শিরোনাম :

‘আমার মতো কেউ যেন স্বপ্ন না দেখে’


বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০১৫, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

‘আমার মতো কেউ যেন স্বপ্ন না দেখে’

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকের ঘটনা। আমি, আমার বন্ধু শাহরুখ খান এবং শাহজাহান রাতে হা-ডু-ডু খেলার জন্য বের হই। পথিমধ্যে আজিম উল্লাহর (মায়েনমারের বাসিন্দা) সাথে দেখা। তিনি আমাদেরকে অনেকদিন ধরে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করে আসছিল। মালয়েশিয়া গেলে ভাল চাকরি মিলবে। রাতারাতি বড় লোক হওয়া যাবে। ওখানকার সুন্দরী মেয়েরা আমাদের বিয়ে করবে। গাড়ি দেবে। বাড়ি দেবে। আরো কত কিছু... বড় লোক হওয়ার স্বপ্ন যেন আমাদের পেয়ে বসে।আজিম উল্লাহর প্রলোভন ছাড়তে পারলামনা। গভীর সাগরে অপেক্ষমান মালেশিয়াগামী একটি জাহাজে আমাদের উঠিয়ে দিয়ে আসলেন তিনি। সাথে বন্ধু শাহরুখ খানও ছিল। জাহাজের মাঝির নাম ছিল ‘সাব্বির মাঝি’। জাহাজে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য সাব্বির মাঝিকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল আজিম উল্লাহর মাধ্যমে। এরপরের যাত্রা এক অন্ধকার রাতের গল্প। কথাগুলো বলছিলেন থাইল্যান্ড কারা ফেরত সেন্টমর্টিনের যুবক আবছার উদ্দিন। তিনি সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার আব্দুল করিমের ছেলে। থাইল্যান্ডের বন্দিশালা থেকে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় ১০ আগষ্ট তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরেই বর্ণনা দেন তার বিষাক্ত জীবনের করুন কাহিনীর। আবছার বলেন, জাহাজে অনাহারে-অর্ধাহারে ১৫দিন কাটালাম। এরপর থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নামিয়ে দেওয়া হয় আমাদের। সেখানে দালালদের নির্যাতনে মৃত্যুকে বারবার মনে পড়েছিল। মুক্তিপণ পেতে যত দেরি হয় নির্যাতনের মাত্রা ততবেশি বেড়ে যায়। দালালদের নির্যাতন সইতে না পেরে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ি থাইল্যান্ড পুলিশের কাছে। এরপরের কাহিনী.......! আরো অনেক বিষাদের। বন্ধুদের প্রতি অনুরোধ, আমার মত যেন কেউ দুঃসপ্ন না দেখ। নিশ্চিত মৃত্যুপথ থেকে ফিরে আসা ছেলেকে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন মাসহ পুরো পরিবার। আবছার উদ্দিনের বাবা আব্দুল করিম বলেন, মুক্তিপণ দিয়েছি ৭০ হাজার টাকা। এতে আমার কোন দুঃখ নেই। তবে কষ্ট পাই তখনই যখন দালালদের উপযুক্ত বিচার না হয়। দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। আবছার উদ্দিন টানা দুই বছর হাডুডু খেলার পরেও জয় নিয়ে খেলা শেষ করতে পারেনি। পৌঁছাতে পারেনি স্বপ্নের ঠিকানায়। হ্যাঁ, পৌঁছেও ছুতে পারেনি সাফল্য। কারাগারের অন্ধপ্রকোষ্টে থাকতে হয়েছে তাকে। এরকম আরো অনেক বণি আদম থাইল্যান্ড কারাগারে বন্দি। তারা স্বজনের কাছে ফেরার প্রহর গুনছেন। আর কেউ যেন আবছার উদ্দিনের মত দালালদের মিথ্যা প্রলোভনে পড়ে বিরামহীন হা-ডু-ডু খেলতে দুঃসাহস না করে এমন অনুরোধ জানান স্থানীয়রা। বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমবি

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন