শিরোনাম :

ঘুরে আসুন টাকার জাদুঘর


মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০১৫, ০৪:১৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঘুরে আসুন টাকার জাদুঘর

সৈয়দ রশিদ আলম: বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি স্বল্পপরিসরে একটি কারেন্সী মিউজিয়াম আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার ছিল না।

৫ অক্টোবর ২০১৩। মুদ্রা সংগ্রহকারী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লড়াকু গর্ভনর ড. আতিউর রহমান-এর স্বপ্ন পূরণের দিন। এই দিন প্রতিষ্ঠিত হলো দেশের প্রথম কারেন্সী মিউজিয়াম। নামকরণ করা হলো টাকা জাদুঘর। উদ্ভোধন করলেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেদিন দেশের সকল মুদ্রা সংগ্রহকারী, মুদ্রা গবেষক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিখ্যাত উপন্যাসিক বিমল মিত্রের একটি উপন্যাসের নাম কড়ি দিয়ে কিনলাম। একটা সময় বিনিময় মূল্য হিসাবে কড়ির প্রচলন ছিল। সেই কড়ি থেকে শুরু করে সমকালীন বিশ্বের, বিলুপ্ত জনপদের সকল ধরনের ধাতবমুদ্রা, ব্যাংক নোট, মুদ্রা সংরক্ষণের সকল উপকরণ টাকা জাদুঘরে প্রদর্শীত হচ্ছে।

যারা একবার টাকা জাদুঘর পরিদর্শন করতে যাবেন তারা বিস্ময়ে বলবেন, এ কি টাকা জাদুঘর নাকি টাকার জগৎ! এই টাকা জাদুঘর পরিদর্শন করে দর্শনার্থীরা হাইব্রিড ব্যাংক নোট, পলিমার ব্যাংক নোট, বিলুপ্ত দেশের ব্যাংক নোট ও সকল স্বাধীন দেশের, স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের ব্যাংক নোট টাকা জাদুঘরে দেখবেন।

বাংলার সুলতান, দিল্লির সুলতান, বৃটিশ ইন্ডিয়া ইস্ট ইন্ডিয়াসহ একাধিক দেশের ধাতবমুদ্রা টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে। বিলুপ্ত দেশের মধ্যে পুর্তগীজ ইন্ডিয়া, পুর্তগীজ কেপভারদে, পুর্তগীজ মোজাম্বিক, কাতাংগা, বৃটিশ ইস্ট আফ্রিকা, মাস্কাট ও ওমান, কাতার এন্ড দুবাই, রোডেশিয়া, জানজিবারসহ একাধিক বিলুপ্ত দেশে ধাতবমুদ্রা প্রদর্শিত হচ্ছে। যে সকল বিলুপ্ত দেশের ব্যাংক নোট প্রদর্শিত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে চেকোস্লোভাকিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন, বৃটিশ বার্মা, বৃটিশ ইন্ডিয়া, জাপান বার্মা, জাপান মালায়া, বৃটিশ সিলোনসহ একাধিক দেশ। উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রাও টাকা জাদুঘরে প্রদর্শীত হচ্ছে। কুষাণ মুদ্রা, প্রাচীনতম ছাপাঙ্কিত (পাঞ্চ মার্কড) রৌপ্যমুদ্রা টাকা জাদুঘরে প্রদর্শীত হচ্ছে।

দিল্লীর সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুগলক শাহ, মোগল সম্রাট শাহজাহান, আওরঙ্গজেব, ফররুখশিয়ার ধাতব মুদ্রাও টাকা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের ম্যাপ সিরিজের এক টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকা ও একশত টাকার নোট টাকা জাদুঘরে প্রদর্শীত হচ্ছে।

শিশু কিশোররা পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে এক লক্ষ টাকার একটি ব্যাংক নোটে নিজিদের ছবি তুলবে পারবেন। পরিশ্রান্ত দর্শনার্থীগণ নীচ তলায় কয়েন ক্যাফে নামে একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে বিশ্রামের ফাকে ফাকে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

দোতালায় উঠতে গিয়ে হাতে ডান দিকে রয়েছে একটি সেলস সেন্টার। সেখানে বাংলাদেশের সকল স্মারক ব্যাংক, স্মারক কয়েন ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী ক্রয় করতে পারবেন। একটি চৌকষ টিম দ্বারা টাকা জাদুঘর পরিচালিত হচ্ছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণর ড. আতিউর রহমান, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সী ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব সুভঙ্কর সাহা ও উপ মহাব্যবস্থাপক জনাব পরিমল চন্দ্র চক্রবর্তী। টাকা জাদুঘরে সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন উপ-মহাব্যবস্থাপক জনাব মোহাম্মদ ইসমাইল, কিউরেটার ডাঃ রেজাউল করিম, উপ-পরিচালক খন্দকার আনোয়ার সাহাদাত, কিপার ড. আছিয়া খানম। টাকা জাদুঘরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার দেওয়া উন্নতমানের ধাতবমুদ্রার প্রদর্শন শুরু হয়েছে। টাকা জাদুঘরকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে। যার কৃতিত্ব ডিজিটাল বাংলাদেশের জনক প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের।

শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টাকা জাদুঘর খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার বন্ধ। শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টাকা জাদুঘর খোলা থাকে। টাকা জাদুঘর পরিদর্শন করার জন্য কোন প্রবেশমূল্য দিতে হয় না। ঢাকা শহর থেকে নিজস্ব যানবাহন যোগে অথবা বাসে করে প্রথমে মীরপুর-১০ নং গোলচক্করে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে রিক্সাযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমীর দ্বিতীয় তলায় টাকা জাদুঘর। কিডনী ফাউন্ডেশনের পরের দালানটি হচ্ছে টাকা জাদুঘর।

আপনি যদি প্রাচীন ইতিহাস জানতে চান, গবেষণা করতে চান, সমকালীণ বিশ্বের ও প্রাচীন বিশ্বের সকল মুদ্রা, ব্যাংক নোট ও মুদ্রা সংরক্ষণীর উপকরণ দেখতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে সেই টাকা জাদুঘরে। প্রযুক্তির সকল উপকরণ দিয়ে টাকা জাদুঘরকে সাজানো হয়েছে।

বাংলাদেশের একমাত্র ডিজিটাল জাদুঘর হচ্ছে টাকা জাদুঘর।

লেখক পরিচিতি: প্রাচীন মুদ্রা সংগ্রাহক ও সাধারণ সম্পাদক, টাকা জাদুঘর ডোনার ক্লাব। বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমজে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন