শিরোনাম :

তিন উৎসবকে ঘিরে চনমনে ফুল বাজার


রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

তিন উৎসবকে ঘিরে চনমনে ফুল বাজার

বরিশাল প্রতিনিধি: মহান ভাষার মাস ফেব্রুয়ারী।সাথে বসন্তবরণ ও ভ্যালেন্টাইনস ডে উৎসব।ফেব্রুয়ারী মাসের তিন উৎসবকে সামনে রেখে বরিশালের ফুলবাজারের বেচাকেনা বেশ জমে উঠেছে।ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ফুলচাষী, পাইকার ও শ্রমিকরা।চলতি মৌসুমে ফুলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় বেচাকেনাও ভালো হবে বলে আশা করছেন ফুল চাষীরা।

বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী দুই উপজেলায় দীর্ঘদিন থেকে ব্যাপক হারে ফুল চাষ হয়ে আসছে।এ দুই উপজেলার প্রায় পাঁচ’শ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করা হয়েছে।বানারীপাড়ার উদয়কাঠী এলাকার চাষীরা জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় দশ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হবে।স্বরূপকাঠী উপজেলার চাষীরাও এমন লাভের আশা করছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর চিরাপাড়া এলাকায় প্রতিবছর মৌসুমের শুরু থেকেই ফুলের চারার ভাসমান হাট বসে।

শীত ও বর্ষায় উপকূলীয় এলাকাগুলোর হাটবাজারে বেচাকেনা হয় এ হাটের ফুলের চারা।নদীর চিরাপাড়া এলাকা ছাড়াও কচুয়াকাঠী মোহনায় বসে ভাসমান ফুলের চারার হাট।এ হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, নেছারাবাদ উপজেলার অলংকারকাঠী ও সংগীতকাঠীতে রয়েছে দেশি-বিদেশী নানা জাতের ফুলের চারার নার্সারি। সেখান থেকে গাঁদা, গোলাপ, জিনিয়া, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ ২০ থেকে ২৫ জাতের ফুলের চারা সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।তবে বেশি বেচাকেনা হয় ভাসমান হাটে।প্রতি শীত মৌসুমে হাটে কয়েক লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।এদিকে গত বছরের মত এবারও নগরীর ফুল ব্যবসায়ীরা ব্যপক লাভের আশা করছেন।গত বছর রেকর্ড পরিমান টাকা বিক্রি করা হয়েছে। একদিনেই বিক্রয়মূল্যে ১৫ লাখে নিয়ে গেছেন নগরীর ফুল ব্যবসায়ীরা। এবারও রেকর্ড পরিমান টাকার ফুল বিক্রি করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

বরিশাল নগরীর ফুল ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দরা জানান, নগরীতে পেশাদার নয়টি ফুলের দোকান রয়েছে।গতবছর ফুল প্রেমীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিলো।তাই প্রথমবারের মতো এতো ফুল বিক্রি হয়েছিলো।এবারও রেকর্ড পরিমান ফুল বিক্রির আশা করেছেন তারা।সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি ফেব্রুয়ারীর মাসের তিন উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে নগরীর ফুলের দোকানগুলো বাসন্তি, হলুদ গাঁদা এবং ঝারবালাসহ বিভিন্ন ফুলে ভড়ে উঠেছে।উৎসবের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে দামও হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ফুল চারা উৎপাদনকারী শাহীন, সোলায়মান, অচিন্ত কুমার জানান, বছর জুড়ে প্রায় সব নার্সারীতেই দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির উৎপাদিত ফুল চারা বিক্রি করে মুনাফা বেশি হওয়ায় তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।নার্সারীগুলোতেই দেশি-বিদেশী গোলাপ, সূর্যমুখী, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাঁদাসহ ৩০ প্রজাতির ফুলের চারা উৎপাদিত হচ্ছে।উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়।যা থেকে চাষীরা প্রতিবছর প্রায় কোটি টাকা আয় করছেন।অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় ফুলের চারা উৎপাদন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন শত শত নারী-পুরুষ।সরকারের সঠিক পৃষ্টপোষকতা পেলে ফুল চারা উৎপাদনে জড়িত চাষীরা তাদের এ পেশার প্রসরতা বৃদ্ধি করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন।

এসএ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন