শিরোনাম :

রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগ


শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০১৫, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগ

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ফরম সংকটের অজুহাতে ভোটার হতে ইচ্ছুদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মোটা অংকের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করারও অভিযোগ ওঠেছে। একাজে তথ্য সংগ্রহকারী ছাড়াও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা অভিযোগ গেছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে।

এ অভিযোগে শুক্রবার সকাল দশটায় জেলা নির্বাচন অফিসে ডাকা হয়েছে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে। তাদের কাছে উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এ দিকে বাড়ী বাড়ী গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেনা নিয়োজিত ব্যক্তিরা। মহল্লার কোন একটি বাড়ী বা স্কুলের কোনায় বসে দায়সারাভাবে চালিয়ে দিচ্ছে তথ্য সংগ্রহের কাজ। এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি।

কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ৬ নং ওয়ার্ডে ভোটার হালনাগাদ সুপারভাইজার বশির আহমদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে ফরম সংকটের অযুহাত টাকাও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পূর্ব বামনকাটা এলাকার মনসুর আলম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ভোটার হতে গেলে ৭০০ টাকা দাবী করেন বশির স্যার। পরে ৩০০ টাকা দিলে আমাকে ফরম দেয়া হয়।’ একই অভিযোগ করেছেন মুরশেদ, ফারুক, জামালসহ অন্তত বিশজন ভুক্তভোগীরা।

তবে অভিযুক্ত সুপারভাইজার মাস্টার বশির আহমদ বলেন, ‘আমি ফরম পূরণের কাজ করিনা। মিল্টন পাল, সেতেরা বেগম, ছৈয়দুল আলম ও কামরুল হাসান তথ্য সংগ্রহ করছেন। এ বিষয়ে তারাই ভাল জানবেন। রোহিঙ্গা ভোটার করা ও ফরমের জন্য টাকা আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়।’

ইউপি সদস্য নুরুল আলম লিটন বলেন, ‘এরকম অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আব্দুর রশিদ নামে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ফরমের জন্য ৫ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। টাকা না দিতে পেরে প্রতিদিন অনেক লোক ফেরত যাচ্ছে।’

কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিণ কুতুবদিয়া পাড়ার মাস্টার কামালও রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। একই এলাকার বসবাসরত রোহিঙ্গা মোঃ সালাম পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ভোটার হওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে রোহিঙ্গা মোঃ সালাম বলেন, ‘মাস্টার চাচা পাঁচ হাজার টাকা লাগবে বলেছে। আমি দুই হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা পরে দেব বলেছি।’ শুধু রোহিঙ্গা সালাম নয়, এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন রোহিঙ্গাকে ভোটার নিবন্ধন করে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে মাস্টার কামালের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও মাস্টার কামাল মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।’

বেরং পাড়ার বসবাসরত রোহিঙ্গা মোঃ ছৈয়দ মাঝি, মোঃ ইউসুফ প্রকাশ কালু মাঝি ও নবী হোছেন ১নং ওয়ার্ডে ভোটার হতে না পেরে ২নং ওয়ার্ডে গিয়ে ভোটার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমানকে ম্যানেজ করে ভোটার নিবন্ধন ফরম জমা দিয়েছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কাউন্সিলর মিজানুর রহমানকে ফোন করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মেছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘দুইজনের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের ব্যাখা চাওয়া হয়েছে। এ জন্য শুক্রবার সকাল দশটায় তাদেরকে জেলা নির্বাচন অফিসে ডাকা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ পর্যন্ত ফরম সংকটের কথা কেউ আমাদের বলেনি। এরপরও খোঁজ নিয়ে দ্রুত সমাধান করা হবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অতীতেও রোহিঙ্গারা ভোটার হয়েছেন। তাদের সহায়তাকারী হিসাবে ৪০ জন জনপ্রতিনিধিকে সরকারীভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভোটার করা দেশদ্রোহীতার শামিল। এ কাজে জড়িতদের কঠিন শাস্তি দেয়া দরকার।

নির্বাচনের অফিসের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার সদরে বিদ্যমান ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৫৯ জন, উখিয়া উপজেলায় ১ লাখ ১১ হাজার ৬৪১ জন এবং মহেশখালীতে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৫২ জন।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে নতুন ভোটারদের সনদের জন্য যেতে হচ্ছে পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে। আর ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওসব ইউনিয়ন ও পৌরসভাগুলোতে চলছে জন্ম, মৃত্যু ও জাতীয় পরিচয়পত্র বাণিজ্যের মহোৎসব। চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে ভোটার তালিকা হতে আগ্রহীদের।

বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এআর

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন