শিরোনাম :

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের আরো কাছে পৃথিবী


রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:০৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের আরো কাছে পৃথিবী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ সাল থেকে মানবসভ্যতা যন্ত্রের সাহায্যে গণনার করা শুরু করেছিল। এরপর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে নানা ধাপ পেরিয়ে কম্পিউটার ও তার প্রযুক্তির অগ্রগতি অব্যাহত। শুরুর দিকে কম্পিউটার ছিল শুধু একটি গণনা যন্ত্র। নাম অ্যাবাকাস। আর বর্তমান সময় কম্পিউটার বলতে সাধারণভাবে যে যন্ত্রটির অবয়ব আমাদের সামনে ভেসে ওঠে, তা কেবলমাত্র প্রযুক্তিগত বিবর্তনের দীর্ঘ পথ অতিক্রমের ফসল।

অ্যাবাকাস থেকে শুরু করে কম্পিউটার পঞ্চম প্রজন্মের উদ্ভাবন। এ সবকিছু সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তিগত বিবর্তনের কারণে। আর এ বিবর্তনের কারণেই বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম কম্পিউটার আবিষ্কারের খুব কাছে চলে এসেছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার হল এমন একটা কম্পিউটার যেটা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের বিভিন্ন ধর্মকে সরাসরি কাজে লাগিয়ে সব কাজ করে। আরো সহজ ভাষায় বলতে গেলে আজকের কম্পিউটারের তুলনায় বহু গুণ দ্রুত গতিতে সমস্যার সমাধান করতে পারে এমন এক যন্ত্র হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটার।

সাধারণ মানুষেরা এখন যে কম্পিউটার ব্যবহার করে তাকে ক্লাসিক্যাল কম্পিউটার বলা হয়। এখানে ০ এবং ১ দিয়ে সবকিছুর হিসাব করা হয়। আর ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারে তথ্যের একক হলো ‘বিট’। কোয়ান্টাম কম্পিউটারে তথ্যের একক হলো ‘কিউবিট’। সেই কিউবিট একটা ইলেকট্রন হতে পারে, একটা আলোর কণিকা বা ফোটন হতে পারে, ডায়মন্ড বা অন্য কিছুর অণু হতে পারে। কোয়ান্টাম মানেই হলো কোন কিছু ক্ষুদ্রতম অংশ।

কোয়ান্টাম লেভেলের কণিকায় তথ‍্য সংরক্ষণ করা যায়, এদেরকে বলা হয় কোয়ান্টাম ইনফরমেশন। এনট‍্যাঙ্গলমেন্ট, টেলিপোর্টেশন, সুপারপজিশন ইত্যাদি ধর্ম ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান, হিসাব নিকাশ করা সম্ভব। কোয়ান্টাম কম্পিউটারে সব গণনা এভাবেই করা হয়। কোয়ান্টাম কম্পিউটারে এমন অনেক কাজ করা যায় যেগুলো সাধারণ কম্পিউটারে করা যায় না। যেমন পলিনমিয়াল টাইমে প্রাইম ফ্যাক্টরাইজেশন বা লিনিয়ার সার্চের কমপ্লিক্সিটি স্কয়ার রুট এ নামিয়ে নিয়ে আসা, রাসায়নিক বিক্রিয়া সিমুলেট করা ইত‍্যাদি।

কোয়ান্টম কম্পিউটারের অভ্যন্তরে রয়েছে এক ধরনের কম্পিউটার চিপ। আর এ চিপের ভেতরে রয়েছে বেসিক মডিউল। বেসিক মডিউলগুলো আবার লজিক গেট দ্বারা তৈরি। আর লজিক গেট তৈরি হয় কতিপয় ট্রানজিস্টারের সমন্বয়ে। ট্রানজিস্টার হলো কম্পিউটারের ডেটা প্রসেস করার সাধারণ একক। ট্রানজিস্টার মূলত একটি সুইচ যেটা তথ্য প্রবাহকে বন্ধ এবং চালু করতে পারে।

কিন্তু এখনো কোয়ান্টাম কম্পিউটার ল্যাবে তৈরি করা যায়নি। গুগলের কেনা ডি-ওয়েভকে কোয়ান্টাম কম্পিউটার দাবী করা হলেও বেশিভাগ বিজ্ঞানীরা মনে করেন কোয়ান্টাম কম্পিউটার হবার সবগুলো শর্ত ডি-ওয়েভ পূরণ করে না।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে এখন বিস্তর গবেষণা চলছে। থিওরি এবং ব্যবহারিক দুইদিক নিয়ে বিভিন্ন রিসার্চ এজেন্সি এবং ইউনিভার্সিটি কাজ করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি সাসেক্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের মতে তারা কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণের কাছাকাছি চলে এসেছেন। এই কোয়ান্টাম কম্পিউটার পূর্বের সব সুপার কম্পিউটার থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে বলে দাবী করছে বিজ্ঞানীরা। পদার্থ বিজ্ঞানের কোয়ান্টাম সূত্র থেকে মূলত কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করছে বিজ্ঞানীরা।

এছাড়া, বোসন স্যাম্পলিং মেশিন নামে এক কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের এক কোম্পানি। কুড়ির দশকের মাঝামাঝিতে যে আধুনিক ইলেক্ট্রনিক ও ট্রানজিস্টার কম্পিউটারের জন্ম কোয়ান্টাম কম্পিউটার সেগুলোর তুলনায় ১০ থেকে একশ গুণ বেশি গতির বলে দাবি এ কোম্পানির।

এদিকে, বিশ্বের ১৮টি কোম্পানি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি পরিকল্পনা নিয়েছে। যার মধ্যে, গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যায়ারবাস, আলিবাবার মতো বড় কোম্পানিগুলো রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন