শিরোনাম :

বাংলার নবাবদের রেখে যাওয়া চকবাজার ইফতারি


বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বাংলার নবাবদের রেখে যাওয়া চকবাজার ইফতারি

মিজানুর রহমান ভূঁইয়া: বাংলার নবাবদের ভোজন রসিকতার কথা সবানই জানা। ইতিহাসে বাহারি রকম খাবারের পদে মোঘলি স্বাদের কথা পাওয়া যায়।

প্রচলিত আছে, ১৭০২ সালে ঢাকার দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খাঁ চকবাজারের আধুনিকায়ন করেন। তারপর থেকেই রমজান মাসে চকবাজারে বসে নবাবি নানা পদের পসরা। রমজান মাসে চকবাজার জমে উঠে একটু ভিন্নরূপে, ভিন্ন স্বাদে। তৈরি হয় মুখরোচক হরেক রকম ইফতারি।

শরবত দিয়ে ইফতারের শুরুটাই হয়। চকবাজারে নানান রকম শরবত পাওয়া যায়। কাজুবাদামের শরবত এর মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। কাজুবাদামের শরবতের কেজি পড়বে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। আরো পাওয়া যাবে আম, তরমুজের শরবত।

চকবাজারের ইফতারি বিক্রেতা আসাদ ক্রেতাদের ডাক দিচ্ছেন ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গা ভইরা লইয়া যায়।” ৪০০টাকা কেজি দরে ৩৬ রকমের পদ দিয়ে তৈরি বড় বাপের পোলায় খায়’ এর দিকেই চাহিদা বেশি ক্রেতাদের।

হাজার হাজার মানুষ ঐতিহ্যবাহী এসব ইফতার কিনতে ভিড় জমান চকবাজারে। আস্ত মুরগির রোস্ট, আস্ত কবুতরের রোস্ট, সুতি কাবাব, জালি কাবাব- কী নেই চকবাজারে! নবাবি ধাঁচে ইফতার করতে চাইলে চকবাজারের ইফতারের যেন কোনো বিকল্প নেই।

আর মিষ্টি জাতীয় খাবারের মধ্যে শাহি জিলাপীরতো তুলনাই হয় না। দোকানিরাও যেন ভেজে শেষ করতে পাচ্ছেন না শাহী জিলাপী। কেজি ৩০০ টাকা থেকে থেকে ৪০০টাকা। আর আস্ত মুরগির রোস্ট নিতে দাম পড়বে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা।

খাসির লেগ রোস্টের দোকানগুলোর সামনে ভিড় কিন্তু থাকে চোখে পড়ার মতো। মুখরোচক এই খাবারটি কিনতে গুনতে হবে কেজিতে অন্তত ৪০০ টাকা।

উত্তরার থেকে আসা পলাশ বলেন, আসলে বাচ্চাদের কছে বড় বাপের পোলায় খায় বিষয়টি খুবই মজার। তারা খেয়ে না যতো খুশি হয়, তার থেকে বেশি ইফতারে এই পদটি থাকলে দেখেই খুশি হয়। তাই কিনতে আসা আরকি।

এভাবেই গত প্রায় চারশ বছর ধরে ইফতারের নবাবি ঐতিহ্য ধারণ করে চলেছে চকবাজার। মানুষ এই ইফতারের স্বাদে যেমন তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন, তেমনি ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে পান নবাবি স্বাদ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন