শিরোনাম :

ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত


মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০১৫, ০৮:৫১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত

মোহাম্মদ মামুন কবীর: প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। লাখ লাখ মুসুল্লির সমবেত অংশগ্রহণে এবারও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হল দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। জামাত শেষে দেশ, বিশ্ব মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়। দোয়ায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। এতে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ সামিল হয়। শোলাকিয়া মাঠ থেকে এবারও জামাত সরাসরি সম্প্রচার করে বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন। সকাল ১০টায় শোলাকিয়ায় ১৮৮ তম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করেন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসউদ। প্রায় তিনশ’ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশাল এই জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে বন্দুকের তিনটি গুলি ফুটিয়ে সতর্ক করা হয়। এরপর তিন মিনিট আগে ২টি এবং নামাজ শুরুর এক মিনিট আগে ১টি গুলি ফুটিয়ে নামাজের নিয়ত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই রীতি চলে আসছে শোলাকিয়া ঈদের মাঠে। ঈদ জামাতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ দেশবাসিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এবারও শোলাকিয়া মাঠে দেশ-বিদেশের লাখো-লাখো মানুষের ঢল নামে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামাত নির্বিঘ্ন করতে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠের বিভিন্ন প্রবেশ পথে বসানো হয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি)। মাঠের প্রতিটি প্রবেশ পথে ছিল পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশি করা হয় মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে। শোলাকিয়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফর উল্লাহ জানান, ঈদগাহ মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে পেরে সবাইকে ধন্যবাদ জানান। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুসল্লিরা যাতে, নির্ভয়ে এবং নিরাপদে শোলাকিয়া মাঠে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। যেকোন ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মাঠে অবস্থান করেন।’ জনশ্রুতি আছে, ঈদগাহ মাঠে ১ম বড় জামাতে সোয়া লাখ লোক অংশ নিয়েছিলেন। যে কারণে এর নামকরণ করা হয় সোয়ালাকিয়া। মাঠের দৈর্ঘ্য পূর্ব পশ্চিমের দক্ষিণ পার্শ্ব ৯১৪ ফুট, উত্তর সীমারেখা ৭৮৮ ফুট। প্রস্থ উত্তর দক্ষিণে পশ্চিম সীমা রেখা ৩৩৫ ফুট ও পূর্ব সীমা রেখা ৩৬১ ফুট। মাঠের ভেতরে ২৬৫টি কাতার (লাইন) রয়েছে। শোলাকিয়া ঈদগাহে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লির সমাবেশ ঘটে। ঈদের নামাজ মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামায়াতে মুসল্লি যতো বেশি হয় ছওয়াব ও ততো বেশি হয় ও গোনাহ মাফ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নামাজ পড়তে আসেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের এ বিশাল জামাতে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসংখ্য মুসল্লির সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসলমান নামাজে অংশগ্রহণ করেন। ভারতসহ মিশর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু মুসল্লিও প্রতিবারই এ মাঠে নামাজ পড়তে আসেন। জামাতের সঙ্গে সঙ্গে ময়দানের পশ্চিম দিকে বসা ঈদ মেলাটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই মেলায় বেতের সুন্নতি লাঠিসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রির সাজানো পসরা মুসল্লিদের আকৃষ্ট করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই শোলাকিয়া মাঠের এই মেলাটি বসে আসছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠানের ফলে আজ এটি ঐতিহাসিক স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে এর গুরুত্ব বেড়ে গেছে বহুগুণ। তাই সবার দৃষ্টি ময়দানের দিকে। এ কারণে সময়ের দাবি শোলাকিয়া ময়দানকে আরো আকর্ষণীয় ও উপযোগী করে গড়ে তোলার। বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন