শিরোনাম :

বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার অর্ধলক্ষাধিক বইয়ের বিপরীতে সদস্য সংখ্যা ৪৩


বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:৪৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার অর্ধলক্ষাধিক বইয়ের বিপরীতে সদস্য সংখ্যা ৪৩

শামীম আহমেদ, বরিশাল: অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দুর্দশায় ভুগছে বরিশালের বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার। অর্ধলক্ষাধিক বইয়ের সমাহার গ্রন্থাগারের তিনতলাজুড়ে থাকলেও পাঠকের সংখ্যা নিতান্তই কম, আর সদস্য সংখ্যা রয়েছে ৫০ জনেরও নিচে।

এছাড়াও নানা সমস্যায় জর্জরিত এ গ্রন্থাগারটির পদচারণা ভালোভাবে শুরু হলেও প্রচারের অভাবে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণে কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে গ্রন্থাগার সংশ্লিষ্টদের দাবি গ্রন্থাগারে পাঠক না হওয়ার কারণ স্কুল-কলেজগুলোর প্রধানরা। তারা পাঠাগার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানায় না। বিভিন্নভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি প্রধান করা সত্ত্বেও এ সমস্যার নিরসন হচ্ছে না। পাশাপাশি অভিভাবকরা কোচিংমুখী হওয়ায় এ সমস্যা আরো দৃঢ় হচ্ছে।

গ্রন্থাগারে এসে বই না পড়ায় শিশু-কিশোরদের বাইরের জগৎ থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের। এদিকে নতুন নতুন বইয়ের সমারোহে বরিশালের বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে ৬৭ হাজার বই থাকলেও নিবন্ধিন পাঠক বা সদস্য সংখ্যা মাত্র ৪৩ জন। আর যে ৪৩ জন রয়েছেন তারাও নিয়মিত আসছেন না। ভবিষ্যতে তারাও থাকবেন কি না তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তবে এদের চাইতে অনিবন্ধিত সদস্য বা পাঠকের সংখ্যাই বেশি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ গ্রন্থাগারের জন্য বিভিন্ন ধরনের দুই হাজার ৬০০ বই সংগ্রহ করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। যারফলে বিভাগীয় গনগ্রন্থাগারে বর্তমান বইয়ের সংখ্যা ৬৭ হাজার। যারমধ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয় ছাড়াও কম্পিউটার, ইংরেজি, মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বই রয়েছে। পাশাপাশি শিশুদেরই রয়েছে সাত হাজার বই। এসব বই পড়ার জন্য গড়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ পাঠক গ্রন্থাগারে আসেন। যার সংখ্যা মাসে দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৫ হাজার, দাবি সংশ্লিষ্টদের। আর এসব পাঠকের মধ্যে তেমন কেউই নিবন্ধিত নন।

 

তবে সরেজমিনে গিয়ে চারতলা বিশিষ্ট এ গ্রন্থাগারে গিয়ে তেমন পাঠকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বই পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, এখানে প্রায় আধুনিক সব ধরনের বই রয়েছে। পাশাপাশি পাঠকও আসেন যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তবে এখানে বসে বই পড়া যায় বলে কেউ বাসায় তা নিতে আগ্রহীন। অপরদিকে বিভাগীয় এ গণগ্রন্থাগারের জেনারেটর নষ্ট রয়েছে বহু বছর ধরে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এসে প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান কাম উপ-পরিচালক মিছবাহ্ উদ্দিন এটিকে নষ্ট হিসেবেই দেখতে পান। এরপর থেকে এটি মেরামত করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি আজও। তাই বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছাড়াই দিন রাত পাড় করছে গ্রন্থাগারটি। যে কারণে অসহ্য গরমে পাঠকদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

এছাড়া গণগ্রন্থাগারের সাথে বৈদ্যুতিক ধারণক্ষমতার ওপর চিন্তা রেখে বসানো হয়েছিল দামীয় একটি ট্রান্সফরমার। যেটিও নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে প্রায় চার বছর ধরে। পরবর্তী সময়ে লাইব্রেরি সচল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রান্সফরমার ছাড়াই বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করতে হচ্ছে গণগ্রন্থাগারের। পাশাপাশি পাঠকক্ষ কিংবা পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বুক সর্টার ও ক্যাটালগার পোস্টদুটিও শূন্য রয়েছে এ গ্রন্থাগারে। ফলে সময় লাগলেও পাঠকরা যে যেভাবে পাচ্ছেন কিংবা খুঁজে নিচ্ছেন নিজেদের বই।

ক্যাটালগার না থাকায় ক্যাট্যালগ লকারগুলোও দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে অযতেœ অবহেলায়। গনগ্রন্থাগারের বিভিন্ন সমস্যার বিষয় নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান কাম উপ-পরিচালক মিছবাহ্ উদ্দিন বলেন, এখানে যে ধরনের জনবল প্রয়োজন তার অনেকটাই নেই। যেমন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় লাইব্রেরিয়ান পদটি শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এরপর ১৭টি পদের মধ্যে পাঁচটি শূন্য। তারপরও চেষ্টা করা হচ্ছে, বরিশালের প্রায় সকল-স্কুল কলেজেই লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের আসার জন্য চিঠি দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থী এলেও নিয়মিত সদস্য হতে চায় না কেউ। নিয়মিত সদস্য হলে ফেরতযোগ্য ৫০০ টাকার জামানত দিয়ে কার্ড করতে হয়। তাহলে বাসায় যেমন বই নেয়া যায়, তেমনি তা আবার ফেরত দিতে হয়। হারিয়ে গেলে জামানত থেকে কেটে নেয়া হয়। আর এতেই কারো আগ্রহ নেই।

পাঠকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, লাইব্রেরিতে পাঠের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মনোভাব তৈরি করে দেয়া উচিত শিক্ষকদের। এতো বড় লাইব্রেরি, এত বই বিনামূল্যে সরকার পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে, এগুলোর যথাযথ ব্যবহার পাঠকের পাঠের মধ্য দিয়েই হবে। উপ-পরিচালক মিছবাহ্ উদ্দিন বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে বলেন, বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুত গেলে ফ্যান চলে না লাইট জ্বলে না গ্রন্থাগারে। সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়। তবে ভবনের নকশার কারণে দিনের বেলা ঝড়-বৃষ্টি না হলে পাঠকক্ষে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না।

জেনারেটর সারানোর চেয়ে বড় কথা এটিকে পরিচালনা করা। সেরকম পদ বা লোক লাইব্রেরির নেই। তারপর জেনারেটরের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এদিকে ট্রান্সফরমার তো নষ্ট রয়েছে চার বছর ধরে। এটির বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলা হলেও তারা কোনো মেরামতের পদক্ষেপ না নিয়ে সরাসরি পোস্ট থেকে লাইন টেনে দিয়েছেন। সেই থেকে একইভাবে চলছে গনগ্রন্থাগার।

তিনি আরও বলেন, লাইব্রেরিয়ান পদটির গুরুত্ব অনেক, তবে ক্যাটালগার ছাড়া লাইব্রেরি চলতে চলতে এখন অনেকটাই খাপ খেয়ে গেছে পাঠক। বিভাগীয় গনগ্রন্থাগারে লাইব্রেরিয়ান নেই প্রায় দুই বছর হলো, আর ক্যাটালগার নেই ৫/৬ বছর।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন