শিরোনাম :

টানা বর্ষণে দিনাজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


শনিবার, ১২ আগস্ট ২০১৭, ০৪:১৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

টানা বর্ষণে দিনাজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

মো. মাহাবুর রহামান, দিনাজপুর: দিনাজপুরে টানা বর্ষণে প্রায় সব উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিদ্যালয় মাঠ, বিভিন্ন ফসল, খাল-বিল, ডোবা-নালা বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা বর্ষণের ফলে দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষ। দাম বেড়ে সবজি সহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যের।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিপাত আজ শনিবার পর্যন্ত মুষুলধারে বর্ষণের ফলে জনজীবনে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাত থাকার কারণে জেলায় শ্রমজীবি মানুষ কাজে যেতে পারেনি। শহরের রাস্তাগুলো ফাঁকা ছিল। দোকানপাট অনেকটাই বন্ধ। শিক্ষার্থীরা বৃষ্টির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেনি।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২১৬ মিলি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও ২দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ৬০টি বাড়ী পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে সুজালপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা ঐ পরিবারের লোকজন গবাদি পশুসহ আসবাবপত্র নিয়ে স্থানীয় বলদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং সুজালপুর ইউনিয়নের উত্তর মাকড়াই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা।

অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেছেন শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী এলাকার শেখ মো. জাকির হোসেন।

শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. কেএম কুতুব উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলম হোসেনকে জানিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নেওয়া পরিবারের মাঝে সরকারী বা বেসরকারী ভাবে কোন প্রকার সাহায্যে প্রদান করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম জানান, অব্যাহত বর্ষণের ফলে বিদ্যালয় মাঠে হাটু পানি জমে গেছে। কয়েকটি ক্লাশরুমে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। ফলে শিক্ষক উপস্থিত হলেও শিক্ষার্থী না আসায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার অটোরিক্সা চালক মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে যাত্রী নেই। তাই দুই দিন ধরে কিস্তি দিতে পারছিনা। নিরুপায় হয়ে আজ বৃষ্টিতে বেড়িয়ে পড়েছি। আজ কিস্তির জন্য নয়। টাকা রোজগার করে বাজার নিয়ে বাড়ী ফিরতে হবে। তা না হলে দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।

চিরিরবন্দর উপজেলার রাণীবন্দর এলাকায় দিন মজুর মোহাম্মদ আলী জানান, দুই দিন ধরে কোন কাজ নেই। তাই আজ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে কাজের সন্ধানে রাণীরন্দর বাজারে এসেছি। অপেক্ষা করেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোন কাজের সন্ধান মেলেনি। বোধহয় আজ আর কাজ মিলবে না। তাই ভাবছি কারো কাছে টাকা ধার করে বাজার করতে হবে। তা না হলে পরিবারের লোকজন না খেয়ে থাকবে।

টানা বর্ষনে আগুন লেগেছে কাচা বাজারে। মরিচা এবং পিয়াজের ঝাজ বেড়েছে আরও একদফা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সজবিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক পন্য।

বিরামপুর উপজেলার কৃষিকর্মকর্তা নিকক্সন চন্দ্র পাল জানান, এবার উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা ছিল।এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৪শ হেক্টর।

তিনি জানান,কয়েক দিনের টানা বর্ষনের ফলে উপজেলার ভেলারপাড়, পলিখিয়ার মামুদপুর, মুকুন্দপুর, হাকিমপুর, দাউদপুর,বেনিপুর মাঠের প্রায় ১শ পঞ্চাশ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এ দিকে টানা বৃাষ্টির কারনে বৃহস্পতিবার বাজারে পিয়াজের দাম প্রতি কেজি ৬০টাকা হলেও আজ শনিবার ৬৫টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। কাচা মরিচের কেজি ছিল ১৩০টাকা। আজ ১৪০টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। এ ছাড়াও আলু-২০, পটল-৩০, বেগুন ৩০টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাচামাল ব্যবসায়ী মোঃ সাবির হোসেন।

তিনি জানান, বৃষ্টির ফলে পন্যের আমদানী কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। আবার বাজারে ক্রেতার অভাবে অনেক পন্য পচে যাওয়ার কারণে অনেকে দোকান বন্ধ রেখেছে। বৃষ্টি থেমে গেলে মালামাল আমাদানি স্বাভাবিক হবে এবং তখন অনেক পন্যের দাম কমে যাবে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, টানা বর্ষণে এলাকার নদনদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে বেশ কিছু এলাকা। পুনর্ভবা নদীর পানি বেড়ে ৩৩.১০সেন্টিমিটার এবং আত্রাই নদীর পানি বেড়ে ৩৯.৫সেন্টিমিটারের পৌঁচেছে। এ সকল নদীর পানি বিপদ সীমা ছুই ছুই করছে। তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যার আংশকা আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি জানান, আমরা বৃষ্টিপাতের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন