শিরোনাম :

শিশু সামলাবে রোবট


শনিবার, ১৬ জুন ২০১৮, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শিশু সামলাবে রোবট

বিজ্ঞান ডেস্ক: গোলাকার মুখ, পায়ে আছে চাকা। পুরো শরীরের কিছু কিছু জায়গায় দেখা যায় গোলাপি বা নীল রঙের ছটা। এর বুকে থাকা ছোট্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে শিশুদের সঙ্গে কথা বলতে পারে এটি। এর নাম ‘আইপাল’। এই রোবট বাচ্চা সামলাতে তৈরি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, আইপাল নামের এই রোবট তৈরি করা হয়েছে চীনে। এটি দুটি ভাষায় কথা বলতে পারে। গণিতের হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের কৌতুকও শেখাতে পারবে আইপাল। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, শিশুদের আদর্শ সঙ্গী হতে পারবে এই রোবট।

চলতি সপ্তাহে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত ‘কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো এশিয়া’তে আইপাল নামের রোবটটি প্রদর্শিত হয়েছে। বলা হচ্ছে, একা থাকা শিশুদের সঙ্গ দেওয়া ও প্রাথমিক শিক্ষার কাজে সাহায্য করবে এই রোবট। পাঁচ বছর বয়সের শিশুর সমান উচ্চতার আইপাল চাকার সাহায্যে চলাফেরা করতে পারে এবং নাচতেও পারে। এই রোবটের আছে মানুষের মুখাবয়ব চিহ্নিত করার ক্ষমতা।

আইপালের বুকে লাগানো স্ক্রিনের মাধ্যমে শিশুকে দূর থেকে দেখতেও পারবেন বাবা-মা। এভাবে বাড়ির বাইরে থেকেও শিশুর প্রতি লক্ষ রাখা যাবে। এর জন্য স্মার্টফোনে একটি অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা থাকতে হবে।

রোবটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাভাটারমাইন্ড রোবট টেকনোলজির সহপ্রতিষ্ঠাতা তিংগু হুয়াং বলেন, ‘এই রোবট তৈরির প্রধান লক্ষ্য ছিল, শিশুদের জন্য সঙ্গী তৈরি করা। যখন একটি শিশু রোবটটিকে দেখবে, তখন একে বন্ধু মনে করবে। পরিবারের অন্য একটি সন্তান বলে মনে করবে।’

আইপাল নামের রোবট কিনতে খরচ পড়বে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ডলার। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক মাইক স্টোন এমন একটি রোবট কিনতেই সাংহাই এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এগুলো খুবই সুন্দর। আমি ভাবছিলাম, আমার দুই বছর বয়সের মেয়ে এটি দেখলে বেশ খুশি হবে।’

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তা হুয়াং আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না বাবা-মা বা শিক্ষকের জায়গা রোবট নিতে পারবে। তবে আইপাল অভিভাবকদের বোঝা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারবে।’

চীনে বড় পরিবারের সংখ্যা অনেক। একসন্তান নীতির কারণে শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্নআত্তি নেওয়ার বিষয়ে সেখানকার তরুণ বাবা-মারা প্রায়ই সমস্যায় পড়েন। তবে ২০১৬ সালে একসন্তান নীতি তুলে নেয় চীনের সরকার।

অ্যাভাটারমাইন্ড শিগগিরই আরেকটি নতুন রোবট বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ওই রোবটটি বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলতে পারবে। এ ছাড়া ওই রোবট বয়স্ক ব্যক্তিদের ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেবে এবং প্রয়োজনে সহায়তা চেয়ে হাসপাতালে ফোনও করতে পারবে।

‘মেড ইন চায়না ২০২৫’ পরিকল্পনা সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে বেইজিং। দেশটির বিভিন্ন কারখানায় এখন মানব আকৃতির রোবট তৈরি করা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন