শিরোনাম :

আজ অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন


বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ ২০১৮, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আজ অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন

ডেস্ক প্রতিবেদন: স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চের প্রথম দিন আজ।বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ঘটনা প্রবাহে নানা কারণেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ এই মাস।উত্তাল এই মাসের প্রতিটি দিনই বাঙালি জাতির জন্য অনুপ্রেরণা আর শক্তির উৎস।১৯৭১ সালের এই মাসের ২৫ তারিখে বর্বর পাকবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে গ্রেফতার হওয়ার আগেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

এর আগেই তিনি ৭ মার্চ তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত লাখো বাঙালির সামনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি শাসকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। মরতে যখন শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

৭ মার্চে সাবেক রেসর্কোস ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ওই জনসভায় বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের দৃপ্ত ঘোষণা বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার নতুন সূর্য অর্জনের প্রেরণা জুগিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই ভাষণের প্রতিটি শব্দ ছিল বাঙালির রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রাসের প্রতিটি মুহূর্তের অন্তর্নিহিত শক্তির আধার।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য যে আগুন জ্বলে উঠেছিল, সেই আগুনই যেন ছড়িয়ে পরে বাংলার সব জায়গায়। এরপর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয়দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়ি বেয়ে সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

তা সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে একাত্তরের মার্চ বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে স্বাধীনতার বার্তা, যা বাঙালির মনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ওই ভাষণের পরই।

একাত্তরের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানিরা বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘অপারশেন সার্চলাইট’নামে বাঙালি নিধনে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা নির্বিচারে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে হত্যা করে ছাত্র-শিক্ষককে। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে হত্যা করে শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের।

এর মধ্যে পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রেফতার করে নিয়ে যায় বঙ্গবন্ধুকেও। কিন্তু তার আগেই বঙ্গবন্ধু দিয়ে যান স্বাধীনতার ঘোষণা।

এর পরের ঘটনাপ্রবাহ প্রতিরোধের ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর আহবানে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে বাঙালি। নারী-পুরুষ, আবালবৃদ্ধবনিতা যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। র্দীঘ নয়মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বের বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে জাতি লাভ করে স্বাধীনতা।

এ বছরের মার্চ মাসে জাতি পালন করবে মহান স্বাধীনতার ৪৬ বছর।এ উপলক্ষে মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হবে সভা সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।নানা আয়োজনে মুখরিত থাকবে গোটা দেশ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন