শিরোনাম :

কক্সবাজার বিমানবন্দরে মুবিলাইজেশনের কাজ চলছে


বুধবার, ৫ আগস্ট ২০১৫, ০২:০৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কক্সবাজার বিমানবন্দরে মুবিলাইজেশনের কাজ চলছে

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুবিলাইজেশনের কাজ চলছে। ৩ আগষ্ট থেকে একাজ শুরু হয়েছে। শেষ হতে আরো ৪/৫ মাস লাগবে। এরপর শুরু হবে মূল কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কুরিয়ান কোম্পানী ‘হল্লা করপোরেশন’।

প্রকল্প পরিচালক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, ইতিমধ্যে নির্মাণ সামগ্রী আনা শুরু হয়েছে। এখন সেটআপ এর কাজ চলছে। প্রকল্পটি অনেক বড়, তাই মুবিলাইজেশন কাজ শেষ হতে সময় লাগতে পারে। তাছাড়া এক মাস আগে উদ্বোধন হলেও বর্ষার কারণে একটু বিলম্ব হয়েছে।

২ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে’র মাধ্যমে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার আওতায় প্রথম পর্যায়ে বিমানবন্দরের রানওয়ে বর্ধিতকরণ ও প্রশস্ত করণের পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে ৩০ মাস।

বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফুট করা হবে। প্রস্থ বাড়িয়ে ১৫০ ফুট থেকে করা হবে ২০০ ফুট। স্থাপিত হবে নতুন ভিওআর, ডিএমই, আইএলএস, এয়ার ফিল্ড গ্রাউন্ড ও লাইটিং সিস্টেম। প্রথম ধাপের এই উন্নয়ন কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

রানওয়ের লাইটিং ফ্যাসিলিটিজও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি নেভিগেশন এইড বাজানো হবে । উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলে বড় আকারের ফাইট ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেয়া যাবে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, বর্তমানে যে রানওয়ে রয়েছে তাতে এখন ছোট বিমান ছাড়া অন্য কোনো বিমান নামলে রানওয়ে দেবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেই কারিগরি দিকগুলোই মূলত বেশি প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি যাত্রী ও বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাটাই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সুত্রে আরো জানা যায়, পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করা, সমুদ্রসীমা রক্ষা, কক্সবাজারের উন্নয়নসহ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে সুপরিসর বিমান চলাচল নিশ্চিতকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। সোনাদিয়া দ্বীপে হবে গভীর সমুদ্রবন্দর।

তারা মনে করেন, তখন বিমানবন্দরের গুরুত্বও আরো বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। বাণিজ্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি পর্যটনের প্রসার ঘটবে যথেষ্ট। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারের স্থানীয় পর্যায়ের বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপানন্তর করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

সূত্র মতে, ২০০৯ সালের অক্টোবরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ‘কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প’ যাত্রা শুরু হয়। প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ২০১৩ সালের জুন মাসে সমাপ্তির কথা উল্লেখ করা হয়।

মহাপরিকল্পনার আওতায় দ্বিতীয় ধাপের কাজের জন্য ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ২০১৩ সালে। ডেভেলপমেন্ট অব কক্সবাজার এয়ারপোর্ট’ প্রকল্প নামে ৩০২ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রথম ধাপের কাজ ২০১২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে তা হয়নি। অবশেষে চলতি সনের ২ জুন প্রথম দফায় সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন হয়।

এদিকে ‘বিমানবন্দরটি কে আধুনিকায়ন করা হলে অন্তত ৪০ হাজার জলবায়ু উদ্বাস্তু অধিবাসী বসত ভিটাচ্যুত হবে’ এমন বিভ্রান্তি মূলক গুজবও ছড়িয়ে দেওয়া হয় এলাকায়। ফলে ভিটেমাটি হারানোর আশংকায় স্থানীয়রা জোট বেঁধে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও উন্নীতকরণের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। অথচ তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করছে সরকার। বর্তমানে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। কক্সবাজার আন্তর্জাাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, এক মাস আগে উদ্বোধন হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসতে সময় হয়েছে। নির্মাণ সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট লোকজন ইতিমধ্যে কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছেন। কাজ শুরু হবে। বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমবি

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন