শিরোনাম :

‘স্বপ্ন সেটা যেটা ঘুমোতে দেয় না’


মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০১৫, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

‘স্বপ্ন সেটা যেটা ঘুমোতে দেয় না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: 'স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখো। স্বপ্ন সেটা যেটা তোমায় ঘুমোতে দেয় না।’ 'যদি তুমি তোমার কাজকে স্যালুট কর, দেখো তোমায় আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না। কিন্তু তুমি যদি তোমার কাজকে অসম্মান কর, অমর্যাদা কর, ফাঁকি দাও, তাহলে তোমায় সবাইকে স্যালুট করতে হবে।' কিংবা ‘প্রতিদিন সকালে এই পাঁচটা লাইন বলো- ১) আমি সেরা। ২) আমি করতে পারি, ৩) ভগবান সব সময় আমার সঙ্গে আছে, ৪) আমি জয়ী, ৫) আজ দিনটা আমার।’

এমন অসংখ্য উপদেশবাণী দিয়েছেন সেই সার্বজনীন শিক্ষক। যিনি জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিমগ্ন থেকেছেন জ্ঞান অন্বেষণে পাশাপাশি অনুপ্রণিত করেছেন বিশ্বের হাজার হাজার অনুরাগীকে। তিনি এপিজে আবদুল কালাম। সামান্য এক মৎসজীবীর ঘরে জন্ম নিয়েও যিনি গোটা বিশ্বের মন জয় করতে পেরেছিলেন।

Apjভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ এপিজে আবদুল কালাম ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর রামেশ্বরমের এক তামিল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম আবুল পাকির জয়নুল আবদিন আবদুল কালাম । তাঁর বাবা জয়নুল আবদিন পেশায় নৌকাচালক ছিলেন, মা আশিয়াম্মা গৃহবধূ। শৈশব থেকেই চরম দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন এবং অতি অল্প বয়সেই পরিবারের অন্নসংস্থানের জন্য রোজগারের পথে নামতে হয় তাঁকে। স্কুল ছুটি হওয়ার পর এজন্য সংবাদপত্র বিক্রির কাজ করতেন তিনি।

রমানাথপুরম শোয়ার্টজ ম্যাট্রিকুলেশন স্কুলের পাঠ শেষ করে তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফ্‌স কলেজে ভর্তি হন আবদুল কালাম। ১৯৫৪ সালে এই কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক হন তিনি। স্বপ্ন ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার পাইলট হওয়ার। তবে অল্পের জন্য স্বপ্নভঙ্গ হয় তাঁর।

১৯৬০ সালে তিনি ম্যাড্রাস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দেন আবদুল কালাম। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ছোট হেলিকপ্টারের নক্সা তৈরি করে তিনি সাড়া ফেলে দেন তিনি। পাশাপাশি বিক্রম সারাভাইয়ের অধীনে INCOSPAR কমিটির সদস্য হিসেবে কর্মরত থাকেন।

১৯৬৯ সালে আবদুল কালামকে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে (ইসরো) বদলি করা হয়। সেখানে ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান প্রকল্প SLV-III-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে সফল হন তিনি। তাঁরই নেতৃত্বে ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে ভারতীয় উপগ্রহ ‘রোহিনী’কে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছাকাছি উপস্থাপিত করা হয়।

DRDO এবং ইসরোতে কর্তব্যরত অবস্থায় তিনি বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা ও সামরিক মিসাইল তৈরিতে প্রচুর অবদান রাখেন। ব্যালেস্টিক মিসাইল ও তার উৎক্ষেপণ যান প্রস্তুতিতে তাঁর অবদানের জন্য 'মিসাইল ম্যান' হিসাবে স্বীকৃতি পান এপিজে আবদুল কালাম। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে ভারতের প্রথম সফল পরমাণু পরীক্ষা পোখরান-২ এ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

২০০২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এ পি জে আবদুল কালাম। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে তাঁর মনোনয়ন সমর্থন করে শাসক এনডিএ এবং কংগ্রেস। তিনিই দেশের প্রথম বৈজ্ঞানিক যিনি এই পদ অলঙ্কৃত করেন।APJ 2

সারা জীবনে বিশ্বের বহু সম্মান লাভ করেছেন আবদুল কালাম। মোট ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সাম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধি প্রদান করা হয়েছে। ১৯৮১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ এবং ১৯৯০ সালে পদ্মবিভূষণে ভূষিত করে। এরপর ১৯৯৭ সালে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত করা হয় তাঁকে। ২০০৫ সালে তাঁর সফরের সম্মানে ২৬ মে দিনটি বিজ্ঞান দিবস হিসেবে ঘোষণা করে সুইত্‍জারল্যান্ড। আবদুল কালামের জন্মদিন বিশ্ব ছাত্র দিবস হিসেবে তাঁর জীবদ্দশাতেই পালিত হয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করার পর ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন এই বিজ্ঞানী। অবসর জীবনেও পঠন-পাঠন নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় শিলংয়ের আইআইএমে ‘লিভেবেল প্ল্যানেট আর্থ’ শীর্ষক এক বিজ্ঞানসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় মঞ্চেই জ্ঞান হারান আবদুল কালাম। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বেথানি হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় সাবেক এই রাষ্ট্রপতির। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।

মানব সভ্যতার ইতিহাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবেই শুধু নয়, মেধা, মনন আর মানবিকতার অসামান্য নিদর্শন হিসেবেও চিরস্মরণীয় হয়ে রইলেন মিসাইল ম্যান, ভারতরত্ন এপিজে আবদুল কালাম।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ভারতীয় গণমাধ্যম।

বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এপি

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন