শিরোনাম :

মিলন ছাড়াই দুই সিংহশাবকের জন্ম


সোমবার, ১ অক্টোবর ২০১৮, ১২:২১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মিলন ছাড়াই দুই সিংহশাবকের জন্ম

ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী প্রিটোরিয়া থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে। বনকর্মীদের কড়া নজরদারিতে চলা বিশেষ সংরক্ষণ কেন্দ্র। তার ভিতরেই নিজেদের মধ্যে খুনসুটিতে ব্যস্ত দুই সিংহশাবক। নাম তাদের ভিক্টর আর ইসাবেল বয়স মেরেকেটে এক মাস। সদ্য ফোটা চোখ নিয়েই হুজ্জুতিতে মেতে আছে দুই খুদে চারপেয়ে। এমন একটি দৃশ্য মন ভালো করা হলেও, এতে অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন। বরং মনে হতেই পারে, এটাই তো স্বাভাবিক!

কিন্তু, ২৫ অাগস্ট জন্ম নেওয়া এই দুই সিংহশাবক একেবারেই স্বাভাবিক নয়। কোনও সাধারণ প্রজনন প্রক্রিয়ায় তাদের জন্ম হয়নি। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে এই দুই শাবককে জন্ম দিয়েছে ওই সংরক্ষণ কেন্দ্রের এক সিংহী। পৃথিবীতে এই প্রথম। এই পদ্ধতির নাম ‘আর্টিফিশিয়াল ইনসেমিনেশন’। কী ভাবে আফ্রিকার সিংহীদের কৃত্রিম উপায়ে প্রজনন করানো সম্ভব, তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা করছেন প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

ভিক্টর ও ইসাবেল সেই গবেষণার প্রথম সাফল্য। অাগস্টেই জন্ম হয়েছে দুই শাবকের। তবে তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

এই গবেষক দলের প্রধান অন্দ্রে গনসউইন্থ জানিয়েছেন, গত ১৮ মাস ধরে এর উপর কাজ করছিলেন গবেষকরা। সংরক্ষণ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবান একটি সিংহের শুক্রানু এই প্রকল্পের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। যে সিংহীর উপর প্রয়োগ করা হবে তার উপর বিশেষ ভাবে নজর রাখা হচ্ছিল। যে সময় তার হরমোনের মাত্রা কাঙ্ক্ষিত স্তরে পৌঁছায়, সেই সময়ই ওই শুক্রানু তার শরীরে প্রবেশ করানো হয়। প্রথম উদ্যোগেই সাফল্য! গবেষকদের আশা, এভাবে শুধু সিংহেরই নয়, অন্যান্য বিপন্ন পশুদেরও অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। যা নিঃসন্দেহে আগামী দিনে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হবে।

আগে প্রজননের জন্য সিংহকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে হত। তাতে অনেক হ্যাপা ছিল। কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শুক্রানু নিয়ে যেতে হবে। এর আগে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে সংরক্ষিত অরণ্যে থাকা হাতিদের বংশবিস্তারের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগের সাফল্যে পশুপ্রেমীরা, বিশেষত মুক্ত বন্যপ্রানের পক্ষে যাঁরা, তাঁরা খুব একটা খুশি নন। তাঁদের বক্তব্য বন্দিদশায় মশা-মাছির মতোই সন্তান জন্ম দেয় বাঘ-সিংহ, তাতে প্রকৃত সংরক্ষণ ব্যবস্থার কোনও লাভ হয় না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন