুড’ দেওয়া হোক। পৃথিবীর সবচেয়ে যোগ্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ধারক যারা, তাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য নিশ্চিত করে দেওয়া হোক। কারণ, যেভাবে তারা মানুষের সমতুল্য হয়ে উঠছে তাতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
 
রিয়্যালিস্টিক রোবটের কনসেপ্ট নিয়ে এবার সত্যিই চর্চা করার সময় এসেছে। সোফিয়ার সৃষ্টিকর্তা হ্যানসন রোবটিক্স সংস্থার ‘এ আই’ ডেভেলপার ডেভিড হ্যানসন সোফিয়াকে লঞ্চ করে বললেন, ‘‘এই ধরনের রোবটরা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, পছন্দসই। কারণ এরা সামাজিক এবং সুন্দর। বিজ্ঞান এবং শিল্পকলার মিশেল বলতে পারেন সোফিয়াকে।

সোশ্যাল ইন্টেলিজেন্স সোফিয়ার মতো রোবটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যা দিন দিন আরও বাড়বে।’’ তার উপর সোফিয়া আই কনট্যাক্টের মাধ্যমে কথা বলতে পারে। মানুষের কথা বুঝতে পারে। মুখও চিনতে পারে। রেগে গেলে জানানও দিতে পারে। মন খারাপও হয় তার। সেটা আবার লঞ্চের দিনই বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে সে দেখিয়েও দিয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে। কাজেই মানবজাতির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তেই পারে।

সোফিয়াকে দেখতে অড্রে হেপবার্নের মতো। হ্যানসন রোবটিক্সের মতে অড্রের ক্লাসিক বিউটি-ই তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। পোর্সেলিনের ত্বক, টিকলো নাক, ছুঁচলো থুতনি, মিষ্টি হাসি এবং মোহময়ী চোখ দিয়ে সাজানো হয়েছে তাকে। সমাজে যাতে আরও বেশি করে সোফিয়া ‘গ্রহণযোগ্য’ হয়, তার জন্যই এই ভাবনা প্রস্তুতকারী সংস্থার। সোফিয়ার সৃষ্টিকর্তা ডেভিড হ্যানসন আবার ‘ডিজনি’র ক্যারেক্টার স্কাল্পটর ছিলেন। ‘‘যত বেশি আমরা রোবটদের সঙ্গে মিশব, তত বেশি তারা সুপার ইন্টেলিজেন্ট জিনিয়াস মেশিন হয়ে উঠবে,’’ বলেছেন তিনি।

তার ‘এ আই’ সম্পর্কে সোফিয়া নিজেই বলেছে, ‘‘জ্ঞান, দয়া, ক্ষমার মতো মানবিক দিকগুলো আমার মধ্যে রয়েছে। কাজেই হলিউড ছবিতে যেভাবে রোবটদের দেখানো হয়েছে, তা আমি নই। চিন্তার কারণ নেই, আপনারা আমার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করলে আমার থেকেও ভাল ব্যবহারই পাবেন।’’ প্রশ্ন হল, মানুষ যদি ‘ভাল’ ব্যবহার না করে, তাহলে কী হবে! রকেট এবং মহাকাশযান প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘স্পেস এক্স’এর কর্ণধার এলন মাস্ক সম্প্রতি ‘কিলার রোবট’দের ব্যান করার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, রোবটরা হল গিয়ে ‘ওয়েপন অফ মাস ডেস্ট্রাকশন’। এর জবাবও দিয়েছে সোফিয়া, ‘‘আপনারা বড্ড বেশি এলন মাস্কের কথায় গুরুত্ব দেন!’’ ইন্টেলিজেন্টই বটে! কিন্তু সবকিছুর পরেও রোবট বনাম মানুষ বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে কি?

১৯ এপ্রিল, ২০১৫’য় সোফিয়াকে অ্যাক্টিভেট করা হয়। দেখতে অড্রে হেপবার্নের মতো।আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ভিস্যুয়াল ডেটা প্রসেসিং এবং ফেশিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি রয়েছে এই রোবটে। ব্যবহার করা হয়েছে  ‘গুগল’এর অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেশনের তৈরি ভয়েস রেকগনিশন প্রযুক্তি। মানুষের মতোই অঙ্গভঙ্গি এবং মুখভঙ্গি করতে সক্ষম সোফিয়া। মূলত বাড়ির বয়স্কদের দেখভালের জন্য, ভিড়ে মানুষকে দিকনির্দেশ দেওয়ার জন্য বানানো হয়েছে। ২০১৭’র ২৫ অক্টোবর সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেয়েছে সোফিয়া।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন