শিরোনাম :

শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ‘খুন’ তত্ত্ব!


মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:২৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ‘খুন’ তত্ত্ব!

ডেস্ক প্রতিবেদন: শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রথমত শ্রীদেবীর দেহ স্বামী বনি কপূর উদ্ধার করেছিলেন নাকি হোটেল কর্মীরা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

ভারতে কখন বা কবে ফিরবে শ্রীদেবীর নিথর দেহ? এ নিয়েই ক্রমশ বাড়ছে ধোঁয়াশা। কারণ মৃত্যুর পরে প্রায় তিন দিন কাটতে চললেও এখনও দুবাই থেকে দেহ নিয়ে আসার সরকারি অনুমতি মেলেনি। এরই মধ্যে শ্রীদেবীর মৃত্যু স্বাভাবিক না খুন, সেই প্রশ্ন তুলে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।

দুবাই এবং ভারতের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে সর্বশেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, শ্রীদেবীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার তদন্তভার পড়েছে দুবাইয়ের পাবলিক প্রসিকিউশন বিভাগের উপরে। আপাতত শ্রীদেবীর দেহ দেশে ফেরানোর ছাড়পত্রটি তাদের উপরই নির্ভর করছে। সেখানেই বেড়েছে জটিলতা।

‘খালিজ টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীদেবীর মৃত্যু স্বাভাবিক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে নতুন করে ফের তদন্ত শুরু করতে পারে পাবলিক প্রসিকিউশন বিভাগ। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দুর্ঘটনার ফলে বাথ টাবে ডুবে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সুনিশ্চিত হতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শ্রীদেবীর যাবতীয় মেডিক্যাল রিপোর্টও চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।

ইতিমধ্যেই শ্রীদেবীর মৃত্যু ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রথমত শ্রীদেবীর দেহ স্বামী বনি কপূর উদ্ধার করেছিলেন নাকি হোটেল কর্মীরা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

শুধু তাই নয়, প্রথমে জানা গিয়েছিল দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা নাগাদ হোটেলের বাথরুমে শ্রীদেবীর দেহ উদ্ধার হয়। কিন্তু পুলিশে খবর দেওয়া হয় রাত ন’টা নাগাদ। মাঝের প্রায় তিন-চার ঘণ্টা কী ঘটেছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, শ্রীদেবীর স্বামী বনি কপূরকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেছে দুবাই পুলিশ। যদিও, খালিজ টাইমসে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, জেরা নয়, দুবাই পুলিশ শুধুমাত্র বনির বয়ান রেকর্ড করেছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে কোনও রকম জেরা করা হয়নি।

এ দিকে বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেছেন, শশী তারুরের স্ত্রী সুনন্দা পুস্করের মৃত্যুর মতোই শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়েও তাঁর মনে সন্দেহ রয়েছে। নিজের দাবির স্বপক্ষে বেশ কিছু যুক্তিও দিয়েছেন স্বামী। তাঁর প্রশ্ন, শ্রীদেবী যেখানে ওয়াইন ছাড়া কোনও হার্ড ড্রিংক বা মদ্যপান করতেন না, সেখানে কীভাবে নেশার ঘোরে তিনি বাথ টাবের সামান্য জলে ডুবে গেলেন? তাছাড়া, শ্রীদেবী অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন। সেখানে অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করা তাঁর পক্ষে কি স্বাভাবিক? বিজেপি সাংসদের স্পষ্ট ইঙ্গিত, প্রয়াত অভিনেত্রীকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়ে থাকতে পারে।

শ্রীদেবীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সাংসদ অমর সিংহও দাবি করেছেন, অভিনেত্রী ওয়াইন ছাড়া সেভাবে মদ্যপান করতেন না।

জল্পনার জল অবশ্য এখানেই থেমে নেই। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে শ্রীদেবীর মৃত্যুর সঙ্গে দাউদের ডি কোম্পানির যোগও তুলে ধরা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিককালে ডি কোম্পানির সঙ্গে শ্রীদেবীর স্বামী বনি কপূরের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। ফলে, শ্রীদেবীর মৃত্যুর পিছনে ডি কোম্পানির কোনও হাত আছে কি না, সেই প্রশ্নও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

ফলে যত সময় গড়াচ্ছে, শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে ততই যেন রহস্য দানা বাঁধছে। এই রহস্যের জট না ছাড়ানো পর্যন্ত শ্রীদেবীর কফিনবন্দি দেহ দুবাই থেকে ভারতের বিমানে তোলার ছাড়পত্র পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন