শিরোনাম :

টাকা ছাড়া সুযোগ নেই: কারাগার থেকেও বাহিনী নিয়ন্ত্রণ


বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৫, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

টাকা ছাড়া সুযোগ নেই: কারাগার থেকেও বাহিনী নিয়ন্ত্রণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: পুলিশ সদস্যের হাতে টাকা না দিলে আসামি দেখার সুযোগ নেই কক্সবাজার কোর্ট হাজতে। আসামি দেখতে স্বজনদের মাথা পিঁছু দিতে হয় ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্ধারিত পরিমাণ টাকা দিলে নাস্তা পানি থেকে শুরু সব ঢুকানো যায় কোর্ট হাজতখানায়। অন্যথায় আসামি দেখার সুযোগ নেই। ফেরত যেতে হয় স্বজনদের। এমন অভিযোগ অসংখ্য মানুষের। তবে কোর্ট পরিদর্শক জামাল উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, স্বজনেরা আইনি পরামর্শ ও মতামত নেয়ার জন্য আসামিদের সাথে দেখা করতে পারেন। এতে আইনি বাঁধা নিষেধ নেই। আসামি দেখার জন্য টাকা নেয়ার বিষয়ে এ পর্যন্ত আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি। কেউ সরাসরি অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিন আদালত প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগের বাস্তব চিত্র। কোর্ট হাজতখানার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে (নেমপ্লেট মতে) আলী, মাহবুব, সুফিয়ান, উৎপলসহ বেশ কিছু পুলিশ সদস্য। পাশের কক্ষে আড্ডা দিচ্ছে আরো বেশ কয়েকজন।

এ সময় বারান্দা দিয়ে হাজতখানার দিকে কেউ যেতে চাইলে তাকে বাঁধা দিচ্ছে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। আসামির স্বজন পরিচয় পেলে থামিয়ে দাবি করছে টাকা। অন্যথায় আসামি দেখার পথ রুদ্ধ। কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের না দেখে ফেরত যেতে হচ্ছে স্বজনদের।

কথা হয় কবির আহমদ নামের বয়োবৃদ্ধ এক ব্যক্তির সাথে। তিনি উখিয়া উপজেলার হরিনমারা এলাকার বাসিন্দা। আলমগীর নামে এক আসামি দেখতে কক্সবাজার কোর্ট হাজতে আসেন বয়োবৃদ্ধ এই ব্যক্তি।

তিনি অভিযোগ করেন, আসামি দেখার জন্য সকাল থেকে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি। দেখার সুযোগ পাইনি। অবশেষে ১০০ টাকা দিলে আসামী দেখার পাই। শহরের পাহাড়তলী এলাকা থেকে এসেছেন মরিয়ম। তিনি রফিক, দিলুকে দেখতে কয়েকবার চেষ্টা করেও পারেননি। তার সাথে আছেন রাফি নামের আরেক মহিলা। তার বাড়ীও একই এলাকায়। তিনি কোর্ট হাজতে আনা তার স্বামী শাহেদকে দেখতে এসেছেন।

এই দুই মহিলার ভাষ্য হলো- টাকা ছাড়া কোর্ট হাজতে আসামি দেখার সুযোগ নেই। টাকা দিয়েই আসামি দেখতে হয়। আমরা ৬০০ টাকা দিয়েছি। এরপর আসামিদের নাস্তা-পানি দেয়ার সুযোগ পাই। তবে তাদের আসামি অনেক পুরাতন ও পরিচিত হওয়ায় মাঝে মধ্যে টাকা না দিলেও দেখার সুযোগ পান বলেও জানান তারা।

একই অভিযোগ আদালত প্রাঙ্গনে আসা অন্তত অর্ধশত ভুক্তভোগীর।

তারা অভিযোগ তুলেন, আসামি দেখতে টাকা নেয়ার বিধান নেই। এরপরও কোনো স্বজন গেলে আটকিয়ে টাকা আদায় করেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। দর্শনার্থীর মাথা পিছু দিতে হয় ১০০ টাকা। ভাত-পানি সরবরাহ করতে দিতে হয় আরো বেশি। অন্যথায় আসামির দেখা কপালে জুটেনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আদালতপাড়ার এক ব্যক্তি জানান, মোটা অংকের বিনিময়ে দাগী অপরাধীদের মোবাইলে কথা বলার সুযোগ করে দেয় কোর্ট পুলিশ। যে কারণে কারান্তরীণ থেকেও বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে সন্ত্রাসীরা।karagar-mobile-bp

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে কোর্ট পরিদর্শক জামাল উদ্দিন বলেন, দর্শনার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগের সাথে আমি একমত নই।  আলী, মাহবুব, সুফিয়ান, উৎপল নামের কাউকে আমি চিনিনা।

টাকা নিচ্ছে এমন ছবি প্রতিবেদকের কাছে আছে জানালে উত্তরে তিনি বলেন, ছবি থাকতেই পারে। এটি যে সত্য তা মেনে নেয়া যায়না। কেউ অভিযোগ না দিলে করার কিছুই নাই।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথের কাছে জানতে চাইলে বলেন, কোর্ট হাজতে আসামি দেখার বিধান আছে। কিন্তু টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এরপরও কোন পুলিশ সদস্য টাকা নিচ্ছে এমন প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন