শিরোনাম :

রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে ইন্টারনেট বন্ধ


মঙ্গলবার, ৭ আগস্ট ২০১৮, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে ইন্টারনেট বন্ধ

ঢাকা:অপপ্রচার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'কন্টেন্ট ফিল্টারিং' করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেছেন, 'রাষ্ট্র বা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনে ক্ষুদ্রতম কোরবানি দিতে হবে। আগে তো রাষ্ট্র বাঁচাতে হবে।'

সোমবার ঢাকার র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে 'আইটিইউ বিটিআরসি এশিয়া-প্যাসিফিক রেগুলেটরস রাউন্ড টেবিল-২০১৮'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, 'বর্তমানে ফেসবুকে ফিল্টারিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো কন্টেন্ট বাদ দিতে বা কোনো বিষয়ে ফেসবুককে শুধু অনুরোধ করা যায়। তারা সরকারের সব কথা শোনে না। তাই টেলিকম বিভাগের মাধ্যমে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি শেষ হলে সরকার সম্পূর্ণভাবে কন্টেন্ট ফিল্টারিং অথবা যে ধরনের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা দরকার, সেগুলো করতে সক্ষম হবে।'

গত শনিবার সন্ধ্যার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেটের ফোরজি ও থ্রিজি সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আগামী নির্বাচনের সময় বা ইতিমধ্যে কোনো ঘটনা ঘটলে সরকারের আবারও ইন্টারনেট বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করলে মন্ত্রী বলেন, 'যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, রাষ্ট্র কিংবা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে তখন প্রযুক্তির দিকে তাকিয়ে থাকা সম্ভব নয়। বৃহত্তর স্বার্থে জন্য ক্ষুদ্রতম স্বার্থ ত্যাগের মানসিকতা রাখতে হবে।

মোবাইল অপারেটরদের নিরীক্ষার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, 'কোনো ধরনের ছাড় কোথাও দেওয়া হবে না, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।'

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টেলিকম সংস্থার (এপিটি) উদ্যোগে এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির যৌথ আয়োজনে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আয়োজিত এ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যামসুন্দর শিকদার এবং বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক, আইটিইউর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক আইওয়ান করোইভুকি এবং এপিটির মহাসচিব আরিওয়ান হাওরাংসি বক্তব্য দেন।

দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ইকো-সিস্টেম, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি উন্নয়নের বাধাসমূহ এবং এর প্রতিকার, নতুন নতুন প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ এবং এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর করণীয়, সবার জন্য ব্র্যান্ড সেবা, লিগ্যাল এবং রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান, অপারেটর ও টেলিকম প্রতিনিধি এবং আইসিটি বিশেষজ্ঞ মিলিয়ে প্রায় ১৩০ জন প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন