শিরোনাম :

নওগাঁয় ওয়াশব্লক নির্মাণে চরম অনিয়মের অভিযোগ


বুধবার, ১ জুন ২০১৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

নওগাঁয় ওয়াশব্লক নির্মাণে চরম অনিয়মের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ওয়াশব্লক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় কাজ শেষ করে হস্তান্তরের পূর্বেই ফাটল ধরেছে। ইটের দেয়াল নির্মাণের সময়ে নিয়মিত পানি দেওয়া নিয়ম থাকলেও এক ফোটাও পানি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ব্যবহারের করা হয়েছে অত্যান্ত নিন্মমানের টাইলস। পানির লাইন ও পায়খানায় যে পাইপ লাগনো হয়েছে তা কদিন টিকবে যে কেউ এক দেখাতেই বলে দিতে পারবে। যে ট্রাব লাগানো হয়েছে তা ছয় মাস টিকবে কি না সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অতি নরমাল বৈদ্যুতিক তার দিয়ে করা হয়েছে ওয়ারিং। ওয়াশব্লক প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুটি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প (পিডিবি-৩) আওতায় ওয়াশব্লক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলা ১১টি ও পোরশায় ২টিসহ মোট ১৩ টি স্কুলের কাজের জন্য বিশ্ব ব্যাংক, এডিপি, ইউনিসেফ, ইউএসএইডসহ নয়টি দাতা সংস্থা এ প্রকল্পের আওয়াতায় ৮৫ লক্ষ ১১হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজের মেয়াদকাল ডিসেম্বর হতে মার্চ পর্যন্ত মোট চার মাস হলেও সময় অতিবাহিত হয়ে যাবার পরও শেষ হয়নি কাজ।

একটি ওয়াশব্লকে পুরুষ ও মহিলা দুই ইউনিট মিলে ছয়টি ল্যাট্রিন, প্রসাবখানা ও ওজুখানা। ল্যাট্রিনে একটি হাইকমোড, হাতলসহ প্রতিবন্ধিদের জন্য দুটি সাধারণ প্যান, বেসিন, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা, সাবমার্সিবল পাম্প, এক হাজার লিটারের পানির ট্যাংকি ও বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি। শহরের মধ্যে কাজের মান একটু ভালো হলেও গ্রামের স্কুলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

নওগাঁ সদর উপজেলার ইকরতাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায় টাইলস বসানোর কাজ চলছে কিন্তু ঠিকাদার অথবা জনস্বাস্থ্য অফিসের কোন প্রতিনিধিই সেখানে উপন্থিত নেই। মিস্ত্রিদের টাইলস বসানো সর্ম্পকে প্রশ্ন করলে জানা যায় তাদের টাইলস বসানোর সর্ম্পকে তেমন অভিজ্ঞতা নেই সবে মাত্র টুকটাক কাজ শিখেছেন, আর এই কাজ তার হেড মিস্ত্রির কাছ হতে চুক্তিতে নিয়েছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজের শুরু হতে এখন পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার অথবা ঠিকাদার কাউকেই খোজখবর নিতে আসতে দেখা যায়নি। মিস্ত্রিরা তাদের মত করে যেমন খুশি কাজ করছে। এমনকি কাজের বিষয়ে তাদের সাথে কোন কিছু শেয়ারও করা হয়নি।

সদর উপজেলার চকদৌলত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অনিমা দেবনাথ জানান, এখানে যে ভাবে কাজ করা হয়েছে তা শুধু নিন্মমানের না অত্যান্ত নিন্মমানের। টাইলস বসিয়েছে শুধু মাত্র বালুর উপরে যা ছয় মাসও টিকবে কিনা বলা মুশকিল। দেওয়ালে এক ফোটাও পানি দেওয়া হয়নি। ব্যাবহার করা হয়েছে যে পাইপ তা হালকা চাপেই যেকোন মুর্হুত্বে ফেটে যেতে পারে।

চকরাম চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় কাজ শেষ ঘোষণা করলেও এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে ইটের তৈরী ট্রাংকিগুলো প্লাষ্টার না করেই মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশব্লকের দেয়ালের বাহিরের নিচের দিকে মেঝে বরাবর দুই জায়গায় ফাটল ধরেছে।

কাজ ভাল হয়েছে বলে দাবি করে ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, আপনি অফিসে এসে কথা বলুন। অফিস থেকে যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে সেভাবেই কাজ করেছি।

নওগাঁ সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আল হাসিব পরাগকে এ ব্যাপারে কোন কথা না বললেও উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এ ছাড়াও তার অফিসে এসে সরাসরি কথা বলতে অনুরোধ করেন।

জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, কাজের অনিয়ম সম্পর্কে তার জানা নেই। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন