শিরোনাম :

পৃথিবী আলুর আকৃতির মতো


বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০১৫, ১০:১২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পৃথিবী আলুর আকৃতির মতো

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক নজর দেখলে মনে হতে পারে আলুর আকৃতির কোনো গ্রহাণু মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। এই রংবেরঙের ছবিটি আসলে আমাদের এই পৃথিবীর। এই ছবিতে বোঝা যায় কিভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মহাকর্ষের তারতম্য ঘটে।

মিউনিখের একটি সম্মেলনে জিওসিই(GOCE) উপগ্রহের তোলা এই ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়। এখনো পর্যন্ত মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যে সমস্ত ছবি তোলা হয়েছে তার মধ্যে এই ছবিগুলোই সবথেকে নিখুঁত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই জিইওআইডি (geoid) ম্যাপ ব্যবহার করা হয় ঢেউ বা কারেন্ট ছাড়া মহাসাগরগুলি কেমন দেখতে লাগে তা বুঝতে। brrtউজ্জ্বল হলুদ রঙের অংশগুলিতে মহাকার্ষ সর্বাধিক। অন্যদিক, নীল রঙের অংশে মহাকর্ষ সব থেকে কম।

মিউনিখের Technische বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোনমিকাল অ্যান্ড ফিসিকাল জিওডেসির প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক রেনি রুমেল জানিয়েছেন, জিওসিই লাগাতার অসাধারণ ডেটা পাঠাচ্ছে। দু'মাস অন্তর অন্তর আমাদের জিওসিই গ্র্যাভিটি ফিল্ড মডেল উন্নততর হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, এই উপগ্রহের মাধ্যম প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে ধারণা আরও স্পষ্ট হবে। ভবিষ্যতে এই ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় যা অত্যন্ত সহায়ক হবে।

মহাকাশ থেকে সরাসরি টেকটনিক প্লেট মুভমেন্ট বোঝা না গেলেও এই গ্র্যাভিটি ডাটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতেও সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ghoroএদিকে, নিক্স আর হাইড্রা। প্লুটোর এই দুই চাঁদ একেবারে অনবরত ঘুরছে। পুরো মহাকাশের গ্রহদের সব চাঁদরা যখন কক্ষপথে একই গতিতে একই নিয়ম মেনে ঘুরে চলে। তখন ওই দুটো মানে নিক্স আর হাইড্রা ঘোরে আপন খেয়ালে। ওদের আচার আচরণ দেখে নাম দেওয়াই যায় স্বাধীন চাঁদ।

নাসার এক গবেষণায় দেখা গেছে, সৃষ্টি ছাড়া এই দুই চাঁদ কখনো ঘোরে খুব জোরে, কখনো খুব আস্তে। কখনো আবার উল্টো দিকে, কখনো পাশাপাশি, কখনো আবার স্বাভাবিক নিয়মে।

এর জন্য পৃথিবী থেকে যেমন চাঁদের একটা দিকই দেখতে পাওয়ায়, তেমন যদি বাস প্লুটোয় হত তাহলে নিক্স আর হাইড্রা নামের স্বাধীন ওই দুটো চাঁদকে প্রতিরাতে আলাদা আলাদা রকম দেখা যেত।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্লুটোর এই দুটো চাঁদ লুকিয়ে রাখা কোনো অংশ নেই। প্লুটোর আরো দুটো চাঁদ কেরবেরস ও স্টাইক্সও হয়তো আপনতালে খামখেয়ালি হয়ে ঘোরে বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে। যদিও এই ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায় নি নাসা।

উল্লেখ্য, নিক্স এবং হাইড্রা চাঁদদ্বয় আবিষ্কৃত হয় ২০০৫ সালে। দুটো চাঁদই হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে আবিষ্কার করা হয়। প্লুটোর সবচেয়ে বড় চাঁদ আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। হাবল টেলিস্কোপ এ গ্রহের অন্য তিনটি চাঁদ সনাক্ত করেছিল ২০০৬ ও ২০১১ সালে। এই উপগ্রহগুলোর নাম নিক্স, হাইড্রা ও পি-ফোর। প্লুটো গ্রহটি ১৯৩০ সালে আবিস্কৃত হয়েছিল। মার্কিন বিজ্ঞানী ক্লাইড টমবাগ এটি আবিস্কার করেন।

সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে বিবেচিত হয়েও ২০০৯ সালে একে গ্রহের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট বাংলাপ্রেস/এএইচ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন