শিরোনাম :

যাতায়াতের ধারণা বদলে দিবে হাইপারলুপ


মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

যাতায়াতের ধারণা বদলে দিবে হাইপারলুপ

প্রযুক্তি ডেস্ক: হাইপারলুপ সিস্টেম এমন ভাবে বানানো যাবে যাতে এটি ঘণ্টায় ১২০০ কিলোমিটার বেগে চলতে পারবে। আর এটা সম্ভব হলে ৬১৪ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টেসলা মোটরস আর মহাকাশ ভ্রমণ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলন রিভ মাস্ক বিশ্বের পাবলিক যাতায়াত ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন।

গত বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় স্পেসএক্সের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রোগ্রামে এলন মাস্ক বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থার একটা নতুন ধারণা সবার সামনে তুলে ধরেন। ‘হাইপারলুপ’ নামে এই পুরো ব্যবস্থা মানুষের তথাকথিত যাতায়াতের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিবে এবং এলন মাস্ক মনে করেন যে এই যাতায়াত ব্যবস্থা মানুষের আসন্ন জীবনকে অনেকটাই বদলে দিবে। কিন্তু ‘হাইপারলুপ’ নামক আন্তনগর যাতায়াত ব্যবস্থাটি কি আসলেই বাস্তববাদী কোন পরিকল্পনা নাকি শুধুই একজন কোটিপতি বিনিয়োগকারীর দিবাস্বপ্ন?

১৮২৯ সালে উত্তর ইংল্যান্ডে লিভারপুল আর ম্যানচেস্টারে রেল যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতা থেকে যাতে ঐ স্থানের জন্য সবচেয়ে ভাল চলাচলের জন্য কি উপায় তার ধারণা পাওয়া যায় এতে অংশগ্রহণকারী দের কাছ থেকে। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩৪ কিলোমিটার যেতে পারে এইরকম একটা ক্যাপসুল আকৃতির ইঞ্জিন বানিয়ে প্রথম পুরষ্কার অর্জন করেন জর্জ স্টিফেসন নামে এক ব্যক্তি। আর এইটাই ছিল প্রথম জনপ্রিয় বাস্পচালিত ইঞ্জিন যার মাধ্যমে ইংল্যান্ডে এবং ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়ার ব্যবস্থার এক বিশাল পরিবর্তন আসে। আর সেই থেকে দুই শতক পরে এরকমই এক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যুগান্তকারী উদ্ভাবনী ভাবনাকে বাস্তব করে মানুষের নজরে এনেছেন এই এলন রিভ মাস্ক।

হাইপারলুপ হল সৌর শক্তি চালিত উচ্চগতি সম্পন্ন ইঞ্জিন বা মোটর। কিন্তু কিভাবে কাজ করে এই হাইপারলুপ? আসলে হাইপারলুপের এই সিস্টেম দুইভাগে বিভক্ত থাকবে একটি অংশ হল আংশিক ভ্যাকুয়াম টিউব আর অন্যটি হল পড বা যাত্রীবাহী যান। আর লিনিয়ার আবেশ মোটর দ্বারা পড টি চালিত হয়। এই পড টি অনেক বেশি গতিতে চালিত হবে কারণ তা ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্যে দিয়ে যাবে ফলে কোন ধরণের ঘর্ষণ একে ব্যাহত করতে পারবে না। হাইপারলুপ ট্র্যাক নির্মাণে খরচ হবে ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার।

সারা বিশ্ব থেকে আসা প্রকৌশলীরা স্পেস এক্সের নিজস্ব আংশিক ভ্যাকুয়াম টিউবের মধ্যে দিয়ে তাদের তৈরি পডের প্রটোটাইপ চালায় এই প্রতিযোগিতায়। বর্তমানে পৃথিবীর দ্রুততম ট্রেনটি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিমি বেগে চলে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রকৌশলীরা আশা করেন যে এই হাইপারলুপ সিস্টেমকে এমন ভাবে বানানো যাবে যাতে পডটি ঘণ্টায় ১২০০ কিমি বেগে চলতে পারবে। আর আসলেই যদি এরকম হয় তাহলে ইউ এসের লস এঞ্জেলেস থেকে সান ফ্রান্সিসকো কিংবা জার্মানির মিউনিখ থেকে বার্লিন পর্যন্ত ৬১৪ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগবে মাত্র ৩০ মিনিট। কিন্তু প্রতি ঘন্টায় ১২০০ কিমি পথ পাড়ি দেয়া তাও আবার যাত্রী নিয়ে, এইটাই হবে হাইপারলুপ কে বাস্তবায়িত করার সবচেয়ে বড় বাঁধা। আর্থিক আর প্রকৌশলগত সমস্যা ছাড়াও আরও অনেক পারিপার্শ্বিক পরিবেশগত সমস্যা, যাত্রীদের নিরাপত্তাজনিত অনেক বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে হাইপারলুপ নামের স্বপ্নকে সত্যিতে রূপ দিতে গেলে।

২০০৮ থেকে এখন পর্যন্ত এলন মাস্ক যতগুলো প্রোজেক্ট হাতে নিয়েছে প্রথম তিনটি ব্যতীত সবগুলোই সফল। প্রথম তিনবার ব্যর্থ অভিযানের পর স্পেসএক্স এখন পর্যন্ত ২০ টি রকেট উৎক্ষেপণ করেছে যার প্রত্যেকটি সফল হয়েছে। পে-প্যাল, টেসলা মটরস সহ স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজি, জিপ২ এবং সোলার সিটি সহ এতগুলো সফল ব্যবসার উদ্যোক্তা থেকে হাইপারলুপের মত প্রকল্পের বাস্তবায়ন আশা করা কল্পনাতীত কিছুই নয়। তবে এইটা সত্য যে হাইপারলুপের বাস্তবায়ন হলে বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যমাত্রা যোগ করবে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন