শিরোনাম :

প্রস্তুত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান


শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০১৫, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

প্রস্তুত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

মোহাম্মদ মামুন কবীর: প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। এরইমধ্যে জামাতের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ঈদের জামাতকে সামনে রেখে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মাঠ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নসহ সার্বিক সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। কর্মীরা মেহরাবের চুনকাম, মাঠে দাগ কাটার কাজ ও ওজুখানা পরিস্কার করেছেন। শোলাকিয়া মাঠ থেকে এবারও জামাত সরাসরি সম্প্রচার করবে বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন।

সকাল ১০টায় শোলাকিয়ায় ১৮৮ তম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করবেন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসউদ।

প্রায় তিনশ’ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশাল এই জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে বন্দুকের তিনটি গুলি ফুটিয়ে সতর্ক করা হয়। এরপর তিন মিনিট আগে ২টি এবং নামাজ শুরুর এক মিনিট আগে ১টি গুলি ফুটিয়ে নামাজের নিয়ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই রীতি চলে আসছে শোলাকিয়া ঈদের মাঠে।

ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ দেশবাসিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামাত নির্বিঘ্ন করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে থাকছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি)। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে থাকবে র‌্যাব-পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশি করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। এরই মধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

শোলাকিয়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফর উল্লাহ জানান, ঈদগাহ মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশ-বিদেশের মুসল্লিদেরকে গ্রহণ করতে শোলাকিয়া মাঠ পরিচালনা কমিটি ও কিশোরগঞ্জবাসী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান মাঠ পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু এটি একটি ঐতিহাসিক মাঠ এবং লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এছাড়াও গাড়ি পার্কিং এর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে।’

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে। শোলাকিয়ায় ১৮২৮ সালে ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হলেও এর যাত্রা শুরু হয় ১৭৫০ সালে। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হযরত খানের উত্তরসূরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪.৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহে ওয়াকফ করে দেন। বর্তমানে এ জায়গার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ একর। যা আগত মুসল্লিদের মাত্র অর্ধেকের বেশি ধারণ করতে পারে।

জনশ্রুতি আছে, ঈদগাহ মাঠে ১ম বড় জামাতে সোয়া লাখ লোক অংশ নিয়েছিলেন। যে কারণে এর নামকরণ করা হয় সোয়ালাকিয়া। মাঠের দৈর্ঘ্য পূর্ব পশ্চিমের দক্ষিণ পার্শ্ব ৯১৪ ফুট, উত্তর সীমারেখা ৭৮৮ ফুট। প্রস্থ উত্তর দক্ষিণে পশ্চিম সীমা রেখা ৩৩৫ ফুট ও পূর্ব সীমা রেখা ৩৬১ ফুট। মাঠের ভেতরে ২৬৫টি কাতার (লাইন) রয়েছে। শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতো বেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নামাজ পড়তে আসেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামাতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। ভারতসহ মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন।

মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতিবছরের মতো এবারও থাকছে শোলাকিয়া স্পেশাল নামের দু’টি বিশেষ ট্রেন। সকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে একটি ট্রেন ছেড়ে কিশোরগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এছাড়াও ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ স্টেশনে আসবে সকাল ৮টায়। দু’টি ট্রেনেই দুপুর ১২টার দিকে ছেড়ে যাবে।

জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতি লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসে আসছে।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি আজও ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার।

বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এপি

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন