ব্রেকিং নিউজ
না. গঞ্জে সাত খুন মামলায় ২৬ জনের মধ্যে ১৫ জনের ফাঁসি বহাল। র‍্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, এমএম রানা, আরিফ এবং সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল
শিরোনাম :

টেকনাফে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে গভীর রাতে বসতবাড়ীতে হানা


রবিবার, ৬ আগস্ট ২০১৭, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

টেকনাফে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে গভীর রাতে বসতবাড়ীতে হানা

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে গভীর রাতে বসতবাড়ীতে ঢুকে ব্যাপক মারধর, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তান্ডবকারীরা কোন সময় পুলিশ, কোস্টগার্ড কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার লোক পরিচয় দিয়ে এসব কাজ করছে। চালাচ্ছে অসহায় শিশু ও নারীদের উপর নির্যাতন। রেহায় পাচ্ছেনা কচিকাচা স্কুলগামী ছেলে মেয়েরাও। গত ১০দিনে এক এলাকায় অন্তত ৮টি বসতবাড়ীতে এরকম ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা নামলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। পুরুষশুন্য হয়ে গেছে অনেক বসতঘর।

বাহারছরা ইউনিয়নের উত্তর শিলখালী নয়াবাজার এলাকার কুলসুমা আকতার নামে গৃহীনি বলেন, সপ্তাহখানেক আগে রাত অনুমান ৩টার দিকে একদল লেক এসে প্রথমে দরজা খোলতে বলে।

পুলিশ পরিচয় দেয়ায় দরজা খোলার সাথে সাথে তারা জানতে চায়- তোর স্বামী কোথায়? এরপর আমার স্বামীকে হাজির করতে বলে। তারা বলে, ‘আমরা ডিবির লোক। ইয়াবা খোঁজতে এসেছি। ইয়াবা কোথায় রেখেছ? দেখিয়ে দাও। অন্যথায় টাকা দাও। এসব বলতে বলতে ঘরের মূল্যবান আসবাপত্র ভেঙে তছনছ করে চলে যায়। যাওয়ার সময় ঘটনা প্রকাশ না করার জন্যও হুমকি দেয়।’

পশ্চিমপাড়ার রেহেনা আকতার নামে আরেক নারীর বাড়ীতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে চোখের পানি ছেড়ে দেন। তিনি বলেন, ৪/৫ দিন আগে খাকি পোষাক পরিহিত অবস্থায় ৭/৮ জন লোক রাত ৩ টার দিকে ঘরের দরজা ধাক্কাতে থাকে। ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়ীতে ঢুকে ছেলে মেয়েদের মারধর করে। এরপর কোমর থেকে ইয়াবার একটি প্যাকেট বের করে বলে- টাকা দিলে দে। নইলে ইয়াবা ধরাইয়া দিমু।

আফরাহ আকতার নামে মাদরাসা ছাত্রী চোখ চেপে ধরে বলেন, রাতের আধারে দরজা ধাক্কাধাকি কে করছে দেখতে গিয়ে তারা আমার চোখে আঘাত করে। বাবা না থাকায় চোখের চিকিৎসা করতে পারছিনা। ওই দিন থেকে ভয়ে রাত কাটেনা। ঘুম আসেনা। চোখের যন্ত্রণায় মাদরাসায়ও যেতে পারছিনা। আফরাহ আকতার স্থানীয় তাফহীমুল কোরআন মাদরাসায় ৫ম শ্রেনীতে পড়ে। বাবা শাকের আহমদও ভয়ে অনেক দিন ধরে বাড়ীর বাইরে। অসহায় সময় কাটছে তাদের।

কুলসুমা খাতুন নামে ভুক্তভোগী অরেক মহিলা বলেন, রাতটা যেন আমাদের আতঙ্ক আর যন্ত্রণার। ডিবি পরিচয়ে অকারণে জালাতন করা হচ্ছে। ঘরে ঢুকামাত্র মোবাইলগুলো কেড়ে নেয়- যেন কোথাও ফোন করতে না পারি। এরপর বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি প্রদান করে। কাপড়ের ভেতর ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁসাতে চেষ্টা করে। মাঝেমধ্যে ইয়াবা খোঁজার কথা বলে ঘরে ঢুকে নির্যাতন করে। গায়ের পোষাক কোস্টগার্ডের মতো। আদৌ বোঝতে পারিনা এরা আসলে কারা? কুলসুমার প্রশ্ন- আমরা তো কোন মামলার আসামী নই। আমাদের পরিবারের কারোর নামে ওয়ারেন্টও নেই। কেন আমাদের উপর অমানবিক নির্যাতন? আমরা পরিত্রাণ চাই।

কাদের হোসেন নামে সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ বলেন, আমার ছেলে আবদুর রহমানের জন্য বউ এনেছি এক মাস হয়নি। হঠাৎ এক রাত কিছু লোক ডিবি পরিচয় দিয়ে বাড়ী ঢুকে। প্রথমে আমাকে কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে ঘরের কোনে ফেলে রাখে। এরপর আমার ছেলের কক্ষে ঢুকে সব চুরমার করে দিয়েছে। জায়গা জমির কাপড়চোপড়সহ অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। জীবনে এরকম জুলুম দেখিনি।

এরকম অভিযোগ অন্তত একশ মানুষের, যারা ভয়ে ঘুমোতে পারেনা। স্বাভাবিক জীবনচলা তাদের থেমে গেছে। অসহায়ত্বে দিন কাটছে ওই এলাকার মানুষদের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। অনেকে ঘর ছাড়া হয়ে গেছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে নারীপুরুষ।

তিনি বলেন, একজন চেয়ারম্যান হিসেবে যতটুকুন সম্ভব অপরাধ দমনে চেষ্টা করছি। মানুষের বিপদ আপদে ছুটে যাচ্ছি। কিন্তু গভীর রাতে এসব ঘটনা ঘটায় সহজেই রহস্য বের করা যাচ্ছেনা। ঘটনাগুলো প্রশাসনকে জানিয়েছি। কোন একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. মাঈন উদ্দিন খান বলেন, আমাদের কোন লোক এরকম ঘটনা ঘটানোর কথা নয়। কেউ অভিযোগ করেনি। এরপরও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আইকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন