শিরোনাম :

ড্রেইন ও স্লুইচ গেইটের মুখ দখল করে স্থাপনা


মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট ২০১৭, ০৬:৩৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ড্রেইন ও স্লুইচ গেইটের মুখ দখল করে স্থাপনা

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের পানি চলাচলের ড্রেইন ও স্লুইট গেইটের মুখ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলছে। পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও মানছেনা দখলবাজ চক্র। দেদারছে সম্প্রসারণ করছে দখলের সীমানা। এতে করে বর্ষা মৌসুমে পেশকারপাড়াসহ আশপাশের অন্তত এক লাখ মানুষ জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, রাশেদ নামের এক ব্যক্তি ড্রেইনের জমি নিজের দাবী করে গত দিন ধরে ইটের দেওয়াল নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ড্রেইনের উপর আরসিসি পিলার স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে পৌরসভার প্রাচীন স্লুইচ গেইটের মুখ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এভাবে ড্রেইনের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে পৌরসভাকে তারা অবহিত করে। এরপরও নির্মাণ কাজ বন্ধ করেনি। পাকা স্থাপনার জন্য মজুদ করেছে ইট, বালি, কংকর, লোহা ইত্যাদি সরঞ্জাম। ড্রেইন দখল করে নির্মাণ কাজে নিষেধ করলে উল্টো এলাকাবাসীকে দেখিয়ে নেয়ার হুমকি দেয় দখলবাজ রাশেদ।

ড্রেইন ও স্লুইস গেইটের মুখ দখল করে যদি পাকা স্থাপনা হয়, তাহলে বর্ষা মৌসুমে পানি সরতে না পেরে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবে। পেশকার পাড়া, টেকপাড়া, নুরপাড়াসহ পুরো এলাকা তলিয়ে যাবে। তাই সময় থাকতে এই স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করা দরকার বলে মনে করেন পৌরবাসী।

এ ব্যপারে কক্সবাজার ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, দখলবাজরা স্লুইস গেইটের দুই পাশ ও ড্রেইনের জায়গায় বসতি গড়ে তুলেছে। এলাকার প্রয়োজনে অনেকে নালার জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছে। আর কিছু লোক লোভ সামলাতে না পেরে ড্রেইনের জায়গায় দখলযজ্ঞ চালাচ্ছে। যা খুবই দুঃখজনক।

তিনি মনে করেন, নির্মিতব্য অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ করা দরকার। অণ্যথায় এলাকাবাসী প্রতিরোধ করবে। তবে, অভিযুক্ত মো. রাশেদ হাবিবুল্লাহ বহদ্দারের ছেলে ফারুকের কাছ থেকে জমি কিনেছে বলে দাবী করেন।

পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান জানান, ড্রেইনের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সংবাদে তা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিসের মালিকানার ভিক্তিতে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে- তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে পেশকারপাড়া ও টেকপাড়া এলাকার দুইটি স্লুইচ গেইট এখন শহরবাসিরগলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি চলাচল তো দূরের কথা, অযত্ম -অবহেলায় স্লুইচ গেইট দুইটিই এখন অনেকটা অকেজো। বর্ষার পানি বাঁকখালী নদীতে যেতে না পেরে সড়ক-উপসড়কে প্রবাহিত হয়। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি ঢুকে পড়ে বাসাবাড়ীতে। কাদাজলের কারণে হাঁটাচলা অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। 

কক্সবাজার পৌরসভার ৩২.৯০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। সেখানে পেশকারপাড়া ও টেকপাড়া শহরের মূল প্রাণকেন্দ্র হওয়ায় দুই এলাকাকেন্দ্রিক অন্তত ১ লাখ মানুষের বসতি। কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের উদাসীনতায় অধিকাংশ ড্রেইন ও স্লুইচ গেইট দখলবাজদের থাবায় জর্জরিত।
সুত্র জানায়, ১৯৮০ সালের দিকে বাঁকখালী নদী পাড়ে স্থাপন করা পেশকারপাড়ার স্লুইচ গেইটটি বর্তমানে অকেজো। টেকপাড়ার স্লুইচ গেইট দিয়ে কোন রকম পানি আসা যাওয়া করছে। তা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। ভারী বর্ষণে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্লাবিত হয় আশপাশের এলাকাসমূহ। ক্ষয়ক্ষতি হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়িদের।

দুর্ভোগের শিকার পৌরবাসী দীর্ঘ দিন ধরে স্লুইস গেইট দুটি পূর্নঃনির্মাণ বা সংস্কারের দাবী করে আসলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। দুই এলাকাকে পানি বন্দির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে স্লুইস গেইট দুটি পূর্নঃনির্মাণ বা নতুন স্লুইচ গেইট নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন শহরবাসী।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কমিশনার আবু জাফর ছিদ্দিকী বলেন, নালা-নর্দমা দখলবাজদের কারনে পৌরবাসীকে খেসারত দিতে হচ্ছে। বষঅ মৌসুমে কষ্ট পেতে হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রধান হাতিয়ার স্লুইচ গেইটগুলোর বেহাল দশা।

তিনি দাবী করেন, এলাকাবাসীর স্বার্থে আমি নিজের জমি নালার জন্য ছেড়ে দিয়েছি। স্লুইচ গেইট করার জন্যও সম্প্রতি পৌর মেয়রের অনুরোধে আরো জমি দিয়েছি। পেশকার পাড়ার স্লইচ গেইটটির পাশে মাটি কেটে দিয়ে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা করলেও জলাবদ্ধতা থেকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন করে ড্রেইনের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


আইকে /এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন