শিরোনাম :

পাবনার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম


বৃহস্পতিবার, ১ মার্চ ২০১৮, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পাবনার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

পাবনা প্রতিনিধি: আর মাত্র দুই মাস, তারপরই বাবা বাড়ি ফিরবেন। দশ মাস হলো বাবা বিদেশ গেছেন, তবে এই প্রতীক্ষা যে আর শেষ হবে না তা এখনো জানেনা বুধবার মালিতে নিহত সেনাসদস্য রায়হানের ৫ বছরের শিশু কণ্যা ইশরাত জাহান।

বুধবার বিকেলে ভিডিও কলে সর্বশেষ কথা হয় রায়হানের সাথে তার স্ত্রী সোহানা খাতুনের। বুধবার রাত দশটার দিকে টেলিভিশনের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে রায়হান নিহত হওয়ার খবর।

বুধবার মালিতে দুষ্কৃতিকারীদের পূতে রাখা মাইন বিষ্ফোরণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত ৪ বাংলাদেশী সেনা সদস্য নিহত হন। নিহতের মধ্যে সেনা বাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ রায়হান পাবনা জেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের সোমাসনারী গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম প্রামানিকের ছেলে।

নিহত রায়হানের মামাতে ভাই আল আতিক হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত রায়হান দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। বড় মেয়ের বয়স ৮ বছর ও ছোট মেয়ের বয়স ২ বছর। বড় মেয়ে স্কুলছাত্রী। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে রায়হান সবার বড়। ছোট ভাই কুয়েত প্রবাসী। তিনি আরো জানান, বুধবার বিকালে রায়হান তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা বলেন। ভোরে তার মৃত্যুর খবর আসে।

 

রায়হান মালিতে গেছেন মাত্র ১৫ মাস। আগামী মাসেই তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সে আসছে, তবে জীবিত নয়, মৃত অবস্থায়। তার লাশ গ্রহণ করতে হবে পরিবারকে বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই গ্রামে রায়হানের বাড়িতে গেলে দেখা যায় এলাকাবাসীর ভীর আর স্বজনদের আহাজারী। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের।

রায়হানের বাবা মোসলেম প্রামানিক বাড়ির উঠোনে বসে আছেন রায়হানের অবুঝ দুই শিশুকে নিয়ে। স্থানীয়দের কোন শান্তনাতেই কমছে না তার শোক। এদিকে বারবার চোখ মুছে যাচ্ছেন স্ত্রী শোহানা ও মা রহিমা বেগম।

নিহত রায়হানের ছোট বোন আঁখি খাতুন জানান, দরিদ্র পরিবারের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তার ভাই। শান্তিরক্ষা মিশনের আয়ে বদলে যাবে পরিবারে অসচ্ছল দূর্বলতা আর দূর্দশা, এমন স্বপ্ন নিয়েই ভাই মিশনে যায়। কিন্তু আকশ্মিক এই ঘটনায় আমাদের পরিবারের সবাই হতবিহ্বল। অবুঝ দুই শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত সবাই।

প্রসঙ্গত, বুধবার মালির মোপ্তি এলাকার বনি ও দোয়েনতোজা শহরের সংযোগ সড়ক দিয়ে শান্তি রক্ষীরা গাড়িতে করে যাওয়ার পথে বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটে। রাস্তায় পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে চার বাংলাদেশি সেনা সদস্য নিহত হন এবং আহত হন অপর চার বাংলাদেশি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন