শিরোনাম :

বিভক্তি কমিটিতেই রাজি বেঁকে বসা নেতারাও


রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ১০:০১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিভক্তি কমিটিতেই রাজি বেঁকে বসা নেতারাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: নগর আওয়ামী লীগের খসড়া কমিটির পরে এবার নগরের থানা-ওয়ার্ডের খসড়া কমিটি যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। ইতোমধ্যে এ কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরর তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এদিকে নগরের খসড়া কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর পরে বেঁকে বসা নেতারাও অবশেষে বিভক্ত কমিটিতেই রাজি হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে উত্তরে কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং দক্ষিণে ড. আব্দুর রাজ্জাককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল নগরের কমিটি চূড়ান্ত করতে।

এ বিষয়ে কর্নেল (অব.) ফারুক খান বাংলাপ্রেস.কম.বিডিকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন আমরা কেবলমাত্র তা পালন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে আমরা নগরের প্রস্তাবিত কমিটির খসড়া তৈরী করে কয়েকদিন আগে তার কাছে পাঠিয়েছি। নগরের ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের খসড়া কমিটির তালিকাও চূড়ান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু দিনের মধ্যেই এ খসড়া কমিটিগুলোও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, দলের প্রতি কমিটেট এবং দলে জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের নিয়েই এ কমিটি তৈরী করা হয়েছে।

এদিকে নগরের কমিটি চূড়ান্ত করে তার প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন- এমন খবর শোনার পরে নতুন করে আলোচনায় বসেন নগরের নেতারা। পরে তারা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গেও দেখা করেন। সেখানে নগর আওয়ামী লীগের নগরের নেতারা একটি খসড়া প্রস্তাব দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে দিয়েছেন। এতে সভাপতি হিসেবে উত্তরে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং দক্ষিণে এমএ আজিজের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ এ প্রতিবেদককে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তো আমরাই দেখা করবো। বিভক্ত কমিটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চাইবেন সেভাবেই করবেন। প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে রাজি। তিনি যাকে চাইবেন তাকেই নগরের দায়িত্ব দেবেন। দুই সমন্বয়কের প্রস্তাবিত কমিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করেছেন। এটা নিয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।

নগরের একাধিক নেতার দাবি, যারা সব সময় নগর আওয়ামী লীগের পাশে থাকে। আমরা তাদেরই নেতৃত্বে চাই। দুইভাগে ভাগের সিদ্ধান্তের পরেই মূলত সমস্যাটা শুরু হয়। তবে আমরা নগর আওয়ামী লীগের স্বার্থে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে এখন ঐক্যবদ্ধ।

প্রসঙ্গত, প্রায় সাড়ে নয় বছর পর নগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ২০০৩ সালের ১৮ জুন সম্মেলনে মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি এবং এম এ আজিজকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর মেয়ার হানিফ মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে এম এ আজিজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সর্বশেষ সম্মেলনে এম এ আজিজ ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে নতুন কমিটি ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়।

জানা গেছে, সম্মেলনের পরে রাজধানীর ৪৯টি থানা, ১০৩টি ওয়ার্ড ও ১৭টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ সম্মেলন পর্যায়ক্রমে শেষ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো থানা-ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটি ঘোষিত হয়নি। এর মধ্যে ডেমরা, শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী বাদে সব থানা, ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ হলেও মহানগর কমিটি না হওয়ায় সেগুলোর কমিটি গঠন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মহানগরের কয়েকজন নেতা। এসব জায়গাতেও আগের কমিটির নেতারাই নিজ নিজ পদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বাংলাপ্রেস.কম.বিডি/এইচএইচ/এএইচ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন