শিরোনাম :

মনসামুড়া : সাপের রহস্যবাড়ি


মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০১৫, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মনসামুড়া : সাপের রহস্যবাড়ি

বাশার খান : চাঁদপুরের কচুয়ার মনসামুড়া- বাঁশগাছে মোড়া রহস্যময় নির্জন টিলার নাম। এটিকে শত শত বছর ধরে স্থানীয় লোকেরা ভয়, আতঙ্ক, রহস্য, মৃত্যু আর আজগুবি খবরের দৃশ্যমান জায়গা বলে জানে। বিভিন্ন উপাখ্যান, লোমহর্ষক কাহিনী আর নানা বিশ্বাসে এলাকাবাসীকে ঘিরে রেখেছে মনসামুড়াটি। জন্ম দিয়েছে বাস্তব-অবাস্তব বহু গল্প ও গল্পের থিম। আশেপাশের গ্রামবাসীর ধারণা- মনসামুড়াটির প্রতিটি বাঁশগাছই এক একটি জীবন্ত সাপ। দিনের বেলা এখানে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে সাপগুলো চুপ থাকে। বাঁশগাছে কেউ আঘাত করলে বা পাতা ছিড়লে আর রক্ষা নেই। গভীর রাতে জঙ্গল থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে। দুএকদিনের মধ্যেই ঐ ব্যক্তি সাপের কামড়ে অথবা নাকে-মুখে রক্ত বেরিয়ে মারা যায়। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৪ নং সহদেবপুর পূর্ব ইউনিয়নের চারটি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই মনসামুড়া। এর উত্তরে দহুলিয়া, পূর্বে নয়াকান্দি, দক্ষিণে মেঘদাইর এবং পশ্চিমে ভূঁইয়ারা গ্রাম। স্থানীয় সুন্দরী খালের কোলঘেঁষা, চতুর্দিকে সবুজ মাঠের মধ্যবর্তী জায়গায় অবস্থিত এটি। ভিতরে রয়েছে একটি মন্দির। মনসা মন্দির। মন্দিরটির চারপাশে পাকা দেয়াল এবং উপরে টিনের চাল। ঢাকা থেকে প্রায় ৪৭ কি. মি. দূরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর স্টেশন। গৌরীপুরের সামান্য পূর্ব থেকে দক্ষিণ দিকে গিয়েছে গৌরীপুর-কচুয়া সড়ক। গৌরীপুর থেকে সাচার বাজার পেরিয়ে কচুয়ার দিকে যেতে দোয়টি বড় ব্রিজ। ব্রিজ থেকে পশ্চিম দিকে বয়ে গেছে দৃষ্টিনন্দন সুন্দরী খাল। খালের পাড় ধরে এক কি. মি. পশ্চিম দিকে হাঁটলেই দেখা যাবে- খালটি খানিকটা সরু হয়ে উত্তর দিকে বাক নিয়েছে। সেই বাকের মাথায় অবস্থিত ‘মনসামুড়া’। চারদিকে কুষিজমির মধ্যখানে বাঁশঝাড়ে আচ্ছাদিত এটি। দূর থেকে দেখলে, ঝোপ-ঝার বা ছোটো জঙ্গল বলে মনে হবে। রহস্যের জন্মের ইতিহাস কথিত আছে, হিন্দু ধর্মালম্বীদের সর্পদেবী মনসা কোনো এক সময় ভেলায় করে ঘুরে বেড়াতে বের হন। যাত্রা পথে এই স্থানে কিছু সময় বিশ্রাম নেন। তিনি যে ভেলাটিতে চড়ে এসেছিলেন তার খানিকটা ঝিলের পাড়ে আটকে থাকে। ভেলার থেকে যাওয়া অংশ থেকে এক সময় বাঁশগাছ জন্মাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে জায়গাটি টিলায় পরিণত হয়। এলাকাবাসী প্রথম দিকে এর গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। বিভিন্ন প্রয়োজনে বাঁশ কেটে নিত এখান থেকে। পরে অথবা পরদিনই দেখা যেত- ঐ লোক সাপের কামড়ে মারা গেছে। বা নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এর পর থেকে আর কেউ ঐ টিলা থেকে বাঁশ কাটেনি। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় এর রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করে। মনসা পূজা দেয়। বিভিন্ন পূজাপার্বনে অনুষ্ঠান করতে থাকে। বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ‘স্থানীয় লোকদের কাছে রহস্যপূর্ণ এ রকম মনসামুড়ার অস্তিত্ব রয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তবে এসব মনসামুড়ার সংখ্যা ২৫-৩০টির বেশি নয়।’ বাঁশের সংখ্যা নিয়েও রহস্য স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, মনসার বাঁশঝাড়ে ঠিক কতটি বাঁশমুড়া আছে, সে সংখ্যাটি গুনে বের করা যায় না। উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিক পর্যন্ত গুনে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিক পর্যন্ত গুনলে ঐ সংখ্যার সাথে মিলে না। এই চেষ্টা অনেকেই করে দেখেছেন বলে জানা গেছে। অবশ্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিটি মুড়া গুনে নম্বর প্লেট দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না- এমন কোনো পাওয়া যায়নি। পূজাপার্বণ ও মানত এখানে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পূজাপার্বণের ধর্র্মীয় অনুষ্ঠান করে স্থানীয় হিন্দুরা। মনসা পূজা হয় শ্রাবণ মাসের শেষ দিকে। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিরাট মেলা বসে এখানে। অনেক লোকসমাগম হয়। সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে বাৎসরিক মনসা পূজা দেওয়া হয়। তবে সেটা পহেলা বৈশাখ বা ১৪ এপ্রিলের পরের দিন। চৈত্র মাসকে সারে ত্রিশ দিন হিসেবে ধরার কারণে সরকারি হিসেবে নির্ধারিত পহেলা বৈশাখের পরের দিনকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় বাংলা সনের প্রথম দিন মনে করে। দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আসে এখানে। হিন্দুরা পূজা দেয়। আর মুসলমান ভক্তরা মনের আশা পুর্ণ ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য বিভিন্ন মানত অর্পণ করে। সরকারি জায়গায় অবস্থিত মনসামুড়াটি রক্ষণাবেক্ষণের একটি কমিটি রয়েছে। দানবাক্সের অর্থ, মা মনসার নামে ব্যয় করেন তারা। মন্দিরের বিভিন্ন উন্নয়নে কাজে লাগান। এর পূর্ব পাশের সামনের জমিটি অনাবাদি। বিভিন্ন পূজাপার্বনে লোকসমাগম সামলানোর জন্য এক মুসলমানের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা এগ্রিমেন্ট দিয়ে জমিটি রেখে দিয়েছে মনসামুড়ার রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি। কথ্য ইতিহাস বগুড়ার মহস্থানগড়ে বেহুলা-লখিন্দরের বাসর ঘর হলেও বেহুলা-লখিন্দর এবং চাঁদসওদাগরের বাড়ি এই অঞ্চলেই ছিল বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় মুসলিম মুরুব্বি আমীর আলী লেংটা বলেন, ‘চাঁদসওদাগরের বাড়ি ছিল চাঁদপুর। চাঁদপুরের চাঁদ থেকেই চাঁদসওদাগর নাম। এ অঞ্চলটি ঐ সময় পানিবেষ্টিত ছিল। চাঁদপুরের পানি পথেই চাঁদসওদাগর ব্যবসা করতেন। তার বাণিজ্য জাহাজগুলো এ এলাকায় দিয়েই চলাচল করত। সুদূর আরব দেশ পর্যন্ত যেত।’ ‘মুরুব্বি, আপনার নাম লেংটা কেন ?’ জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘বাবারে, দুনিয়াতে আইছি লেংটা, যাবও লেংটা। লেংটাই তো ঠিকানা।’ কত ঘটনা আর রহস্যের এই মনসামুড়া মনসামুড়াটি সুদূর অতীত থেকেই বিভিন্ন বহু ঘটনার জন্ম দিয়ে আসছে। এরকমই একটি ঘটনা ঘটে ২০০৮ সালে। ঘটনাটি মানুষের মুখেমুখে ফিরছে এখনো। ঐ বছর দোয়টি গ্রামের ডাক্তার বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে লক্ষ্মি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সে পূজায় কিছুটা ত্রুটি ছিল। এই কারণে বাড়িতে একত্রে ১১টি সাপ আসে। ডাক্তারবাড়ির তপন মজুমদার সাপগুলো মারেন। কিন্তু দুটি সাপ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে তপন মজুমদারের মেয়ে শুক্লাকে স্কুলে যাওয়ার পথে বেঁচে যাওয়া সাপ দুটি আক্রমণ করে। সেদিন শুক্লা কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচে যায়। রাতে স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে মনসা দেবীর পূজা দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়। শুক্লা স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী পূজা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এরপর স্কুল পথে তাকে আর সাপে তাড়া করেনি। স্থানীয়দের মুখে অবাক করার মত আরেকটি তথ্য পাওয়া গেল। ১৯৯৮ সালের বন্যায় কচুয়ার এই এলাকার বিস্তৃত নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু এই মনসামুড়ার টিলাটি ডুবেনি। মনসা দেবীর অলৌকিক ক্ষমতায় এটি রক্ষা পায় বলে জানায় এলাকাবাসী। ভিতরে মনসা মন্দিরের পূজারী বা রক্ষণাবেক্ষণকারী সত্তোর্ধ্ব বয়সী দীনেশ চন্দ্র সরকার জানান, ‘বছর পাঁচেক আগে চাঁদপুরের শাহারাস্তির মুসলমান ঠিকাদার জনাব আবুল বাশার এ মন্দিরটি তার নিজস্ব অর্থায়নে করে দিয়েছেন। সে ছিল নিঃস্বন্তান। এক রাতে আবুল বাশার স্বপ্নে দেখেন, অমুক জায়গায় মনসামুড়ায় একটি মন্দির করে দিলে তার সন্তান হবে। পরে তিনি এ জায়গাটি খুঁজে বের করেন এবং বর্তমান মন্দিরটি করে দেন। পরের বছর আবুল বাশারের স্ত্রী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। কাহিনীটি শুধু দীনেশ চন্দ্রের মুখে নয়, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের কাছ থেকে শুনা গেল। কয়েকজন স্থানীয় মুসলিম ব্যক্তিবর্গও ঘটনাটি সত্য বলে জানান। দোয়টি গ্রামের ১৯ বছর বয়সী এসএসসি পাস যুবক সোহাগ মিয়া জানান, ‘বছরখানেক আগের কথা ভাই। পার্শ¦বর্তী ব্র্র্যাক স্কুলের কাজের জন্য কর্তৃপক্ষ এক ছেলেকে বাঁশ কিনতে টাকা দেয়। ছেলেটি আমার পরিচিত। টাকা মারার জন্য বাঁশ না কিনে সে এই মনসামুড়া থেকে বাঁশ কেটে নিয়ে যায়। তার পরিণতি হয় খুবই ভয়ানক। পরদিন ছেলেটি নাকে-মুখে রক্ত উঠে মারা যায়। পুরো এলাকায় হৈ-চৈ পড়ে যায়। ঢাকা থেকেও অনেক লোক সেই ছেলেটিকে দেখতে আসে। তারপর কিছুদিন রাতে হাঁটাচলা করতেও ভয় লাগত আমাদের। এই ঘটনা মনে পড়লে আজও আমার বুক কাঁপে ভাই’। এখানে মানত আদায় করতে আসা মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী ৩১ বছর বয়সী দয়াল বৈদ্য জানান, ‘ভয়ে এখানকার একটি গাছের পাতাও ছিড়ে না কেউ। এখানে শিশুদেরকে নিয়ে আসলেও পাতা ছিড়ার ব্যাপারে তাদেরকে সাবধান করে দেয়া হয়।’ দয়াল বৈদ্য স্ত্রী-সন্তানসহ এখানে এসেছেন। বিভিন্ন ফলমূল সঙ্গে এনেছেন। প্রার্থনা শেষে দানবাক্সে অর্থ দান করেন। পূজারীর হাতে থেকে দেয়া ফল সকলকে খাওয়ান। দয়াল বৈদ্য আরও জানান, ‘মনসামুড়াটির খানিকটা দূরে এক ব্যক্তি মোটরচালিত গভীর নলকূপ বসিয়েছিল-অনেক দিন আগে। মনসা দেবী তাকে স্বপ্নে বলে যে, ‘মটরের আওয়াজে তাদের অসুবিধা হয়। এটি সরিয়ে ফেল তুমি।’ কিন্তু লোকটি মোটরটি সরাতে গড়িমসি শুরু করে। তারপর মেশিনটি একদিন বিকট আওয়াজে ধ্বংস হয়ে যায়’। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি ক্ষীরোদ চন্দ মিস্ত্রি তার সামনে ঘটা এক লোমহর্ষক ঘটনার কথা জানান। ‘ইয়াসিন নামের এক ওঝা বাজি ধরলেন- মনসামুড়া থেকে সাপ বের করবেন। পরদিন সকালে গিয়ে বিণ বাজাতে শুরু করেন। ঠিক দুপুর বেলা চার মাথা ওয়ালা একটি সূর্যমুখী সাপ বের হয়ে আসে। ওঝাকে আক্রমণ করে। ইয়াসিন ওঝা ঐদিন প্রাণে বেঁচে গেলেও এক সপ্তাহ পর সাপের কামড়ে মারা যায়। বগির মা নামক এক বিখ্যাত নারী ওঝা তাকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। মনসামুড়াটি এ ধরণের ভীতিকর ও গা কাঁপানো বহু ঘটনা আর নানা উপাখ্যানে ঘিরে রেখেছে এ অঞ্চলের লোকজনকে। আব্দুল জলিল নামে এক মুরুব্বি বলেন, ‘আমরা এই বাঁশঝাড়ের মনসামুড়াটির রহস্য বুঝিনা। মা মনসার কল্যাণময় রূপ দেখেছি। আবার, তার বিপজ্জনক অগ্নিমূর্তিও দেখেছি।’ আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকেও মনসামুড়াটির রহস্য বুঝতে ভাবিয়ে তোলে। বিভিন্ন সময় দল বেঁধে তারা এটি দেখতে আসে। নানা তথ্য সংগ্রহ করে। ছবি উঠিয়ে নিয়ে যায়। তবে গত পহেলা বৈশাখে বেড়াতে আসা চাঁদপুর সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২০০৭-০৮ ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা কেউ কেউ এই মনসামুড়াটির নানা ঘটনাকে বিশ্বাস করেন। আবার কেউ করেন না। মহসিন হোসাইন ও কাউছার মাহমুদ নামে দুজন শিক্ষার্থী আমার সামনেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাঁশগাছের পাতা ছিড়ে দেখান। পরে মুঠোফোনে তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তাদের কাউকেই সাপে কাটেনি এবং কোথাও সাপে তাড়াও করেনি। মহসিন হোসাইনের সঙ্গে আমার নিয়মিতই যোগাযোগ হয়। সে এখন আমার বন্ধু। অপরদিকে প্রচণ্ড তাপদাহে আশপাশের কৃষিজমিতে কাজ করে ক্লান্ত নারী-পুরুষ কিছুক্ষণ পরপর এখানে কিছুটা বিশ্রাম নিতে আসেন। মন্দিরের উত্তর দিকের টিউবওয়েল এ হাতমুখ ধোন। ভক্তি ভরেই খানিকটা সময় কাটান মা মনসার এই রহস্য টিলাতে। তবে কোনো বাঁশগাছের পাতা ধরা বা ছিড়ার ব্যাপারে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক। একটু ভুল করলে আর রক্ষা নেই। সাপের কামড়ে মৃত্যু অবধারিত। লেখক : নিউজরুম এডিটর, এটিএননিউজ বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমজে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন