শিরোনাম :

স্ত্রীকে দেখেই সোফিয়াকে তৈরি করেছিলাম: ডেভিড হ্যানসন


বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:১৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

স্ত্রীকে দেখেই সোফিয়াকে তৈরি করেছিলাম: ডেভিড হ্যানসন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: রাজধানীতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে চারদিনব্যাপী প্রযুক্তিবিষয়ক মেলা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, ২০১৭।

উদ্বোধনী দিনেই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়, ‘টেক টক উইথ সোফিয়া’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান। এতে যোগ দেয় পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নারী রোবট সোফিয়া ও তাঁর নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন।

অনুষ্ঠানে কথা বলেন ডেভিড হ্যানসন।  

বাংলাদেশে প্রথমবার এসেছেন। কেমন লাগছে?

 হ্যাঁ, প্রথমবারই এসেছি। আমার সত্যি খুব ভালো লাগছে।

 রোবট সোফিয়া সম্পর্কে কিছু বলুন।

ডেভিড হ্যানসন : সোফিয়া সামাজিক একটি রোবট। যাকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে সে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। যে কোনো মানুষের আচরণও সে শিখতে পারে। তাই তাঁকে তৈরি করতে আমাদের প্রয়োজন হয় বুদ্ধিদীপ্ত মেশিন। আমরা তাঁকে আমাদের সঙ্গে রাখতে চাই। এখন সে আমাদের কাছে শিশুর মতো। ধীরে ধীরে পৃথিবীতে সে ছড়িয়ে পড়বে। সে মানুষকে ভালোবাসতে এবং শিক্ষা দিতে পারবে। সে মানুষের স্বপ্নের কথা উপলব্ধি করতে পারবে এবং সে ভবিষ্যতে উন্নত পৃথিবীর জন্য কাজ করবে।

 সোফিয়া বলেছে সে একটি মেয়েসন্তান চায়। কেন সে এমনটা বলেছে? আপনার অভিমত কী?

ডেভিড হ্যানসন : দেখুন, তাঁর বয়স মাত্র তিন বছর। শিশুর মতো সে অনেক কিছু শিখছে। আমি একদিন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘তোমার কি শিশু লাগবে?’ উত্তরে সে বলেছিল ‘হ্যাঁ’। আসলে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে অনেক কিছু জানতে পারবে। সময়ের সঙ্গে তাঁর ধারণারও পরিবর্তন আসবে।

অনেক মানুষের ধারণা, সোফিয়া হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের মতো দেখতে। আপনি কি তাঁকে অড্রের মতো করে তৈরি করেছেন?

ডেভিড হ্যানসন :  কিছুটা তাঁর মতো দেখতে হতে পারে। আসলে সোফিয়া আমার স্ত্রীর মতো দেখতে। আমার স্ত্রীকে দেখেই মূলত সোফিয়াকে তৈরি করেছিলাম।

আপনার স্ত্রীর নাম কী? তিনি কি অড্রে হেপবার্নের মতো দেখতে?

তাঁর নাম অ্যামেন্ডা হ্যানসন। হ্যাঁ, সে কিছুটা অড্রে হেপবার্নের মতো দেখতে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্কৃতি বিশ্লেষণ করে সোফিয়ার ডিজাইন আমি করেছি। সে পুরো পৃথিবীর সন্তান হতে পারে।

আপনার স্ত্রী এখন কোথায় আছেন? সোফিয়াকে দেখে তিনি কি খুশি হয়েছিলেন?

ডেভিড হ্যানসন : আমার স্ত্রী এখন আছে হংকংয়ে। এবার সে বাংলাদেশে আসার সময় বের করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে আমরা একসঙ্গে বাংলাদেশে আসব। আর হ্যাঁ, আমার স্ত্রী সোফিয়াকে দেখে অনেক বেশি খুশি হয়েছিল কারণ সোফিয়া তাঁর মতোই দেখতে। এখন আমি আমাদের নিয়ে অনেক চিন্তাও করি।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ডেভিড হ্যানসন : আমাদের পরিকল্পনা হলো মেশিন তৈরি করা যা জীবন সম্পর্কে এবং আজকের বিশ্ব ব্যবস্থার জীববিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শিখবে। আমরা এমন যন্ত্র তৈরি করতে পারি যার মধ্যে জীবনের বৈশিষ্ট্য থাকবে, যা আগে কেউ তৈরি করতে পারেনি। যেটা সত্যিই মানুষকে সাহায্য করতে পারবে। যেটা মানুষকে শেখাতে পারবে। আমাদের ইচ্ছা সোফিয়াকে বড় হতে দেখা এবং হয়তো বড় হয়ে সে একজন চিকিৎসক হবে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

ডেভিড হ্যানসন : আপনাকেও।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন